পাহাড়, সমুদ্র বরাবরই টানে পর্যটকদের। সাগরের বিশালতার কাছে গেলেই প্রকৃতি সকলকে আপন করে নেয়। তাই বিশ্বের বৃহত্তম সৈকত কক্সবাজারের গুরুত্ব অনেক বেশি। কক্সবাজার জেলা শহর থেকে ১২০ কিলোমিটার দূরত্বে রয়েছে সাগরবক্ষের ক্ষুদ্রাকৃতির নয়নাভিরাম প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন। যা বিশ্বের অন্যতম সুন্দর প্রবালদ্বীপ হিসেবে পরিচিত। ফলে পর্যটকদের কাছে কক্সবাজার ও সেন্টমার্টিনের গুরুত্ব বরাবরই ব্যাপক। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি বাংলাদেশ পর্যটন শিল্প থেকে এতদিন পিছিয়ে থাকলেও যুগান্তকারী কিছু উদ্যোগের কারণে পর্যটনের সম্ভাবনাগুলো দিন দিন ডানা মেলতে শুরু করেছে। সম্প্রতি বিশিষ্ট উদ্যোক্তা প্রকৌশলী এম এ রশিদ, যিনি কর্ণফুলী শিপ বিল্ডার্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, তিনি কক্সবাজার থেকে সরাসরি সেন্টমার্টিন সমুদ্রভ্রমণে বিলাসবহুল জাহাজের যাত্রার মাধ্যমে পর্যটন শিল্পে নতুন দিগন্তের সূচনা করেছেন। তাঁর সফল উদ্যোগে পর্যটকরা এখন থেকে এম ভি কর্ণফুলী এক্সপ্রেস নামের বিলাসবহুল জাহাজে কক্সবাজার শহর থেকে সরাসরি সেন্টমার্টিন ভ্রমণ করতে পারবেন। বিলাসবহুল এই জাহাজটি সম্প্রতি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেছেন নৌ- পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব এম এ সামাদ সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ। কক্সবাজার শহরের বিমানবন্দর সড়কের বিআইডব্লিউটিএ ঘাটে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সমুদ্রপথে কক্সবাজার থেকে সরাসরি সেন্টমার্টিন পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচলের দাবি দীর্ঘদিনের। অবশেষে এই দাবি পূরণের মাধ্যমে পর্যটকরা কক্সবাজার শহর থেকেই প্রথমবারের মতো সেন্টমার্টিন যাতায়াতের সুযোগ পাচ্ছেন। জাহাজটি প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৭টায় কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে রওনা দেবে এবং বিকেল সাড়ে ৩টায় ফিরবে। ভ্রমণপিপাসু মানুষের আরামদায়ক ভ্রমণে নতুন সংযোজন এই লিজেন্ডারি নৌযান। ইঞ্জিনিয়ার এম এ রশিদ জানান, এমভি কর্ণফুলী এক্সপ্রেসকে নিজস্ব ডকইয়ার্ডে একটি অত্যাধুনিক বিলাসবহুল জাহাজ হিসেবে প্রস্তুত করা হয়েছে। পুরোপুরি প্রস্তুত নৌযানটি সার্ভিসে যাওয়ার আগে সি ট্রায়ালের অংশ হিসেবে কর্ণফুলী নদী থেকে পতেঙ্গার সমুদ্র মোহনা পর্যন্ত ট্রায়াল সম্পন্ন করে। প্রায় ৫৫ মিটার দৈর্ঘ্যের ও ১১ মিটার প্রশস্ত এই নৌযানে মেইন প্রপালেশন হলো ইঞ্জিন দুটি। আমেরিকার বিখ্যাত কামিন্স ব্র্যান্ডের এই ইঞ্জিনের একেকটির ক্ষমতা প্রায় ৬০০ বিএইচপি। জাহাজটি ঘণ্টায় প্রায় ১২ নটিক্যাল মাইল গতিতে ছুটতে পারে। ১৭টি ভিআইপি কেবিন সমৃদ্ধ এটি। নৌযানটিতে তিন ক্যাটাগরির প্রায় ৫০০ আসন রয়েছে। রয়েছে কনফারেন্স রুম, ডাইনিং স্পেস, সি ভিউ ব্যালকনি সহ আধুনিক বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা। ১৮ ফেব্রুয়ারি ভালোবাসা দিবসে এম ভি কর্ণফুলী এক্সপ্রেসে করে প্রিয়জনদের নিয়ে ঘুরে আসতে পারেন সেন্টমার্টিন। যোগাযোগ :০২-৫৮৩১৭০৬১, ০১৭৭১-৫৭৫৪৮৯ নম্বরে।
