সাদুল্লাপুরের দুটি গ্রাম পুরুষশূন্য, নিরাপরাধ মানুষকে গ্রেফতারের অভিযোগ

আপডেট : ২৩ ডিসেম্বর ২০১৮, ২২:০১

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে একটি সড়ক দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে থানা পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় পুলিশ বাদী মামলায় ১৩৬ জনের নাম উল্লেখপূর্বক অজ্ঞাতনামা ১৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার বাদী হয়েছেন এস.আই. আনোয়ার হোসেন।

ঘটনার পর আসামি গ্রেফতারের জন্য পুলিশ ঘটনাস্থল উপজেলার তরফবাজী ও পার্শ্ববর্তী হামিন্দপুর গ্রামসহ আশপাশ এলাকায় দফায় দফায় অভিযান অব্যাহত রাখায় এই দুটি গ্রাম পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে। গ্রেফতার আতষ্কে ঘটনাস্থল উপজেলার তরফবাজিত নলডাঙ্গা মোড় এলাকার সব দোকানপাট বন্ধ রেখে পালিয়ে বেড়াচ্ছে ব্যবসায়ীরা। এছাড়া এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাদুল্লাপুর উপজেলা শহরে বিরাজ করছে থমথমে অবস্থা। 

এদিকে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত না থাকলেও পুলিশ নিরাপরাধ সাধারণ মানুষকে গ্রেফতার করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

গতকাল রবিবার পর্যন্ত এই মামলায় পুলিশ উপজেলা জাতীয় পার্টির (এ) সাধারণ সম্পাদক সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান রেজাউল করিম রেজা, উপজেলা বনিক সমিতির চেয়ারম্যান শফিউল ইসলাম স্বপন ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি এশরাফুল কবীর আরিফসহ ১৪ জনকে আটক করে জেল-হাজতে পাঠায়েছে।  

গতকাল রবিবার সরেজমিন উপজেলার তরফবাজিত ও পার্শ্ববর্তী হামিন্দপুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায় কোনো বাড়িতে পুরুষ মানুষ নাই। এমনকি কোন বাড়ি-ঘর তালা দিয়ে পরিবারের সবাই গ্রেফতার আতঙ্কে অন্যত্র আত্মীয়স্বজনদের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে।

তরফবাজিতে গ্রামের মোছাঃ রুলিয়া বেগম রবিবার অভিযোগ করে বলেন, ‘রাতে-দিনে পুলিশ বারবার বাড়িতে আসছে। বাড়িতে কোনো পুরুষ না থাকায় দরোজা-জানালা, লাইট, ঘরের বেড়া ভাংচুর করছে। বাড়িতে থাকা নারীদের গালিগালাজ করছে পুলিশ।’

একই গ্রামের একই গ্রামের আয়েশা বেগম জানান, 'পুলিশ গতকাল রাতে বাড়িতে কোনো পুরুষ মানুষ না পেয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেছে।'

গৃহিনী আফরোজা বানু জানান, 'পুলিশ রাতে এসে ডাকাডাকি করে। বাড়ির গেট খুলতে দেরি হলে কুপিয়ে গেট ভাঙ্গার চেষ্টা করে।'

নলডাঙ্গা মোড়ের ব্যবসায়ী রাজু মিয়া অভিযোগ করে জানান, 'পুলিশের অভিযানের কারণে দোকান বন্ধ রাখতে হয়েছে। গ্রেফতার ভয়ে বাড়িতেও থাকতে পারছেন না তারা। এ অবস্থা চলতে থাকলে তাদের ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।'

এদিকে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত না থাকলেও উপজেলা বণিক সমিতির সভাপতি শফিউল ইসলাম স্বপনসহ বেশ কয়েকজন নিরাপরাধ সাধারণ মানুষকে গ্রেফতারের কারণে পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে।

সাদুল্লাপুর শহরের বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, 'ঘটনার সময়ও শফিউল ইসলাম স্বপন বাজারের নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ছিলেন। তাকে যখন পুলিশ আটক করে, তখনও তিনি তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের একটি বিষয়ে শালিস বৈঠক করছিলেন। তারপরও তাকে আটক করেছে পুলিশ।'

তারা আরো জানান, 'বেশ কয়েকজন জনপ্রতিনিধি, উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতৃস্থানীয় কয়েকজন নেতাসহ বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠানের সংগঠকরা তাকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য পুলিশের নিকট সুপারিশ করলেও তাকে জেল হাজতে পাঠানো হয়।'

জেলা জাতীয় পার্টির জেপির আহ্বায়ক ফজলে করিম পল্লব জানান, 'এ ঘটনায় সম্পৃক্ত না থাকলেও উপজেলার সমিতির বাজারের নুরুল হকের ছেলে মঞ্জু ও মন্টু মিয়ার ছেলে মতিয়ারকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে।'

উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার আব্দুর রশিদ আজমী জানান, 'এ ঘটনায় জড়িত না থাকলেও উপজেলার বুজরুক পাটানোছা গ্রামের নীল মিয়ার ছেলে মেহেদুলকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে।'

সাদুল্লাপুর থানার ওসি আরশেদুল হক আসামি গ্রেফতারের নামে বাড়ি ভাঙচুর ও নারীদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন জানান, 'গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত আছে। তবে কোনো নিরাপরাধ সাধারণ মানুষ যাতে হয়রানীর শিকার না হয়, পুলিশ সে ব্যাপারে সজাগ রয়েছে।'

প্রসঙ্গতঃ শুক্রবার সন্ধ্যায় উপজেলার জামালপুর ইউপি চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান মন্ডল প্রাইভেট কারযোগে সাদুল্লাপুর শহর থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে নলডাঙ্গা মোড়ে এক বৃদ্ধাকে ধাক্কা দেয়। এতে ওই বৃদ্ধা গুরুতর আহত হন। এ ঘটনায় স্থানীয় লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে চেয়ারম্যান নুরুজ্জামানকে মন্ডলের উপর হামলা ও তার কার গাড়িটি ভাংচুরের চেষ্টা করে।

আরও পড়ুনঃ পীরগঞ্জে দুই প্রার্থীর কর্মীদের সংঘর্ষ, ২৫ জনের বিরুদ্ধে

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে গাড়িটি ও চেয়ারম্যানকে উদ্ধারের চেষ্টা এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। কিন্তু স্থানীয় লোকজন আরো উত্তেজিত হয়ে পুলিশের ওপর হামলা করে। আহত হন দুই পুলিশ সদস্য।

ইত্তেফাক/নূহু