—রিয়াজ আহম্মেদ বাবু, প্রতিষ্ঠাতা, ব্যাগপেকার্স
হলুদ আর কালোরঙা ব্যাগপ্যাকার্সের যাত্রা শুরুর মাধ্যম স্মার্ট প্রেজেন্টেশন। অভিজাত এলাকার চকচকে বিলাসবহুল কোনো ভবনে নয়, বরং গলির মোড়ের ছোট্ট দোকানেই শৈল্পিক ভাবনার প্রতিফলন ঘটিয়ে জায়গা করে নিয়েছে ব্যাগপ্রেমীদের হূদয়ে। তাই জীবন যাপনের প্রয়োজনীয় এই অনুষঙ্গের জন্য এখন এক আকর্ষণের নাম ‘ব্যাগপ্যাকার্স’। চোখে স্বপ্ন আর বুকে মমতা জমিয়ে ধীরে ধীরে ব্যাগের ছোট্ট দোকানটিকেই সফল ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন এক স্বাপ্নিক মানুষ। তিনি তরুণ উদ্যোক্তা রিয়াজ আহমেদ বাবু। ব্যাগপাকার্সের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক।
সৃজনশীল ভাবনা আর অদম্য কৌশলকে সঙ্গী করে প্রকৃতি পাঠকেই গুরুত্ব দিয়ে এগিয়েছেন। পথে যেতে যেতে বাধার আঘাতে ছিটকে পড়েছেন, আবার উঠে দাঁড়িয়েছেন। শিখছেন প্রতি পদে পদে। সমাজে প্রচলিত ‘ডিগ্রিধারী শিক্ষিতরাই সফল হয়’— ধারণাকে এভাবেই ভেঙ্গে চুরমার করে দৃষ্টান্ত হয়েছেন আরো দশজনের।
রিয়াজ আহম্মেদ বাবুর ভাষ্য, ‘প্রতিভাবান হতে চাইনি, জাদুকর হতে চেয়েছি। প্রতিভাবানেরা তো কঠোর শ্রম দিয়ে নিজের পথের অবস্থান জানিয়ে দেন। সেই পথে চাইলে কঠোর শ্রম দিয়ে পৌঁছানোও সম্ভব। কিন্তু জাদুকরদের ভাবনা শুধু ভাবিয়েই তুলে। বোঝার উপায় নেই বিন্দুমাত্র। এমন জাদুকরেরা রয়েছেন আমার অনুপ্রেরণায়। তাই আমার ব্যবসায়িক গুরু স্টিভ জবস।’
তিনি বলেন, ‘প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার ছকবাঁধা কোনো নির্দিষ্ট লক্ষ্য না থাকায় আমি ছিলাম উন্মুক্ত। আর আমার উন্মুক্ত ভাবনার বহিঃপ্রকাশই ‘ব্যাগপ্যাকার্স’।
ব্যাগপ্যাকার্সের ব্যবসায়িক যাত্রা শুরু ২০১০ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি ভালোবাসা দিবসে। রাজধানীর মোহাম্মদপুরের জাকির হোসেন রোডের দোকানটি পাঁচ লাখ টাকা পুঁজি নিয়ে শুরু করা। সেই স্বাপ্নিক যাত্রায় আজ যোগ হয়েছে অর্ধশতাধিক পরিবেশক প্রতিষ্ঠান। প্রায় এক যুগ হতে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটির বয়স। এখন অনলাইনেও রয়েছে। তবে শুরুর সময়কার সেই অফলাইনের ব্যাগপ্যাকার্সের ব্র্যান্ডিং কৌশলকেই প্রতিষ্ঠানটির সফলতার ভিত্তি বলে মনে করেন তিনি। বলেন, ‘সেই সময়টায় নানা ধরনের নিরীক্ষা করেছি। অফলাইনে থাকতে হলে প্রথমেই প্রডাক্ট ভালো হতে হবে। আমরা প্রডাক্টের মান ও দামের প্রতি নজর রেখেছি। যা কিছুই ক্রেতাকে দিতে চেষ্টা করেছি সবসময় সেটি স্মার্টলি প্রেজেন্ট করেছি। তখন খুব কম প্রতিষ্ঠানই প্রডাক্ট উপস্থাপনায় গুরুত্ব দিত। প্রযুক্তিকে তখন থেকেই নানা মাধ্যমে উপস্থাপন করতে থাকি মার্কেটিংয়ের কাজে’।
এরপরই ২০১৬ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় ডিলারদের সাথে ব্যবসা। এখন দেশজুড়ে ডিলার পয়েন্ট আছে। সময়োপযোগী ভাবনাকেই সাফল্যের সূত্র মনে করেন এই তরুণ কারিগর। ক্রিয়েটিভ ভাবনায় ব্যাগপ্যাকার্সের পাশে পেয়েছেন ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর মনাজ হককে। এখনকার তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য পরামর্শ হিসেবে তিনি বলেন, ‘এ প্রজন্মের চোখ অনেক ম্যাচিওর। ব্যবসার হটসিটে একবার বসে গেলে বাকি কিছু নিয়ে চিন্তা করা মানেই পিছিয়ে পড়া। তাই যে কোনো একটায় মনোযোগী হতে হবে।
আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি ১১ বছরে পা দিচ্ছে ব্যাগপ্যাকার্স । সংগ্রামী জীবনপথে প্রতিনিয়তই সৃজনশীল ভাবনার প্রতিফলন ঘটিয়ে আরো বহুদূর পাড়ি দিতে চান এই তরুণ উদ্যোক্তা।
