নিরাপত্তা ও সেবায় নিয়োজিত ওরা

আপডেট : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৯:২১

  মীর আনোয়ার হোসেন টুটুল

 

শামীমা আক্তার, মর্জিনা আক্তার ও ডলি আক্তারসহ ওরা ৫১ জন নারী পুলিশ কর্মকর্তা (এসআই) প্রশিক্ষণ শেষে দেশের ও জনগণের সেবা এবং নিরাপত্তার দায়িত্ব নিয়েছেন। দেশের বিভিন্ন জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে এসব নারী পুলিশ কর্মকর্তাদের বাড়ি। নারীর ক্ষমতায়ন, নারীর সুরক্ষা, নারী শিক্ষাবান্ধব সমাজ গঠনসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে তারা পুরুষদের সঙ্গে সমান তালে কাজ করে যাবেন বলে দৃঢ় প্রত্যয়ের কথা জানিয়েছেন। দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা ও নিরাপত্তার জন্য সরকার আমাদের জনগণের ও দেশের সেবা করার সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছেন। এই সুযোগকে আমরা হাত ছাড়া করতে চাই না। জনগণের মধ্যে পুলিশ বাহিনীর আস্থা অর্জনের জন্য সর্বদা কাজ করে যাবেন বলে এই ৫১ জন নারী পুলিশ কর্মকর্তা অঙ্গীকার করেছেন।

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার মহেড়া পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারের যিনি ডেপুটি কমান্ডার তিনিও একজন নারী। নাম শামীমা বেগম পিপিএম। পুলিশ বাহিনী বিসিএস ক্যাডারে যোগদানের পর তিনি দেশে ও বিদেশে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। দায়িত্ব পালন করছেন গুরুত্বপূর্ণ পদে। পিটিসিতে যিনি অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের দায়িত্ব পালন করছেন তিনিও একজন নারী। নাম কাজী নুসরাত। পুলিশ বাহিনীতে যোগদানের পর বিভিন্ন জেলায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। পিটিসির মূল দায়িত্বে নিয়োজিত ডিআইজি মো. মইনুল ইসলাম পিপিএমের সহযোগী হিসেবে দুই নারী পুলিশ কর্মকর্তা দক্ষভাবে পরিচালনা করছেন মহেড়া পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার।

ডেপুটি কমান্ডার শামীমা বেগম পিপিএম ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী নুসরাত জানান, ১৯৭২ সালে মহেড়া পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার প্রতিষ্ঠার পর থেকে দক্ষতার সঙ্গে পুলিশ সদস্যদের প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছেন। নারী পুলিশ সদস্যদের জন্য রয়েছে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা। কনস্টেবল, এএসআই, এসআই (ওসি তদন্ত), ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। নারী বলে কোনো পুলিশ সদস্যকে অবহেলার কোনো সুযোগ নেই।

সম্প্রতি মহেড়া পিটিসিতে ১ হাজার ৪৬১ জন পুলিশ কর্মকর্তা ও ৫১ জন নারী পুলিশ কর্মকর্তার সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পিটিসির ডিআইজি মো. মইনুল ইসলাম পিপিএম। প্রধান অতিথি অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত হলে প্রশিক্ষণার্থী সহকারী পুলিশ পরিদর্শকরা তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করেন।

ডিআইজি মো. মইনুল ইসলাম পিপিএম পুলিশ বাহিনীর প্রতিটি সদস্য আইন ও শৃঙ্খলার মধ্যে আবদ্ধ। পুলিশ জনগণের বন্ধু, রক্ষক, সেবক  ও জানমালের নিরাপত্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তিনি বলেন, তোমাদের ওপর সরকার যে অর্পিত দায়িত্ব দিয়েছেন তা সম্মানের সহিত পালন করতে হবে। প্রতিটি মামলার সুষ্ঠু তদন্ত করে সরকার, আদালত ও জনগণের মধ্যে আস্থা অর্জন করতে হবে। তিনি বলেন, ‘মুজিববর্ষের অঙ্গীকার, পুলিশ হবে জনতার’ এই স্লোগান আমাদের ন্যায়-নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে বাস্তবায়ন করতে হবে। এছাড়া বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে এবং প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার রূপকল্প ২০২০-২০২১ এবং ২০২১ থেকে ২০৪১ বাস্তবায়নের জন্য প্রতিটি পুলিশ সদস্যকে কাজ করতে হবে।