আমাদের লড়াই শুরু হলো —আকবর আলী

আপডেট : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২১:৩৫

তিনি এখন বিশ্বজয়ী অধিনায়ক। দলের ট্রফি জয়, উল্লাস শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু ব্যস্ত সময় পার করতে হচ্ছে তাকে। আইসিসির বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতা, ফটোসেশন আছে; এর মাঝেই দেশ-বিদেশের পত্রিকায় সাক্ষাত্কার দিতে হচ্ছে। এই ব্যস্ততার মধ্যেও একটু বিস্তারিত সাক্ষাত্কারে বিশ্বকাপ জয়ের নানাদিক এবং ভবিষ্যত্ নিয়ে কথা বললেন যুব দলের অধিনায়ক আকবর আলী—সাক্ষাত্কার নিয়েছেন দেবব্রত মুখোপাধ্যায়

ট্রফির জয়ের পর প্রায় দুদিন পার হলো। এখন পেছন ফিরে কী মনে হচ্ছে, এটা কত বড়ো অর্জন ছিল?

নিশ্চয়ই অনেক বড়ো অর্জন। আমরা কোনো পর্যায়েই আগে কোনো বিশ্বকাপ জিতিনি। ফলে এটা বড়ো অর্জন। তবে আমি আগের মতোই বলি, বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য এটা একটা শুরু। আমি আশা করি, বাংলাদেশ সামনের দিনগুলোতে এরকম আরো অনেক ট্রফি জিতবে। আমরা সেটার শুরু করলাম মাত্র।

বিশ্বকাপ জয়ের এই যাত্রাটা কেমন ছিল?

এই টুর্নামেন্ট তো অসাধারণ একটা অভিজ্ঞতা ছিল। তবে আমাদের জার্নিটা শুধু এই এক মাসের ছিল না। গত দেড় বছর ধরে আমরা প্রস্তুতি নিয়েছি। এখানে বোর্ডের অসাধারণ একটা ভূমিকা ছিল। তারা এই দেড় বছরে আমাদের অনেক (৩০টি) আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার সুযোগ করে দিয়েছেন। আমরা এই সময়ে দেশের বাইরে অনেকগুলো সিরিজ খেলেছি। দলে খুব একটা বদল হয়নি এই সময়ে। ফলে আমরা একটা ফ্যামিলি হয়ে উঠেছিলাম। আর এই সবকিছুর সুফল পেয়েছি আমরা দক্ষিণ আফ্রিকায় এসে।   

ফাইনালের কথা একটু বলা যাক। আপনি যখন উইকেটে গেলেন, তখন ব্যাটিং ধস হয়েছে। ঐ সময় পরিকল্পনাটা কি ছিল?

আমার পরিকল্পনা খুব সিম্পল ছিল—যেভাবেই হোক, উইকেটে থাকতে হবে এবং শান্ত থাকবে হবে। অনেক বল ছিল। ফলে তাড়াহুড়ো করার কোনো দরকার ছিল না। আমাদের দরকার ছিল একটা জুটি। খুব ভালো ব্যাপার ছিল যে, ইমন (পারভেজ হোসেন) পায়ে প্রচন্ড ব্যথা নিয়েও আবার ব্যাট করতে নেমেছিল। ওর জন্য কাজটা খুব কঠিন ছিল। আমরা প্ল্যান করছিলাম, যতটা সম্ভব সরল রাখতে হবে ব্যাপারটা।

আপনার ঐ সময়ের শান্ত থাকা নিয়ে অনেক আলোচনা হচ্ছে। বলা হচ্ছে, যে কোনো পর্যায়ের ক্রিকেটেই এরকম মাথা ঠান্ডা রাখা খুব কঠিন। আপনি কি এমন শান্ত মানুষ?

বলতে পারেন। আমি মানুষ হিসেবে খুব একটা উত্তেজিত হই না সহজে। আর ঐ সময় আমার মনে হয়েছে, মাথা ঠান্ডা রাখা সহজ ছিল আমার জন্য। কারণ, ঐ সময় আমাদের হাতে অনেক বল ছিল। ফলে একটা চাপ এমনিতেই কম ছিল।

আপনার এই শান্ত মাথায় শেষ করে আসা দেখে আপনাকে অনেকে ধোনির সঙ্গে...

এটা বাড়াবাড়ি। খুব বাড়াবাড়ি কথা। ধোনির সঙ্গে তুলনার কী আছে!

আপনি কি ধোনি বা এরকম উইকেটরক্ষক কাউকে অনুসরণ করেন?

ঠিক অনুসরণ কাউকে করি না। আমি আসলে আমার মতোই থাকতে চাই। তবে ভালো লাগে এবি ডি ভিলিয়ার্সকে।

আবার একটু দলীয় প্রসঙ্গে আসা যাক। এখন আপনাদের তো মূল ক্রিকেট জীবন শুরু হবে বলা যায়?

তা বলতে পারেন। আমি বলি যে, আমাদের লড়াই শুরু এখন। আমি বলছি না যে, সবাইকে জাতীয় দল লক্ষ্য করেই খেলতে হবে। সেটা না করাই ভালো। কোনো চাপ নেওয়ার দরকার নেই। এখন যার সামনে যে খেলা আসবে, সেটাকে এই রকম সিরিয়াসলি খেলতে হবে। আমাদের অনেকের সামনে যেমন এখন ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ আছে। ওটা নিয়ে ভাবতে হবে। ভালো খেললে পরের ধাপ এমনিই সামনে চলে আসবে।

আপনাদের আগের কয়েকটা যুব দল থেকে কয়েক জনকে সিনিয়র দলের জন্য উপযুক্ত মনে করা হয়েছিল। কিন্তু তারা সেভাবে জ্বলে উঠতে পারেননি। বিসিবি সভাপতি নিজেই বলেছেন, আপনাদের এই দলটার খেলোয়াড়দের নিয়ে তাদের আলাদা পরিকল্পনা আছে। আপনি জানেন, সেটা কি?

নাহ। আমার সঙ্গে কথা হয়নি। ওনারা যেটা করবেন, আমাদের ভালোর জন্যই নিশ্চয়ই করবেন।

আপনি কি মনে করেন, যুব দলের খেলোয়াড়দের পরিচর্যাটা কেমন হওয়া উচিত?

আমাদের তো একটা সেট আপ আছেই। এইচপি বা এরকম কার্যক্রম আছে। আর এ ব্যাপারে ম্যানেজমেন্ট যেভাবে ভাববেন, সেটাই ঠিক আছে।