বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে দিল্লিতে ফের কেজরিওয়াল

আপডেট : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২২:২৪

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে রাজ্য বিধানসভার নির্বাচনে আম আদমি পার্টি বা ‘আপ’ বিপুল ব্যবধানে বিজেপিকে হারিয়ে আবার ক্ষমতায় ফিরেছে। মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের নেতৃত্বে আপ দিল্লি বিধানসভার ৭০টি আসনের মধ্যে ৬২টিতেই জিতেছে। অন্যদিকে বিজেপির আসন গতবারের চেয়ে ৫টি বেড়েছে। খবর বিবিসি ও এনডিটিভির

গতকাল ঘোষিত ফলাফলে দেখা যায়, বিজেপি আটটি আসন পেয়েছে। কংগ্রেস কোনো আসনই পায়নি। জয়ের পর মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল বলেছেন, এই জয় মানুষের জয়। কাজে বিশ্বাস রেখে ভোট দিয়েছেন সবাই। নতুন রাজনৈতিক যুগের সূচনা করেছেন। দিল্লিবাসীকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তৃতীয়বার আম আদমি পার্টির ওপর ভরসা রাখায় দিল্লিবাসীকে ধন্যবাদ। যারা আমাকে নিজের ছেলে বলে মনে করেন, যারা আমাদের ভোট দিয়েছেন, আজকের এই জয় তাদের।’

পর্যবেক্ষকেরা বলেছেন, দিল্লিতে এবারের নির্বাচনকে বিজেপি যেভাবে সাম্প্রদায়িক মেরুকরণের দিকে ঠেলে দিতে চেয়েছিল, সেই চেষ্টা সফল হয়নি। শহরের ভোটাররা শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিদ্যুত্ বা উন্নয়নের কর্মসূচিকেই শেষ পর্যন্ত বেছে নিয়েছেন। কিন্তু কেন দিল্লিতে বিজেপির এই ভরাডুবি? আপের এই বিপুল সাফল্য ভারতের রাজনীতিতেই বা কী তাত্পর্য বহন করছে?

বস্তুত, মাত্র আট-নয় মাস আগের লোকসভা নির্বাচনে দিল্লির সাতটি আসনের মধ্যে সাতটিই গিয়েছিল বিজেপির দখলে। ফলে এই বিধানসভা নির্বাচনে আম আদমি পার্টি যে প্রায় ৯০ শতাংশ জিতে নেবে, তা দলীয় সমর্থকেরাও অনেকে আশা করতে পারেননি। বস্তুত মহল্লা ক্লিনিক চালু করে, সরকারি স্কুলগুলোর ভোল পালটে দিয়ে এবং মেয়েদের বিনা পয়সায় বাসে যাতায়াতের ব্যবস্থা করে কেজরিওয়ালের সরকার যে দিল্লির মানুষের মনে ছাপ ফেলতে পেরেছেন, সেটা গতকালের নির্বাচনী ফালাফলেই স্পষ্ট।

দিল্লির শাহিনবাগে নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে মুসলিম নারীদের প্রতিবাদ এবার দিল্লির নির্বাচনে একটা বড়ো ইস্যু হয়ে উঠেছিল। রাস্তা আটকে শাহিনবাগ দিল্লিবাসীকে যে অসুবিধায় ফেলছে, সেটাকে কাজে লাগিয়ে হিন্দু-মুসলিম বিভাজনের অজস্র চেষ্টাও করেছিলেন যোগী আদিত্যনাথসহ বিজেপির শীর্ষ নেতারা। শাহীনবাগ যে ওখলা কেন্দ্রে অবস্থিত, সেখানে থেকে রেকর্ড ব্যবধানে জেতা আপের আমানাতুল্লা খান বলেছেন, এই ঘৃণা ছড়ানোর চেষ্টা আজ হেরে গেছে, জিতেছে উন্নয়ন। এটা তো বুঝতেই পারছেন, ওখলার হিন্দু ভাইয়েরাও আমাকে ভোট না দিলে আমি এত বড়ো মার্জিনে জিততেই পারতাম না।

বিজেপির মুখপাত্র বিবেক রেড্ডি অবশ্য মনে করেন, স্থানীয় পর্যায়ে কেজরিওয়ালের জুত্সই কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী তুলে না ধরতে পারা এবং তার সরকারের বিনা পয়সায় পানি-বিদ্যুত্ বণ্টনের রাজনীতিই বিজেপির পরাজয়ের কারণ। আর সাম্প্রদায়িক রাজনীতি করার অভিযোগ খণ্ডন করে তার যুক্তি, শাহিনবাগে যেভাবে ভারত ভাঙার কথা বলা হচ্ছিল, তার প্রতিবাদ আমাদের করতেই হতো।

শিবসেনার নেত্রী প্রিয়াঙ্কা চতুর্বেদী আবার মনে করছেন, দিল্লির নির্বাচন এটাই প্রমাণ করে দিল, বিজেপির চেয়ে ভালো বিকল্প থাকলে মানুষ তাকে বেছে নিতে দ্বিধা করবে না। দিল্লিতে হ্যাটট্রিক করে ক্ষমতায় আসা অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি এবং কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীসহ অনেকে।