চমেক হাসপাতালে বাড়ছে ক্যানসার আক্রান্ত রোগী

আপডেট : ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২১:২২

কোবাল্ট মেশিনে সংযোজন হয়নি সিমুলেটর মনিটর

মুহাম্মদ নিজাম উদ্দিন, চট্টগ্রাম অফিস

চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে রেডিওথেরাপি বিভাগে ক্যানসারে আক্রান্ত রোগী বাড়ছে। বহির্বিভাগে প্রতিদিন ৮০ থেকে ১০০ জন রোগীকে চিকিত্সা দেওয়া হচ্ছে। এই বিভাগে শয্যা সংখ্যা ২০ থেকে বাড়িয়ে সম্প্রতি ৩৬টি করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম মেডিক্যালে সার্জারি, কেমোথেরাপি ও রেডিওথেরাপি চিকিত্সা সেবা চালু থাকায় চট্টগ্রাম ছাড়াও আশপাশের জেলা থেকে ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীরা ভীড় করছে। চিকিত্সকরা জানান, চট্টগ্রাম মেডিক্যালে ক্যানসারের চিকিত্সা নিতে আসা অধিকাংশই কক্সবাজার জেলা ও চট্টগ্রামের সীতাকুন্ড ও মিরসরাই এলাকার রোগী।  সরেজমিনে দেখা গেছে, মেডিক্যালের নিচ তলায় অবস্থিত রেডিথেরাপি বিভাগ। এখানে অন্তঃবিভাগের পাশাপাশি বহির্বিভাগে রোগীদের চিকিত্সা দেওয়া হচ্ছে। অনেকেই আসছেন নির্ধারিত দিনে থেরাপি দিতে। তবে, গত এক বছরেও কোবাল্ট মেশিনে সিমুলেটর মনিটর সংযোজন না করায় থেরাপির রোগীরা পূর্ণাঙ্গ সেবা পাচ্ছে না বলে জানা গেছে। বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. আলী আজগর চৌধুরী ইত্তেফাককে বলেন, চিকিত্সা নিতে চমেক হাসপাতালে আসা রোগীদের মধ্যে ৪০ শতাংশ দক্ষিণ চট্টগ্রাম, সীতাকুন্ড ও মিরসরাই এলাকা থেকে আগত। এখানে পরিবেশগত ও খাদ্যাভাসের কারণে ক্যানসারের আক্রান্ত রোগী বাড়ছে। সীতাকুন্ডে শিপব্রেকিং ইয়ার্ড, শিল্পাঞ্চল রয়েছে। কক্সবাজার এলাকার বাসিন্দারা শুঁটকি, ধূমপান, তামাক ও লবণের চাষসহ পরিবেশগত কারণে ক্যানসারের আক্রান্ত বেশি মনে হচ্ছে।’ সংশ্লিষ্ট চিকিত্সকরা জানান, চট্টগ্রাম মেডিক্যালের রেডিওথেরাপি ওয়ার্ডে অত্যাধুনিক কোবাল্ট মেশিন ও ব্রেকিথেরাপি মেশিন রয়েছে। কোবাল্ট মেশিন দিয়ে দৈনিক ৮০ থেকে ১০০ রোগীকে থেরাপি দেওয়া যাবে।  জানা যায়, নতুন স্থাপিত কোবাল্ট মেশিনটিতে তিন ধরনের সেবা দেওয়া সম্ভব। সেগুলো হচ্ছে—টু ডাইমেনশনাল এস্টার্নাল বিম রেডিয়েশন থেরাপি (টু ডি ইবিআরটি), থ্রি ডি ইবিআরটি ও ইনটেনসিটি মডিউলেটেড রেডিয়েশন থেরাপি (আইএমআরটি)। এর মধ্যে টু ডি ইবিআরটি থেরাপি সেবা এই মেশিনের মাধ্যমে দেওয়া গেলেও থ্রি ডি ইবিআরটি ও আইএমআরটি সেবা পাবে না রোগীরা। মেশিনটিতে রেডিওথেরাপি দেওয়া জন্য একটি কন্ট্রোল প্যানেল মনিটর রয়েছে। এটি দিয়ে শুধুমাত্র টু ডি ইবিআরটি থেরাপি দেওয়া যাবে। বাকী দুটো থেরাপির জন্য সিটি সিমুলেটর মনিটর প্রয়োজন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. আলী আজগর চৌধুরী বলেন, সিমুলেটর মনিটর দ্রুত সংযোজনের চেষ্টা চলছে।