রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে সংসদ সদস্যরা ষড়যন্ত্র-চক্রান্তের পথ ছেড়ে সঠিক রাজনীতির পথে ফিরে আসার জন্য বিএনপির প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, সুযোগ পেলেও ভয়াল দুঃশাসনের কারণে বিএনপি ও দলটির নেত্রী খালেদা জিয়া আজ সবক্ষেত্রে ব্যর্থ। দুর্নীতির কারণে কারাগারে বসে বিএনপি-জামায়াতের দুঃশাসনের ফল ভোগ করছেন খালেদা জিয়া। আগামী ১০ বছর শুধু নয়, শত চক্রান্ত-ষড়যন্ত্র করলেও বিএনপিকে আর কোনো দিন ক্ষমতায় আসার সুযোগ দেবে না দেশের জনগণ। কারণ দেশের জনগণ কোনো সময় অতীত দুঃসময়ের কথা ভুলে যায় না। বিএনপির উচিত অতীত কৃতকর্মের জন্য দেশবাসীর কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়া।
প্রথমে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এবং পরে ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বি মিয়ার সভাপতিত্বে গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তারা এসব কথা বলেন। আলোচনায় অংশ নেন সাবেক তথ্যমন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ, হুইপ আতিউর রহমান আতিক, সরকারি দলের সামছুল আলম দুদু, নজরুল ইসলাম বাবু, বেগম খাদিজাতুল আনোয়ার, বিএনপির গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ ও বিরোধী দল জাতীয় পার্টির (এ) পীর ফজলুর রহমান।
সাবেক মন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ বলেন, একাত্তরের পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতেই ১৫ আগস্ট স্বাধীনতাবিরোধীরা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে। কিন্তু তখন অনেক নেতাই ৩২ নম্বরে গিয়ে বঙ্গবন্ধুকে দেখতে যাওয়ার সাহস দেখায়নি। সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত হওয়া বন্ধে কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান।
বিএনপির গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ রাষ্ট্রপতিকে সাদা মনের মানুষ আখ্যায়িত করে বলেন, নিয়ন্ত্রণের মধ্য থেকে রাষ্ট্রপতি সংসদে ভাষণ দিয়েছেন। বর্তমান সরকারের আমলে কোনো নির্বাচনই সুষ্ঠু হয়নি। সরকার ভোট ভয় পায়। এ কারণে জনগণ ভোট দেওয়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে। নির্বাচন কমিশন পক্ষপাতদুষ্ট। এ কমিশনের ওপর জনগণের কোনো আস্থা নেই। রাষ্ট্রপতি রাজনৈতিক ঐক্যের কথা বলেছেন; কিন্তু কার সঙ্গে ঐক্য? জাতীয় পার্টি তো সরকারের বর্ধিত অংশ। তিনি অসুস্থ কারাবন্দি খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি জানান।
জাতীয় পার্টির (এ) পীর ফজলুর রহমান বলেন, দেশে ধনী-গরিবের বৈষম্য বেড়েই চলেছে। অতি গরিবের সংখ্যা প্রায় ২ কোটি। মাত্র কয়েক ধনীর কাছে দেশের সব সম্পদ। ঋণখেলাপিতে বাংলাদেশ সর্বশীর্ষে। হুইপ আতিউর রহমান আতিক বলেন, বাংলাদেশ সবদিক থেকে এগিয়ে যাচ্ছে অপ্রতিরোধ্য গতিতে। আর এটি সম্ভব হয়েছে বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনার সাহসী, সত্, প্রাজ্ঞ নেতৃত্ব ও দেশপ্রেমের কারণে।
