তীর রক্ষা বাঁধ ঘেঁষে চলছে বালু উত্তোলন

আপডেট : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২১:২৫

আহাদ চৌধুরী তুহিন, ভোলা (দক্ষিণ) প্রতিনিধি

ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলার ভাঙনকবলিত মেঘনা নদীর তীর সংরক্ষণে সিসি ব্লক ও বেড়িবাঁধের কাজ করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। তারই পাশের মেঘনা নদী থেকে ড্রেজার দিয়ে বালু তোলা হচ্ছে। যার ফলে নদীর ভাঙন ঠেকাতে সিসি ব্লক ও বেড়িবাঁধের কাজ হুমকির মুখে পড়ছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড-২ এর (পাউবো) তথ্য মতে, তজুমদ্দিন উপজেলার চৌমুহনী থেকে কেয়ামুল্যাহ পর্যন্ত সাড়ে ছয় কিলোমিটার মেঘনার তীর ও স্লপ (বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধের ঢাল) সংরক্ষণ কাজ করা হচ্ছে।

গত বুধবার তজুমদ্দিন উপজেলার স্লুইস গেট মাছঘাট এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, ভাঙনকবলিত এলাকায় বেড়িবাঁধ ও ব্লক তৈরির কাজ চলছে। এরই পাশে বনবিভাগের শশীগঞ্জ বিট অফিস থেকে শুরু করে স্লুইস গেট পর্যন্ত একাধিক ড্রেজার বসিয়ে পাইপ দিয়ে মেঘনা নদী থেকে বালু তোলা হচ্ছে।

স্লুইস গেট মাছঘাটের মত্স্য ব্যবসায়ী মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, অপরিকল্পিত বালু উত্তোলনের কারণে এ উপজেলায় নদীর ভাঙন তীব্র হচ্ছে। বর্ষায় বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও চাঁদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফখরুল আলম জাহাঙ্গীর বলেন, অভিযুক্ত ছালেমকে নদীর তীর থেকে বালু তুলতে নিষেধ করেছি। নদীর মধ্যে যে ডুবোচর আছে, সেখান থেকে কাটতে বলেছি। কারণ ডুবোচরের কারণে তীর ভাঙছে।

তজুমদ্দিন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের তীর সংরক্ষণ কাজের জন্য কিছু বালু উত্তোলন করছিল। সেটি তোলার জন্যই পাইপ টানা ছিল। সেটি তোলা শেষ হওয়ার পরে আবার যদি বালু তোলা হয়, তাহলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) এর ভোলা বন্দরের উপপরিচালক মো. কামরুজ্জামান বলেন, মেঘনায় অপরিকল্পিত বালু উত্তোলনের কারণে ভাঙন বৃদ্ধি পাচ্ছে। যার ফলে মেঘনার তীরে সবকটি লঞ্চঘাট বার বার বিকল হচ্ছে।

ভোলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো-২) নির্বাহী প্রকৌশলী হাসান মাহমুদ বলেন, ভাঙনের আশপাশ দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করলে ভাঙন আরো বৃদ্ধি পাবে।

বিআইডব্লিউটিএর ড্রেজার বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রেজা খন্দকার বলেন, বিআইডব্লিউটিএর খনন বিভাগ নদীর ডুবোচর কেটে সমান (লেবেল) করে। এতে নদীর নাব্য ফিরে আসে। আর বালু উত্তোলনকারীরা গভীর গর্ত করে বালু উত্তোলন করে। গর্ত করার কারণে চারদিক থেকে ভেঙে আবার গর্ত ভরাট হয়। এতে বিপর্যয় দেখা দেয়।

অভিযুক্ত মো. ছালেম মাতব্বরের ছেলে নুরে আলম বলেন, আমরা মেঘনা নদী থেকে ড্রেজার দিয়ে বালু তুলছি না, কার্গো থেকে মোটা দানার বালু তুলছি।

ভোলা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদ আলম ছিদ্দিক বলেন, অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনে ভাঙন বৃদ্ধি ছাড়াও অনেক ক্ষতি করছে। তা ছাড়া ভোলার মেঘনা-তেঁতুলিয়া নদীতে বালু উত্তোলন সম্পূর্ণ অবৈধ। গত রবিবার মেঘনায় অভিযান চালিয়ে কয়েক জাহাজ বালু জব্দসহ  দুই জনকে জেল-জরিমানা করা হয়েছে।