বিষয়টিতে নজর দিবেন কি?

আপডেট : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২১:৪৫

দেশের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে, বিশেষ করিয়া দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সঙ্গে ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের বিশেষ কিছু লোকের সখ্য ও উঠাবসা জনগণের মধ্যে নেতিবাচক মনোভাব তৈরি করিতেছে। কেবল ব্যবসায়ীই নহে, দাগি বা অসত্ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে তাহারা খানাপিনা হইতে শুরু করিয়া নানা ধরনের নিবিড় যোগাযোগ চালাইয়া যাইতেছেন। অভিযোগ রহিয়াছে, এই সকল চলাফেরার মধ্য দিয়া দাগি এবং সাধারণ্যের নিকট অগ্রহণযোগ্য ব্যবসায়ীদের নিয়মবহির্ভূত সুযোগ-সুবিধা দিয়া আসিতেছেন ঐ কর্মকর্তাগণ। বলিবার অপেক্ষা রাখে না, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং অসত্ ব্যবসায়ীদের মধ্যে এই ধরনের উঠাবসা ‘গিভ অ্যান্ড টেক’ সম্পর্ক অবশ্যম্ভাবী করিয়া তুলে। পরিণতিতে কিছুসংখ্যক সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে স্থানীয় জনসাধারণের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হওয়া অত্যন্ত স্বাভাবিক।

 উল্লেখ করিতে হয় যে, সরকারি কর্মকর্তারা যাহাতে নিজেদের যোগাযোগ ও যাতায়াত বহাল রাখিতে পারেন, সামাজিকভাবে সহকর্মীদের সঙ্গে চলাচল করিতে পারেন এবং এই ধরনের ব্যবসায়ী ঠিকাদারদের সঙ্গে চলাফিরা না করিতে হয় তাহার জন্য অর্থ ব্যয় করিয়া সরকারের তরফ হইতে ক্লাব করিয়া দেওয়া হইয়াছে, তাহাদের রিক্রিয়েশনেরও সুবিধা রহিয়াছে। আমাদের সরকারি চাকুরি, আচরণ ও শৃঙ্খলাবিষয়ক বিধিমালার কোথাও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে চলাফিরা বিষয়ে বিধিনিষেধ না থাকিলেও এই ধরনের মেলামেশাকে আপত্তিজনক বলিয়াই মনে করা হইয়া থাকে। বিশেষ করিয়া যেই সকল ব্যবসায়ীর ভাবমূর্তি জনগণের নিকট ভালো নহে, তাহাদের সঙ্গে সরকারি কর্মকর্তাদের সখ্য অবশ্যই গর্হিত কাজ। উল্লেখ্য, এই ভূমিতে ব্রিটিশ প্রশাসনের কালচার ছিল, অপ্রয়োজনে সরকারি কর্মচারীদের ব্যবসায়ী মহলের সঙ্গে মিলামিশা না করা। আর অসত্ ব্যক্তিদের সঙ্গে মিশার ব্যাপারে তো কথাই নাই।

আমরা দেখিতে পাই, সকল প্রকার ক্রাইটেরিয়া উপেক্ষা করিয়া সরকারি কর্মকর্তারা ঐ সকল ব্যবসায়ীর সঙ্গে বিনোদনভ্রমণসহ নানা ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রক্ষা করিতেছেন, যাহাদের ভাবমূর্তি বলিতে কিছু নাই। ইহা যেমন সুষ্ঠু ও সত্ প্রশাসনের জন্য ক্ষতিকর ও অনাকাঙ্ক্ষিত, তেমনি একজন সত্যিকার দায়িত্বশীল সরকারি কর্মকর্তার মূল্যবোধেরও পরিপন্থি। এই সীমিতসংখ্যক অসত্ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ না করিতে পারিলে সরকারপ্রধান যে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসন গড়িয়া তুলিতে চাহিতেছেন, তাহা শুধু ব্যর্থই হইবে না, ইহা হইতে উদ্ভূত সকল নেতিবাচক ফলাফলের দায় সরকারের উপরই বর্তাইতে পারে। এমনকি কোনো কোনো এলাকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ স্থানীয়ভাবে পরিচিত দুষ্কৃতকারীদের আতিথেয়তা গ্রহণ করিতেছেন। এই ভাবে বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় সরকারের দায়িত্বশীল যাহারা রহিয়াছেন, তাহারা ঐ সব দাগী, অসত্ ব্যবসায়ীদের পকেটস্থ হইয়া পড়িতেছেন বলিয়া স্থানীয় জনগণের অভিযোগ রহিয়াছে। সরকারের দায়িত্বশীল মহল হইতে এই ধরনের অসত্ সংযোগের ব্যাপারে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। কারণ এই ধরনের সম্পর্ক স্থানীয় জনগণের এবং জাতীয় সম্পদের উপর  হুমকি হইয়া দেখা দেয়। সরকারের ইমেজ নষ্ট করিতেও ইহা সহায়ক হইয়া উঠে।