তাপসের আসনে ফরম নিলেন খোকন

আপডেট : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২২:৩৭

নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে শূন্য ঘোষিত পাঁচ সংসদীয় আসনের উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ৭৮ জন। তারা দলীয় মনোনয়নের জন্য আবেদনপত্র সংগ্রহ করে জমাও দিয়েছেন। ঢাকা-১০ আসনের উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চান ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র সাঈদ খোকন। গতকাল শুক্রবার বিকালে তার পক্ষে মনোনয়নের জন্য আবেদনপত্র সংগ্রহ করে জমা দেন ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সদস্য আবুল কালাম আজাদ। এদিকে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের আসন্ন নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী পরিবর্তন হচ্ছে কি না, তা নিয়ে জোর আলোচনা চলছে বন্দরনগরীর রাজনৈতিক অঙ্গনে। বর্তমান মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীনের পাশাপাশি মনোনয়নের এই দৌড়ে আলোচনায় এগিয়ে আছেন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) সাবেক চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম ও নগর কমিটির সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন। এছাড়া বিএনপির সাবেক মেয়র এম মনজুর আলমও নৌকার মনোনয়ন চান।

গতকাল ছিল এসব নির্বাচনে দলের মনোনয়নের জন্য আবেদনপত্র বিক্রি ও জমা দেওয়ার শেষ দিন। আজ শনিবার সন্ধ্যা ৭টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে গণভবনে দলের সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ড ও স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের যৌথসভা অনুষ্ঠিত হবে। সেখানেই মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাত্কার নিয়ে প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে।

পাঁচটি সংসদীয় আসনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আবেদনপত্র বিক্রি হয়েছে গাইবান্ধা-৩ আসনে। এ আসনে ২৫ জন মনোনয়নের জন্য আবেদনপত্র কিনে জমা দিয়েছেন। এছাড়া বগুড়া-১ আসনের জন্য ১৯ জন, যশোর-৬ আসনে ১৩ জন, বাগেরহাট-৪ আসনে ১১ জন এবং ঢাকা-১০ আসনে ১০ জন আওয়ামী লীগের মনোনয়নের জন্য আবেদনপত্র ক্রয় করে জমা দেন। এছাড়া চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়নের জন্য আবেদনপত্র কিনে জমা দিয়েছেন ২০ জন। আর কাউন্সিলর পদে দলের সমর্থনের জন্য আবেদনপত্র কিনে জমা দিয়েছেন                 ৪০৫ জন। চট্টগ্রামে সিটি নির্বাচনে মোট ওয়ার্ড ৪১ এবং সংরক্ষিত নারী ওয়ার্ড ১৪টি।

গাইবান্ধা-৩

পাঁচ সংসদীয় আসনের উপনির্বাচন ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে যারা আওয়ামী লীগের মনোনয়নপত্র কিনেছেন তারা হলেন:

গাইবান্ধা-৩ আসনে উম্মে কুলসুম স্মৃতি, শাহ মো. ইয়াকুব উল আজাদ, মো. মাহমুদুল হক, এ কে এম মোকছুদ চৌধুরী, মো. মফিজুল হক সরকার, মো.ফজলুল করিম, মো. ওমর ফারুখ, মো. আজিজার রহমান খান বিএসসি, গোপাল চন্দ্র বর্মন, মোছা. রেহেনা বেগম, তামান্না শারমিন, তোফাজ্জল হোসেন, এম এস রহমান, আবু বক্কার প্রধান, শাহারিয়া খান, জরিদুল হক, আমিনুল ইসলাম, মো. সাদ্দাম হোসেন, মাজেদার রহমান দুলু, নুরুল ইসলাম প্রধান, দিলারা খন্দকার, শাহাদত রাজা, মতিয়ার রহমান এবং মো. সাঈদ রেজা।

বাগেরহাট-৪

বাগেরহাট-৪ আসনে মিজানুর রহমান জনি, মুক্তিযোদ্ধা ড. আব্দুর রহিম খান, অ্যাডভোকেট আমিরুল আলম মিলন, প্রবীর রঞ্জন হালদার, নকিব নাজিব, ইসমত আরা শিরিন চৌধুরী, মোশারফ হোসেন, এস এম রাজু, মো. জামিল হোসাইন, বদিউজ্জামন সোহাগ এবং এস এম মনিরুল ইসলাম।

যশোর-৬

যশোর-৬ আসনে শেখ আব্দুর রফিক, শাহীন চাকলাদার, মো. আব্দুল মান্নান, এইচ এম আমির হোসেন, ওয়াহিদ সাদিক, নওরিন সাদিক, তাপস কুমার দাস, হোসাইন মোহাম্মদ ইসলাম, শ্যামল সরকার, শেখ আব্দুল ওহাব, মো. কামরুজ্জামান (আইনজীবী), তানভীর আহম্মেদ বিপু এবং জয়দেব নন্দী।

ঢাকা-১০

ঢাকা-১০ আসনে শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, মো. সাঈদ খোকন মেজর ইয়াদ আলী ফকির, অ্যাডভোকেট মো. বশির, আদম তমিজী হক, ড. আব্দুল ওয়াদুদ, মোয়াজ্জেম হোসেন খান মজলিশ, মো. কুদ্দুসুর রহমান, এ এস এম কামরুল আহসান ও কাজী মোর্শেদ হোসেন কামাল।

বগুড়া -১

বগুড়া-১ আসনে ম. আব্দুর রাজ্জাক, মোজাহিদুল ইসলাম বিল্পব, জাহাঙ্গীর আলম, জিয়াউর রহমান শেখ, ড. সিদ্দিকুর রহমান, ডা. মো. মকবুলুর রহমান, সাহাদারা মান্নান, রেজাউল করিম মন্টু (জেলা সদস্য), এস এম খাবীরুজ্জামান, মো. জাকির হোসেন, মো. ছালের উদ্দিন, আবুল কালাম আজাদ, রেজাউল করিম মন্টু (উপজেলা সদস্য), মোনতাজুর রহমান মন্টু, শাহজাহান আলী, আলমগীর শাহী (পৌর মেয়র), মো. আছালত জামান, আনছার আলী এবং অ্যাডভোকেট ফজলুল হক সবুজ।

চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনে মেয়র পদ

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে আ জ ম নাছির উদ্দিন, রেজাউল করিম চৌধুরী, খোরশেদ আলম, মুজিবর রহমান, নুরুল ইসলাম বিএসসি, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, আবদুচ ছালাম, মেজর (অব.) ইমদাদুল ইসলাম, মো. ইনসান আলী, মোহাম্মাদ ইউনুস, মো. হেলাল উদ্দিন চৌধুরী, সেলিনা খান, মো. মনজুর আলম (সাবেক মেয়র), রেখা আলম, এ কে এম বেলায়েত হোসেন, মো. মাহাবুবুল আলম, এরশাদুল আমিন, মো. মনোয়ার হোসেন, দীপক কুমার পালিত। ২০১৫ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী আ জ ম নাছিরের কাছেই হেরেছিলেন সেই সময়কার বিএনপি নেতা এম মনজুর আলম। সেবার ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ তুলে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন তিনি। এর আগে ২০১০ সালের নির্বাচনে ৪ লাখ ৭৯ হাজার ভোট পেয়ে নিজের রাজনৈতিক গুরু এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীকে প্রায় ৯৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে মেয়র হয়েছিলেন বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী মনজুর। তার আগে মনজুর আলম তিন দফায় আওয়ামী লীগ সমর্থিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর ছিলেন। মহিউদ্দিন চৌধুরী মেয়র থাকাকালে বিভিন্ন সময় ভারপ্রাপ্ত মেয়রেরও দায়িত্ব পালন করেন তিনি।