/ হামীম রায়হান
‘ডাক্তার আসার পূর্বে রোগী মারা গেলো’—শৈশবে এর ট্রান্সলেশন করেননি এমন লোক কমই মিলবে। সকালে উঠে এটা নিয়ে ভাবনায় পড়লেন সেন্টু ভাই। রোগী মারা যাওয়ার পেছনে দায়ী কে? ডাক্তার কি কোনো প্রাইভেট চেম্বার করেন? নাকি রোগীর স্বজনদের অবহেলা! নাকি রোগী কোনো প্রাণঘাতী ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন?
গত তিনদিন যাবত্ সেন্টু ভাইয়ের কোনো দেখা নাই। কোনো আড্ডায়ও আসছেন না। আমি আর সুবেল গেলাম ভাইয়ের বাড়িতে। দেখি বাড়ির দরজা জানালা বন্ধ। ভাই কি কোথাও বেড়াতে গেলেন? কোথাও বেড়াতে গেলে তো ভাই আমাদের জানাতেন। তাছাড়া ভাইয়ের ফোনটাও যে বন্ধ!
কিছুটা এগিয়ে গিয়ে দেখি দরজা তালাবদ্ধ নয়, ভেতর থেকে বন্ধ। মানে ভেতরে কেউ আছে। আমরা ডাক দিলাম। বেশ কিছুক্ষণ পর ভাইয়ের আওয়াজ শোনা গেলো। দরজা খুলে ভাই বেরিয়ে এলেন। ভাইকে দেখে আমরা তো অবাক। গায়ে মহাকাশ বিজ্ঞানীদের মতো পোশাক জড়িয়ে আছেন!
সুবেল বলল, ভাই, চাঁদে যাচ্ছ নাকি? কবে যাবে? আমরা একটা সংবর্ধনার আয়োজন করি?
—আরে নাহ!
—তবে এ ধরনের বেশ কেন?
—নতুন একটা ভাইরাস এসেছে না। ওটা নিয়েই সতর্ক হচ্ছি। তোরাও বাড়ি যা। বাইরে ঘোরাঘুরি বন্ধ কর। ঘরে দরজা জানলা বন্ধ করে বসে থাক।
—তা ভাই বুঝলাম, কিন্তু আপনি মোবাইল ফোন বন্ধ করলেন কেন?
—আর বলিস না, আমার মোবাইলটা তো চায়না। তাই ভয়ে আছি। চায়না থেকেই তো এ ভাইরাস ছড়াচ্ছে। যদি তারা তাদের চায়না সেটেও এই ভাইরাস ছড়িয়ে দেয়? তাই ফোন অফ রাখলাম।
এমন সময় সেবুল জোরে একটা হাঁচি দেয়!
সেন্টু ভাই ‘ওরে বাপরে!’ বলেই ঘরের দিকে দৌড় দিলেন। আমরা তো ভয় পেয়ে গেলাম! ভাই যেতে যেতে চিত্কার করে বললেন—ভাইরাস! ভাইরাস! তোরা যা এবার! আমি তো শেষ!
আমিও ভয়ে ভয়ে সুবেলকে রেখেই চলে এলাম। বেটা মনে হয় ভাইরাস আক্রান্ত!
পটিয়া, চট্টগ্রাম
