কুলঞ্জন ভেষজগুণে গুণান্বিত উদ্ভিদ। এর কাব্যিক নাম হৈমবতী, আঞ্চলিক নাম আদাবাউস। পরিবার Zingiberaeae, উদ্ভিদতাত্ত্বিক নাম Alpinia malacansis। আদি নিবাস ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়া। তবে আমাদের দেশের প্রকৃতি-পরিবেশে এ উদ্ভিদ জন্মে বহু আগে থেকে। উঁচু থেকে মাঝারি উঁচু ভূমি ছায়াযুক্ত আর্দ্র ও ভেজা মাটি এ উদ্ভিদের বৃদ্ধিতে সহায়ক। আমাদের পাহাড়ি অঞ্চলে রয়েছে এর ব্যাপক উপস্থিতি। ছায়াঘেরা পাহাড়ি অঞ্চল এদের অত্যন্ত পছন্দ। উপকারী এ উদ্ভিদ আমাদের অজ্ঞতা অবহেলায় আজ বিলুপ্তির পথে। আগেকার মতো আর চোখে পড়ে না। গাছ উচ্চতায় গড়ে ৩ থেকে ৪ মিটার হয়ে থাকে। পাতা জলপাই রঙের, মসৃণ ও লম্বাকৃতির। লম্বায় প্রায় ১ মিটার, মধ্যশিরা স্পষ্ট।
কুলঞ্জন গাছ ঝোপালোভাবে জন্মে। কন্দের মাধ্যমে বংশ বিস্তার ঘটে। এর কন্দ আদার মতো। কুলঞ্জন গাছে বসন্তে ফুল ফোটে। ফুল ফোটার ব্যাপ্তি গ্রীষ্ম অবধি। এর ফুল গাছের কাণ্ড ভেদ করে প্রথমে মোচা বের হয়। মোচার ভেতর থেকে লম্বা পুষ্পদণ্ডে একসঙ্গে অসংখ্য ফুল ফোটে। এর ফুল কলি অবস্থায় সাদা থেকে হালকা গোলাপি রঙের হয়। তবে পরিপূর্ণ ফুলে সাদার মাঝে লালচে-কমলা ও হলুদের মিশ্রণ থাকে। ফুটন্ত ফুল বেশ নজরকাড়া। ফুল শেষে গাছে ফল ধরে। কুলঞ্জন ফুলের সঙ্গে আদা ও এলাচি ফুলের সাদৃশ্য খুঁজে পাওয়া যায়। কারণ এরা একই গোত্রের।
এ উদ্ভিদের মূল, কাণ্ড ও পাতার রয়েছে ভেষজ নানান রকম গুণ। তাই তো বাতের ব্যথা, কণ্ঠনালী ও শ্বাসযন্ত্রের সমস্যায়, পেটের পীড়ায়, ব্রঙ্কাইটিস, যক্ষ্মা, আমাশয়, অজীর্ণ, চর্মরোগ ও স্নায়ুবিক দুর্বলতায় কাজ করে কুলঞ্জন।
