সুন্দরবন ভ্রমণ

পর্যটকরা ফেলে যাচ্ছেন পানির বোতল খাবারের প্যাকেট

আপডেট : ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২১:৫৩

এনামুল হক, খুলনা অফিস

প্রাণবৈচিত্র্যে অনন্য সুন্দরবন। নানা ধরনের গাছপালার চমত্কার সমাহার ও বিন্যাস এবং জলজ ও বন্যপ্রাণীর অনন্য সমাবেশ এ বনভূমিকে বিশ্বের বুকে চিহ্নিত করেছে এক অপরূপ প্রাকৃতিক নিদর্শন হিসেবে। কিন্তু ঘন ঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও লোভাতুর কিছুসংখ্যক মানুষের কারণে সুন্দরবনের প্রাণবৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়েছে।

বন বিভাগ সূত্র জানায়, প্রায় ৩৫ লাখ মানুষের জীবন-জীবিকা সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল। এছাড়া সুন্দরবনের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও বন্যপ্রাণীর অবাধ বিচরণের কারণে এখানে পর্যটন শিল্প দ্রুত বিকশিত হচ্ছে। প্রতি বছর বহু দেশি-বিদেশি পর্যটক, গবেষক, ছাত্র-শিক্ষক সুন্দরবন ভ্রমণ করে।

সুন্দরবনে বেড়াতে গিয়ে পর্যটকেরা বন্যপ্রাণীদের নিজেদের সঙ্গে আনা খাবার খাওয়ায়। এছাড়া বনের মধ্যে যত্রতত্র ফেলে আসছে পানির বোতল ও খাবারের প্যাকেটসহ নানা ধরনের প্লাস্টিক আবর্জনা। যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বনের স্থলজ ও জলজ প্রাণীর জীবনচক্রে। পর্যটকদের অবিবেচনাপ্রসূত এসব কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে নেই কোনো নজরদারি। এতে হুমকির মুখে পড়ছে সুন্দরবনের প্রাণবৈচিত্র্য ও সার্বিক প্রতিবেশ ব্যবস্থা।

খুলনা সার্কেলের বন সংরক্ষক (সিএফ) মঈনুদ্দীন খান বলেন, সুন্দরবনে প্রতি বছরই পর্যটক বাড়ছে। অনেক পর্যটক না বুঝে বনের মধ্যে প্লাস্টিক, কাগজপত্র ও বিভিন্ন রকমের খাবারের প্যাকেট ফেলে থাকেন। এতে বনের মধ্যে দূষণের সৃষ্টি হয়। এ ব্যাপারে পর্যটকদের সচেতন করা হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, সুন্দরবন ভ্রমণ নীতিমালা যথাযথভাবে মেনে চললে সুন্দরবনে পরিবেশবান্ধব পর্যটন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। তাছাড়া বন বিভাগসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অব্যাহত তত্পরতার কারণে বনে দস্যুবৃত্তি বহুলাংশে কমে গেছে।