সুজানগর (পাবনা) সংবাদদাতা
পাবনার সুজানগরের সাতবাড়ীয়া এলাকায় জেগে উঠেছে পদ্মার বিশাল বিস্তীর্ণ চর। চরের আশপাশে কোথাও কোনো বাড়িঘর নেই। দুই চাখ যতদূর যায়, শুধু ধু ধু বালুচর আর মাঝে মাঝে কাশবন ছাড়া কিছুই চোখে পড়ে না। কিন্তু তারপরও প্রকৃতির নিদারুণ টানে সেই চরে পর্যটকের আনাগোনা চোখে পড়ার মতো। স্থানীয় পর্যটকের পাশাপাশি আশপাশের এলাকার ভ্রমণপিপাসু মানুষ প্রতিদিন ভিড় করছেন পদ্মার ঐ চরে। সাতবাড়ীয়া ইউপি চেয়ারম্যান এস এম শামছুল আলম বলেন, একসময় প্রমত্ত পদ্মা এলাকার মানুষের দৃষ্টি আকৃষ্ট করত। বিশেষ করে সে সময় পদ্মার বড়ো বড়ো ঢেউ দেখতে আর প্রচণ্ড গর্জন শুনতে আশপাশের মানুষ ছুটে আসত সাতবাড়ীয়া পদ্মা নদীর পাড়ে। কিন্তু কালের আবর্তনে নদীটি তার সেই যৌবন হারিয়ে ফেলায় তার প্রতি আর এলাকার মানুষের কৌতূহল ছিল না। তবে গত দুই বছর পদ্মায় বিশাল চর জেগে ওঠায় সাতবাড়ীয়াসহ আশপাশের ভ্রমণপিপাসু মানুষের কাছে ঐ চর বিনোদন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে পদ্মার চরের মাঝদিয়ে এঁকেবেঁকে বয়ে যাওয়া পদ্মার সরু খাল ও দৃষ্টিনন্দন সাদা কাশবন বিনোদনপ্রেমী পর্যটকদের নজর কাড়ছে।
স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য খলিলুর রহমান বলেন, প্রতিদিন কমবেশি পর্যটক পদ্মার ঐ চরে ঘুরতে আসেন। তবে শুক্র ও শনিবার স্থানীয় পর্যটকদের পাশাপাশি দূর-দূরান্ত থেকে শত শত পর্যটক চরে এসে বনভোজন করেন। সেই সঙ্গে পর্যটকরা পদ্মার ঐ সরু খালে নৌ-ভ্রমণ করে সময় কাটান। পদ্মার চরে পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘুরতে আসা ইকবাল হোসেন মাস্টার জানান, পদ্মার চর, ফুলে ফুলে ভরা চরের সাদা কাশবন এবং চরের মাঝদিয়ে বয়ে যাওয়া ঐ সরু খালে রয়েছে প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য। আর ঐ সৌন্দর্য ভ্রমণপিপাসু প্রতিটি মানুষের মনে প্রশান্তি আনে। ফলে পর্যটকদের কাছে পদ্মার বিশাল বিস্তীর্ণ চরই বড়ো বিনোদন কেন্দ্র।
