‘প্রেম করেছেন! বিচ্ছেদ হয়েছে! তাহলে প্রেমিক বা প্রেমিকার নিকট থেকে পাওয়া উপহারগুলো আপনার কাছে রাখার আর কি দরকার! এগুলো থাকা মানেই তো কষ্টকে নিজের বাসায় পোষা! বিক্রি করে দিন, সুখে থাকবেন!’—কথাগুলো ডিং থ্যাং নামের এক ভিয়েতনামের বাসিন্দার। ডিং থ্যাং নিজে প্রেম করে ব্যর্থ হয়েছেন। ফলে অন্য ব্যর্থ প্রেমিক-প্রেমিকার কষ্টটা খুব সহজেই বুঝতে পারেন। তাই অন্যদের কষ্ট লাঘবের প্রয়াসে তিনি একটি উদ্যোগ নেন! কি সেটা জানেন? প্রেমিক বা প্রেমিকার দেওয়া উপহার বিক্রি করার হাট!
ভিয়েতনামের ওল্ড ফ্লেমস মার্কেট। সারি সারি পুরাতন পণ্যের পসরা সাজিয়ে মলিন মুখে বসে আছেন কিছু যুবক-যুবতী। দামি জামা, জুতো, ঘড়ি, সুগন্ধী থেকে শুরু করে সস্তা চাবির রিং সবই আছে এখানে। তবে আর দশটা পুরাতন পণ্যের বাজার থেকে এই বাজারের পণ্য সামগ্রী আর বিক্রেতার মাঝে বিস্তর পার্থক্য রয়েছে। এখানে সারি সারি সাজানো যে পণ্যের দেখা মিলছে তার প্রতিটিই পুরাতন প্রেমিক-প্রেমিকার কাছ থেকে উপহার হিসেবে পাওয়া। আর বিক্রেতারা প্রত্যেকেই সেই পুরাতন প্রেমিক-প্রেমিকা।
ডিং থ্যাং নামের একজন ব্যক্তি একেবারে ভিন্নধর্মী এই বাজারটির উদ্যোক্তা। তিনি মনে করেন প্রেম এবং উপহার একে অন্যের পরিপূরক। প্রেমিকার কাছ থেকে উপহার পায়নি এমন প্রেমিক খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। কিন্তু প্রেম ভেঙে গেলে এই উপহার তখন চোখের কাঁটায় পরিণত হয়। আবার এগুলো ফেলে দিলেও পরিবেশ নোংরা হয়। তাছাড়া প্রতিটি জিনিসের ব্যবহারিক মূল্য আছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে চালু হওয়া এই বাজার ভিয়েতনামে এখন তুমুল আলোচনার বিষয়ে পরিণত হয়েছে। বেচাকেনাও খারাপ না। তাই আগামীবছর ভিয়েতনামের হো চি মিন শহর এই বাজার সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে ডিং থ্যাংয়ের। অনেকের মাঝে সাড়া ফেললেও বেশকিছু মানুষ এই বাজারের সমালোচনায় সরব হয়েছেন। তারা এটাকে ব্যক্তিগত গোপনীয়তার লঙ্ঘন হিসেবে দেখছেন। তবে এসব সমালোচনা গায়ে মাখছেন না ডিং থ্যাং।
