২০২০ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন
তালেব রানা
যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামী নভেম্বরে। বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও রিপাবলিকান দলের প্রার্থী হচ্ছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে তিনিই প্রথম প্রেসিডেন্ট, যিনি অভিশংসিত হওয়ার পর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। তার বিরুদ্ধে আগামী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট দলের প্রার্থী বাছাইয়ের প্রক্রিয়া এরই মধ্যে শুরু হয়ে গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় যে কেউ চাইলেই কোনো দলের প্রার্থী হতে পারেন না। তাকে নির্দিষ্ট কিছু বাছাই পদ্ধতির মধ্য দিয়ে এ মনোনয়ন পেতে হয়। প্রার্থীকে মনোনীত করতে বিভিন্ন রাজ্যে দলগুলোর প্রেসিডেন্সিয়াল প্রাইমারি ইলেকশন এবং ককাস অনুষ্ঠিত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানে এ প্রক্রিয়া নিয়ে স্পষ্ট করে কিছু বলা হয়নি। তবে রাজনৈতিক দলগুলো সময়ের পরিক্রমায় এ নিয়ম প্রতিষ্ঠা করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের কিছু অঙ্গরাজ্যে প্রার্থী মনোনয়নে প্রাইমারি ইলেকশন হয়। আবার কিছু অঙ্গরাজ্যে ককাস হয়। আবার কোনো কোনো রাজ্যে এ দুটিই হয়। নির্বাচনের বছরের জানুয়ারির শেষ অথবা ফেব্রুয়ারির শুরুতে এ প্রক্রিয়া শুরু হয়। এবারও আইওয়া ককাসের মাধ্যমে এ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সাধারণত মধ্য জুন পর্যন্ত এ প্রক্রিয়া চলে। অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় সরকারগুলো প্রাইমারি ইলেকশনের আয়োজন করে। অন্যদিকে ককাসের আয়োজন করে সরাসরি রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা। এ প্রাইমারি ইলেকশন বা ককাস হলো পরোক্ষ নির্বাচন। এখানে ভোটাররা সরাসরি নির্দিষ্ট প্রার্থীকে নির্বাচিত না করে তারা ঐ প্রার্থীর পক্ষে কিছু প্রতিনিধি নির্বাচিত করে। যারা দলের জাতীয় কনভেনশনে ঐ প্রার্থীর পক্ষে ভোট দেন।
ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হচ্ছেন এটা নিশ্চিত হওয়ায় রিপাবলিকান দলের প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়া নিয়ে মানুষের মধ্যে আগ্রহ কম বরং তার বিরুদ্ধে ডেমোক্র্যাটরা কাকে প্রার্থী করছেন সেদিকেই নজর সবার। আইওয়া ককাস/প্রাইমারি দিয়েই প্রার্থী মনোনয়নের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। গত ৩ ফেব্রুয়ারি ঐ অঙ্গরাজ্যে প্রাইমারি ভোটাভুটি হয়। সেখানে মনোনয়ন পাওয়ার লড়াইয়ে নেমেছিলেন ১০ জনের বেশি ডেমোক্র্যাট নেতা। কারিগরি ত্রুটির কারণে ভোটের ফল ঘোষণায় বিলম্ব হয়। শেষ পর্যন্ত ঘোষিত ফলাফলে চমক দেখিয়েছেন ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যের সাউথ বেন্ডের মেয়র পিট বুটিজেজ। বেশি ভোট পাওয়ায় সবচেয়ে বেশি প্রতিনিধি জোগাড় করতে পেরেছেন তিনি। দ্বিতীয় হয়েছেন ভারমন্টের সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স। আর সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন হয়েছেন চতুর্থ।
এরপর গত ১১ ফেব্রুয়ারি নউ হ্যাম্পশায়ার অঙ্গরাজ্যে ডেমোক্র্যাট পার্টির প্রাইমারিতে জয়ী হয়েছেন সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স। ৭৮ বছর বয়সি ‘বামপন্থি’ এই রাজনীতিক পিট বুটিজেজের চেয়ে সামান্য ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন। এর মাধ্যমে তিনি আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দলের মনোনয়ন পাওয়ার দৌড়ে এগিয়ে গেলেন। এই প্রাইমারিতে তৃতীয় হয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন মিনেসোটার সিনেটর অ্যামি ক্লবুচার। ম্যাসাচুসেটসের সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেন দৌড় শেষ করেছেন চতুর্থ হয়ে। আর জো বাইডেন হয়েছেন পঞ্চম।
এ ফলাফলের পর সিএনএনের এক খবরে স্যান্ডার্সকেই ডেমোক্র্যাট দলের ‘ফ্রন্ট রানার’ বলে জানানো হয়েছে। এছাড়া শীর্ষ পাঁচে স্যান্ডার্সের পরে রয়েছেন পিট বুটিজেজ (দ্বিতীয়), জো বাইডেন (তৃতীয়), মাইকেল ব্লুমবার্গ (চতুর্থ) এবং অ্যামি ক্লবুচার (পঞ্চম)। ডেমোক্র্যাট মনোনয়নপ্রত্যাশীদের পরবর্তী পরীক্ষা হবে নেভাদায়। ২২ ফেব্রুয়ারি সেখানে ককাসের পর মাসের শেষদিকে সাউথ ক্যারোলিনায় প্রাইমারি হবে।
নিউ হ্যাম্পশায়ারের ফলাফলের পর ম্যানচেস্টারে এক সমাবেশে দেওয়া ভাষণে স্যান্ডার্স বলেন, আজকের এ জয় থেকেই ডোনাল্ড ট্রাম্পের শেষের শুরু হলো। রিপাবলিকান প্রেসিডেন্টকে হারাতে জাতি, ধর্ম, বর্ণ, বয়স নির্বিশেষে বিরাট রাজনৈতিক আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
দুই প্রাইমারিতে ভালো করার পর শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন পিট বুটিজেজ। অল্প বয়সি এ প্রার্থী ভালো করতে পারেন বলেন অনেকেই মনে করছেন। প্রাক্তন ভাইস প্রেসিডেন্ট ও অভিজ্ঞ নেতা জো বাইডেন পর পর দুটি প্রাইমারিতেই খারাপ ফল করেছেন। সবচেয়ে সম্ভাবনাময় প্রার্থী হিসেবে যাত্রা শুরু করেও তিনি এখনো যথেষ্ট সমর্থন আদায় করতে পারেননি। অঙ্গরাজ্যগুলোতে প্রাইমারি ও ককাসের পর শেষ পর্যন্ত ডেমোক্র্যাট প্রার্থী কে হবেন—সেটা দেখতে অপেক্ষা করতে হবে আগামী জুন পর্যন্ত।
