মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৬৭০

আপডেট : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২২:৪৪

আরো ১৪৪ জনের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে করোনা ভাইরাসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬৭০। তবে নতুন রোগীর সংখ্যা কমেছে টানা তৃতীয় দিনের মতো। নতুন মৃত্যুর মধ্যে চীনে ১৪৩ জন ও তাইওয়ানের এক জন রয়েছে। চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির মূল ভূখণ্ডে শনিবার আরো ২ হাজার ৯ জনের শরীরে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে, আগের দিন নতুন রোগীর সংখ্যা ছিল ২ হাজার ৬৪১ জন। সব মিলিয়ে চীনে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৮ হাজার ৫০০ জনে। আর অন্তত ২৬টি দেশে এ ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় বিশ্বে আক্রান্তের সংখ্যা ৬৯ হাজার ছাড়িয়ে গেছে।

চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহর থেকেই গত বছরের শেষে করোনা ভাইরাস ছড়াতে শুরু করে। প্রতিবেশী তাইওয়ানে প্রথম এক জনের মৃত্যু হলো। এ ব্যাপারে দ্বীপদেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী চেন শিহ-চুং রবিবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ষাটের কোঠায় থাকা বৃদ্ধ ঐ ব্যক্তির আগে থেকেই ডায়াবেটিস ও হেপাটাইটিস বি’তে আক্রান্ত ছিলেন। কোভিড-১৯ নামে করোনা ভাইরাসবাহী নতুন এ রোগে তাইওয়ানে এর আগে কেউ মারা যায়নি। তবে সব মিলে আক্রান্ত হয়েছে ২০ জন।          এর আগে চীনের মূল ভূখণ্ডে বাইরে নতুন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে হংকং, ফিলিপাইন্স, জাপান ও ফ্রান্সে এক জন করে মৃত্যু হয়।

করোনা ভাইরাস মূলত শ্বাসতন্ত্রে সংক্রমণ ঘটায়। এর লক্ষণ শুরু হয় জ্বর দিয়ে, সঙ্গে থাকতে পারে সর্দি, শুকনো কাশি, মাথাব্যথা, গলাব্যথা ও শরীর ব্যথা। সপ্তাহখানেকের মধ্যে দেখা দিতে পারে শ্বাসকষ্ট। উপসর্গগুলো হয় অনেকটা নিউমোনিয়ার মতো। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভালো হলে এ রোগ কিছুদিন পর এমনিতেই সেরে যেতে পারে। তবে ডায়াবেটিস, কিডনি, হূদযন্ত্র বা ফুসফুসের পুরোনো রোগীদের ক্ষেত্রে ডেকে আনতে পারে মৃত্যু। করোনা ভাইরাসের কোনো টিকা বা ভ্যাকসিন এখনো তৈরি হয়নি। ফলে এমন কোনো চিকিত্সা এখনো মানুষের জানা নেই, যা এ রোগ ঠেকাতে পারে। আপাতত একমাত্র উপায় হলো যারা এরই মধ্যে আক্রান্ত হয়েছেন বা এ ভাইরাস বহন করছেন—তাদের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা।

করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহে চীনফেরত এক নারীকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাকে হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে রাখা হয়েছে। গতকাল দুপুর দুইটার দিকে তাকে ভর্তি করা হয় বলে হাসপাতালের পরিচালক ফরিদুল ইসলাম নিশ্চিত করেছেন। হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, চীনের ঐ নাগরিক জ্বর, সর্দি ও ব্যথায় অসুস্থ হয়ে পড়লে গতকাল দুপুরে তাকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। জানা গেছে, ৪ ফেব্রুয়ারি তিনি চীন থেকে বাংলাদেশে আসেন। তিনি নীলফামারীর উত্তরা ইপিজেডে একটি কোম্পানিতে কর্মরত। তার রক্ত, লালা ও ঘাম ঢাকায় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে (আইইডিসিআর) পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে বলে হাসপাতালের পরিচালক জানিয়েছেন। হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, এ নিয়ে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চার জন করোনা ভাইরাস সন্দেহে ভর্তি হন। এর আগের তিন জন ছিলেন চীনফেরত বাংলাদেশের শিক্ষার্থী। এই তিন জনের মধ্যে এক জনের করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের লক্ষণ না থাকায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। আর দুই জন শিক্ষার্থীকে ঢাকায় পাঠানো হয়। এদিকে নতুন করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের মধ্যে চীনের উহান থেকে দেশে ফেরা ৩১২ জন দুই সপ্তাহ পর্যবেক্ষণ শেষে বাড়ি ফিরে গেলেও আরো ১০ দিন তাদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে বলেছে সরকারের রোগ তত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান, আইইডিসিআর। রবিবার আইইডিসিআরের নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, ‘৩১২ জনের সবাই সুস্থ আছেন।  তার পরও ‘অতিরিক্ত সতর্কতা’ হিসেবে তাদের আরো ১০ দিন নজরে রাখা হবে। তারা যেন জনসমাগম এড়িয়ে চলেন। খুব বেশি প্রয়োজন না হলে তারা যেন বাড়িতে অবস্থান করেন। বাড়ির বাইরে গেলেও মাস্ক ব্যবহার করবেন। অপরদিকে চীনফেরত এক ছাত্রকে বরগুনায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এদিকে, উহান থেকে ১৭৫ জনকে দেশে ফিরিয়ে নিয়েছে নেপাল। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাহেন্দ্র শ্রেষ্ঠা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানান, রবিবার ভোররাতে ১৩৪ পুরুষ ও ৪১ নারীকে নিয়ে নেপাল এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামে। দেশে ফেরা এ নাগরিকদের রাজধানীর কাছে ভক্তপুর শহরে দুই সপ্তাহ ‘পৃথক অবস্থায়’ নজরদারির মধ্যে রাখা হবে। পৃথক অবস্থায় তারা চিকিত্সকের নিবিড় পর্যবেক্ষণে থাকবেন। দুই সপ্তাহ পরও সুস্থ থাকলে তাদের বাসায় ফেরার অনুমতি দেওয়া হবে।