জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতেই রাজধানীতে এডিস মশার উপদ্রব

আপডেট : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০৫:০৪

শীত কমার সঙ্গে সঙ্গে রাজধানীসহ সারাদেশে বাড়ছে মশার উপদ্রব। এখনই মশক দমনে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে আবারও দেশে ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়বে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ইতিমধ্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, ১ জানুয়ারি থেকে গতকাল রবিবার পর্যন্ত সারাদেশে ডেঙ্গু জ্বর সন্দেহে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২৩১ জন। এর মধ্যে ২২৩ জন হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। শুধু রাজধানীতে ডেঙ্গু সন্দেহে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৭১ জন।

আগে জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসে এডিস মশার উপদ্রব তেমন ছিল না। তবে এবার জানুয়ারি মাস থেকেই নগরীতে এডিস মশার উপস্থিতি বেশি পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক কবিরুল বাশার। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে ‘ডেঙ্গু সার্ভিলেন্স অ্যান্ড প্রেডিকশন প্রোজেক্ট’-এর আওতায় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় মশার উপস্থিতি নিয়ে গবেষণা করছেন তিনি। কবিরুল বাশার বলেন, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকাকে ছয়টি অঞ্চলে ভাগ করে জানুয়ারির ১ তারিখ থেকে মশার উপস্থিতি দেখা হচ্ছে। এই জরিপ চলবে আগামী দুই বছর। এই জরিপে দেখা গেছে, জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসেও রাজধানীর কয়েকটি এলাকায় ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশার উপস্থিতি রয়েছে। এখন উপস্থিতি কম থাকলেও তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মার্চ-এপ্রিলের দিকে এর আরো প্রকপ বাড়বে। তাই বৃষ্টি হওয়ার আগে আগেই মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করার উদ্যোগ নিতে হবে। এক্ষেত্রে দুই সিটি করপোরেশন থেকে এখনই মশার লার্ভা জন্মানো স্থান পরিষ্কারে বিজ্ঞপ্তি দিতে হবে। তা ধ্বংসে মাঠে নামতে হবে।

এদিকে সিটি করপোরেশন মশক নিয়ন্ত্রণে নানা কার্যক্রম চালানোর কথা থাকলেও নগরবাসীর অভিযোগ, তেমন কোনো কার্যক্রম চালাচ্ছে না তারা। সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে মশার উত্পাতে থাকা যাচ্ছে না। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৫৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাইফুল ইসলাম জানান, সন্ধ্যা হলেই মশার জন্য বাইরে বের হওয়া মুশকিল হয়ে যায়। অন্যদিকে ৫০ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা জাকির হোসেন বলেন, ‘বিমানবন্দর এলাকায় দেখা যায়, বিকাল হলেই মশা হাত দিয়ে সরিয়ে রাস্তায় হাঁটতে হচ্ছে। এমন মারাত্মক অবস্থা আগে কখনো দেখিনি।’

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন দুই সপ্তাহব্যাপী মশা দমনে ক্রাশ প্রোগ্রাম শুরু করলেও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মশা দমনে তেমন কোনো কার্যক্রম শুরু করতে দেখা যায়নি। অন্যদিকে স্প্রে না করে লার্ভিসাইডিং প্রয়োগ করার জন্য পরামর্শ দিয়েছেন কীটতত্ত্ববিদেরা। উত্তর সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র জামাল মোস্তফা বলেন, ‘আমাদের দুই সপ্তাহব্যাপী ক্রাশ প্রোগ্রাম শুরু হয়েছে। জনগণ নিশ্চয়ই এর সুফল পাবে বলে আমরা আশা করছি। ক্রাশ প্রোগ্রামে নিয়মিত ফগার মেশিনের পাশাপাশি ডিএনসিসির আনা নতুন তিন ধরনের যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হবে।’