খেলাপি ঋণ পুনঃ তপশিলীকরণ যা করণীয়

আপডেট : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২১:২২

খেলাপি ঋণ বাংলাদেশের একটি জাতীয় সমস্যা। বর্তমানে এটি অনেক বেড়ে গেছে। দেশের পুরো অর্থনীতিই এর কোপানলে পড়েছে। সম্প্রতি সরকার ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্টে ৯ শতাংশ সুদে ১০ বছর মেয়াদে পুনঃ তপশিলের সুযোগ দিয়েছে। ঋণ নিয়মিতকরণে এর চেয়ে নমনীয় সুযোগ অতীতে কখনো দেওয়া হয়নি। তাই সমালোচনাও বেশি। কিন্তু বিশাল অঙ্কের খেলাপি ঋণ এখন বাস্তবতা। ধারণা করা যায়, এ থেকে বেরিয়ে আসার সদিচ্ছা থেকেই সরকার এমন সুযোগ দিয়েছে। সর্বশেষ নীতিমালার আলোকে অনেক খেলাপি ঋণই পুনঃ তফসিল করা হয়েছে এবং আরো হবে। চূড়ান্ত হিসাবে খেলাপি ঋণ অনেক কমে যাবে। এতে ব্যাংকারদের খুব বেশি আত্মতৃপ্তির সুযোগ নেই। বর্তমান সুযোগের প্রকৃত ব্যবহার নিশ্চিতে কাজ করা সংশ্লিষ্ট সবারই দায়িত্ব। ঋণ নিয়মিতকরণের পর গ্রাহকরা যাতে নির্বিঘ্নে ব্যবসা চালিয়ে পুনঃ তপশিলকৃত ঋণের কিস্তি শোধ করে সে বিষয়ে সার্বক্ষণিক ব্যাংকারদের তদারকি বা নজরদারি রাখতে হবে। গ্রাহকরাও তাদেরকে দেওয়া এ সুযোগ আন্তরিকভাবে কাজে লাগাবে, এটাই প্রত্যাশিত। ইচ্ছে-খেলাপী, স্বভাবজাত খেলাপিদের এ ধরনের মানসিকতা পরিবর্তন করতে হবে। ব্যাংকের অর্থায়ন, ব্যবসার ভালো-মন্দ, ঋণখেলাপি হওয়া, কিস্তি পরিশোধ না করা—এসব শুধু ব্যাংকার এবং গ্রাহকের বিষয় নয়, সবকিছুতেই এসবের প্রভাব আছে। গ্রাহকরা যাতে একটি নমনীয় সুযোগের সদ্ব্যবহার করে—সরকারকে সে বিষয়ে কঠোর হতে হবে। অন্যদিকে ব্যাংকারদেরও আরো দায়িত্বশীল ও সতর্ক হতে হবে। তাহলে হয়তো খেলাপি ঋণ পুনঃ তপশিলের সর্বশেষ নীতিমালা সার্থক হবে।

মো. আশরাফুল ইসলাম

এসপিও, ডিসিপ্লিনারি ডিপার্টমেন্ট,

জনতা ব্যাংক লি., প্রধান কার্যালয়,

মতিঝিল বা/এ, ঢাকা ১০০০