শুক্রবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২২, ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

পটুয়াখালী-২: আওয়ামী লীগের অবস্থান সুবিধাজনক, বিএনপি পিছিয়ে

আপডেট : ২৪ ডিসেম্বর ২০১৮, ১৭:৫৮

একাদশ জাতীয সংসদ নির্বাচনের তারিখ যত ঘনিয়ে আসছে পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর পক্ষে প্রচার প্রচারণা তত সরগরম হয়ে উঠছে।

এই আসনে নৌকা প্রতীকের হেভিওয়েট প্রার্থী ছয়বার নির্বাচিত সাংসদ জাতীয় সংসদের চীফ হুইপ আ.স.ম. ফিরোজ দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতায় থাকায় এলাকায় একদিকে উন্নয়ন কার্যক্রম, অপরদিকে দলীয় সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন। নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে তিনিসহ সেখানকার দলীয নেতা-কর্মীরা নেমে পড়েছে গণসংযোগে। প্রতীক বরাদ্দের পর আটঘাট বেঁধে নেমেছেন মিছিল-মিটিং ও সভা-সমাবেশসহ প্রচার প্রচারণায়।

এক কথায় বলা যায়, সেখানে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা এখন তুঙ্গে। তাছাড়া এলাকায় দলীয় নেতাদের মধ্যে কিছুটা অর্ন্তদ্বন্দ্ব থাকলেও তা তারা ইতিমধ্যে মিটিয়ে একাট্টা হয়ে মাঠে নেমেছে। এ অবস্থায় আওয়ামী লীগ এখন সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে।

এদিকে বিএনপির প্রার্থী হয়েছেন নতুন মুখ সাবেক এমপি সহিদুল আলম তালুকদারের সহধর্মিনী সালমা আলম। দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় বিএনপির দলীয় কার্যক্রমে স্থবিরতা এবং প্রার্থীতা নিয়ে দোটানায় সময়ক্ষেপন হওয়ায় দলের নেতা-কর্মীরা ঘর গুছিয়ে জনগণের দোড়গোড়ায় পৌঁছুতে বিলম্ব ঘটে। এতে সেখানে প্রচার প্রচারণায় বিএনপি পিছিয়ে রয়েছে।

আওয়ামী লীগের দূর্গ হিসাবে পরিচিত পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসন। এই আসনে ১৯৭০ সালের নির্বাচনে এবং স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালে আওয়ামী লীগের প্রবীণ রাজনীতিবিদ অ্যাডভোকেট খন্দকার আবদুল আজিজ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে এই আসনে ১৯৭৯, ১৯৮৬, ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে এমপি নির্বাচিত হন বরিশাল সরকারী বিএম কলেজের সাবেক ভিপি বাউফল উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আ.স.ম. ফিরোজ। 

আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটি হওয়া সত্বেও ২০০১ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের হাতছাড়া হয় এই আসনটি। নির্বাচিত হন বিএনপির প্রার্র্থী সহিদুল আলম তালুকদার। ২০০৮ সালের নির্বাচনে আসনটি পুনরুদ্ধার করে নেন আওয়ামী লীগের আ.স.ম. ফিরোজ। ২০১৪ সালের নির্বাচনে পুনরায় নির্বাচিত হলে আ.স.ম. ফিরোজকে জাতীয় সংসদের চীফ হুইপ নির্বাচিত করা হয়।

আরও পড়ুনঃ পটুয়াখালী-১: ধানের শীষের আলতাফ লড়বেন নৌকার শাহজাহানের বিপরীতে

এবারের নির্বাচনে এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ৪ জন হলেন আওয়ামী লীগের আ.স.ম. ফিরোজ (নৌকা), বিএনপির সালমা আলম (ধানের র্শীষ), ইসলামী আন্দোলনের মো. নজরুল ইসলাম (হাতপাখা) ও কমিউনিস্ট পার্টির মোঃ সাহাবুদ্দিন আহমেদ (কাস্তে) প্রতীক। এখানে বিএনপির মূল প্রার্থী ছিলেন বিএনপির সাবেক এমপি মোঃ সহিদুল আলম তালুকদার। দুদকের মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত হওয়া সংক্রান্ত জটিলতার কারণে বিএনপি তার সহধর্মিনী নতুন মুখ সালমা আলমকে মনোনয়ন দেয়।

ইত্তেফাক/নূহু