জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার সাতানীপাড়া সীমান্তের শূন্যরেখায় এক ব্যক্তির অবস্থানকে কেন্দ্র করে এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার (১২ জুন) দুপুরে মধ্যবয়সী ওই ব্যক্তিকে শূন্যরেখা অতিক্রম করে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করতে দেখে স্থানীয় বাসিন্দারা বাধা দেন। এরপর থেকে তিনি সীমান্তের শূন্যরেখাতেই অবস্থান করছেন।
বিকেলে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর সদস্যরা। তবে আলোচনা শেষে উভয় পক্ষই ওই ব্যক্তিকে শূন্যরেখায় রেখেই সেখান থেকে ফিরে যান।
জামালপুর ৩৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের সহকারী পরিচালক ইমাম হোসেন বলেন, এখানে কোনো পুশ ইনের চেষ্টার ঘটনা ঘটেনি। ওই ব্যক্তি স্থানীয় বাসিন্দা ও মানসিক ভারসাম্যহীন। বিভিন্ন জায়গায় ঘোরাঘুরি করতে করতে হয়তো সেখানে গিয়েছেন। শূন্যরেখায় লোকটিকে দেখে বিএসএফ সদস্যরা সেখানে এসেছিলেন। পরে তারাও সেখানে গিয়েছিলেন। পরে বিএসএফ চলে যায় এবং তারাও চলে আসেন। এটাকে পুশ ইনের ঘটনা বলা যাবে না।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, আজ দুপুরে ওই সীমান্ত এলাকায় স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা কৃষিকাজ করছিলেন। এ সময় ভারত সীমান্ত থেকে বাংলাদেশে ওই ব্যক্তিকে প্রবেশ করতে দেখে স্থানীয় লোকজন বাধা দেন। এর পর থেকে ওই ব্যক্তি শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন। খবর পেয়ে আরও স্থানীয় লোকজন সেখানে জড়ো হন। পরে বিএসএফ ও বিজিবির সদস্যরাও যান। কিছুক্ষণ ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদের পর বিজিবির সদস্যরা চলে আসেন। এর পর থেকে ওই ব্যক্তি সেখানে আছেন। গ্রামের লোকজনও সেখানেই আছেন।
এর আগে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার রহিমপুর সীমান্ত দিয়ে গতকাল মঙ্গলবার গভীর রাতে আবার পুশ ইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। তবে বিজিবি ও স্থানীয় রহিমপুর গ্রামের বাসিন্দাদের সতর্ক অবস্থানের কারণে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। আর বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে বকশীগঞ্জ উপজেলার ধানুয়াকামালপুর সীমান্ত দিয়ে বিএসএফের ঠেলে পাঠানো ষষ্টিচন্দ্র বর্মণকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
বিজিবি কর্মকর্তা ইমাম হোসেন বলেন, জামালপুরের সীমান্ত এলাকায় আজ সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত পুশ ইন বা অন্য কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। সীমান্ত এলাকা এখন শান্ত আছে।

