কাশ্মীর নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে জাতিসংঘ মহাসচিবের মধ্যস্থতার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে ভারত। এমনকি কাশ্মীর নিয়ে সমালোচনা করায় এক ব্রিটিশ এমপিকে ফেরতও পাঠিয়েছে দিল্লি। এর আগে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, কাশ্মীর নিয়ে কোনো রকম মধ্যস্থতা মেনে নেওয়া হবে না। —খবর এনডিটিভির
রবিবার ইসলামাবাদে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কোরেশির সঙ্গে বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলনে কাশ্মীর পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস। তিনি কাশ্মীরে মানবাধিকার ও মৌলিক স্বাধীনতাকে সম্মান জানাতে ভারতের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি ভারত ও পাকিস্তানকে সামরিক ও মৌখিক উত্তেজনা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়ে বলেন, দুই দেশ চাইলে তিনি মধ্যস্থতা করতে পারেন। তার এই বক্তব্যকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান স্বাগত জানিয়েছেন।
ভারতের প্রত্যাখ্যান
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রাভিশ কুমার বলেন, ভারতের অবস্থানের কোনো পরিবর্তন হয়নি। জম্মু-কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। জাতিসংঘের বরং যে বিষয়টির দিকে নজর দেওয়া দরকার তা হলো, অবৈধভাবে এবং জোর করে পাকিস্তান যে অঞ্চলগুলো দখল করে রেখেছে সেগুলো তাদের হাত থেকে দখলমুক্ত করা। প্রয়োজনে এ নিয়ে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা হবে। কিন্তু জম্মু-কাশ্মীর বিষয়ে তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতার কোনো ভূমিকা রাখার সুযোগ নেই।
ব্রিটিশ এমপিকে ফেরত
দিল্লি বিমানবন্দর থেকে বাইরে বের হতে দেওয়া হয়নি ব্রিটিশ এমপি ডেব্বি আব্রাহামকে। ই-ভিসা বাতিলের কারণ দেখিয়ে তাকে ফের ব্রিটেনে ফেরত পাঠাতে ঘণ্টাখানেক অপেক্ষা করিয়ে রাখা হয় ডিপোর্ট রুমে। এমপির অভিযোগ, তার সঙ্গে অপরাধীর মতো আচরণ করা হয়েছে ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। গতকাল সকালে এমন অভিযোগ তুলে দিল্লির ব্রিটিশ হাইকমিশনের দ্বারস্থ হন ঐ এমপি। এমপির দাবি, তার ই-ভিসা ২০১৯ অক্টোবর থেকে ২০২০ অক্টোবর পর্যন্ত বৈধ ছিল। যদিও এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
সূত্রের খবর, জম্মু-কাশ্মীর প্রসঙ্গে ভারত সরকারের নীতির সমালোচক এই ব্রিটিশ এমপির এহেন হেনস্থা খানিকটা বিশ্বমঞ্চে বার্তা প্রদান। ইতিমধ্যে, মিউনিখে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর কাশ্মীর সমস্যা সমাধানে পাকিস্তানকে পাশে নিতে অস্বীকার করেছে। রিপাবলিকান সিনেটরের তোলা সেই প্রস্তাব মুখের ওপর খারিজ করে দিয়েছেন জয়শঙ্কর। এর আগে তুরস্কের মধ্যস্থতার প্রস্তাবও প্রত্যাখ্যান করে নয়াদিল্লি।
