আবু বকর রায়হান
কারো হাতে ফুলের নকশা, আবার কারো হাতে তারা এঁকে দিচ্ছিলেন সহপাঠীরা। পাশেই জটলা বেঁধে নকশা আঁকা হাতের ছবি তুলছিলেন কয়জন। মেহেদি রাঙা হাতে চলছিল আনন্দ-উল্লাস। বলছিলাম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত মেহেদি উত্সবের কথা। বসন্তের আগমনী বার্তা নিয়ে মেহেদি উত্সবে মেতেছিল পুরো ক্যাম্পাস।
মঙ্গলবার সকাল থেকেই ক্যাম্পাসের ব্যাডমিন্টন মাঠের পাশে মেহেদির পসরা সাজিয়ে বসেন একদল শিক্ষার্থী। মেহেদি পরতে উত্সাহ নিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে আসেন ছাত্রীরা। একসময় শুরু হয় মেহেদি পরানোর কাজ। বিভিন্ন জায়গায় জটলা করে হাতে মেহেদি পরানো শুরু হয়। মেহেদি রঙে হাত রাঙিয়ে চলছিল উল্লাস।
মেহেদি পরছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আনিকা বুসরা। কথা হয় তার সঙ্গে। ‘ক্যাম্পাসে মেহেদি উত্সব হওয়ায় আমাদের মাঝে অন্যরকম আমেজ বিরাজ করছে। এই উত্সবের মাধ্যমে সিনিয়র-জুনিয়রদের মধ্যে অন্যরকম একটি সম্পর্ক তৈরি হচ্ছে। সহপাঠীদের সঙ্গে মেশার সুযোগ তৈরি হচ্ছে নতুন করে। এই উত্সবের মাধ্যমে আমরা আমাদের বাঙালি সংস্কৃতিতে মিশে যেতে পারছি।’
পাশেই মেহেদি পরতে অপেক্ষা করছিলেন গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী ইসরাত জাহান। ‘ঈদের আগের রাতে ও বিভিন্ন উত্সবে মেহেদি পরার ধুম ছিল। সময়ের আবর্তনে মেহেদি পরার সেই রীতি হারিয়ে যাচ্ছে। সেখান থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বড়ো আপুরা এ আয়োজন করেছেন। মনে হচ্ছে আমরা আমাদের সংস্কৃতিতে ফিরে যাচ্ছি। আশাকরি সবসময় এমন উত্সবমুখর থাকবে ক্যাম্পাস।’ এভাবেই তার আবেগের কথা জানান তিনি।
স্নাতকোত্তর শেষ হতে আর বেশি বাকি নেই ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগের নবম আবর্তনের। প্রিয় শিক্ষালয়ের শেষ বসন্তকে রাঙিয়ে রাখতে এই উত্সবের আয়োজন করে ব্যাচটি। নবম আবর্তনের শিক্ষার্থীরা জানান, ছোটো বোনদের সঙ্গে বসন্তের মেহেদি উত্সব রাঙাতে একদম বিনামূল্যে এ আয়োজন করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থীকে এ উত্সব থেকে মেহেদি পরিয়ে দেওয়া হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে মেহেদি পরিয়ে দিচ্ছিলেন ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থী তাসনিম বিনতে করিম। মেহেদি পরিয়ে দেওয়া অবস্থায় তিনি বলছিলেন,‘আমরা হয়তো আগামী বসন্তে ক্যাম্পাসে থাকব না। শেষ সময়গুলো বন্ধু-বান্ধবীদের সঙ্গে একটু আনন্দ করতে এ আয়োজন। এ বসন্ত মেহেদি উত্সবে রাঙাতে পেরে ভালো লাগছে আমাদের।’
