ভাষা হোক উন্মুক্ত

আপডেট : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৮:২৬

হোক প্রতিবাদের ধ্বনি

মাতৃভাষাকে প্রতিনিয়ত কলুষিত করছি আমরা

ওয়াসিম রিয়াদ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

 

একুশের চেতনা মানে শুধু খালি পায়ে শহিদ মিনারে ফুল দেওয়া নয়, এর সঙ্গে জুড়ে আছে আমাদের আবেগ, অনুভূতি, ইতিহাস, ঐতিহ্য আর সংগ্রাম। এই মাস বাঙালি জাতির কাছে বিশেষ করে তরুণ সমাজের কাছে একটি প্রেরণা। একুশ শেখায় কারো কাছে মাথা নত না করে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার। আমরা  মাতৃভাষাকে ছিনিয়ে আনতে পেরেছি ঠিকই কিন্তু ভাষার সম্পূর্ণ মর্যাদা দিতে পেরেছি কি?

আমরা বর্তমানে বিদেশি ভাষাকে যেভাবে গুরুত্ব দিচ্ছি মাতৃভাষাকে তেমন গুরুত্ব দিচ্ছি কি? ভাষার বিকৃত ব্যবহার এবং বাংলার সঙ্গে বিদেশি ভাষার সংমিশ্রণে ভাষাকে প্রতিনিয়তই কলুষিত করছি।

 

ভাষা হোক উন্মুক্ত, হোক প্রতিবাদের ধ্বনি

সানজিদা ইসলাম, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়

 

একুশের ভাষা আন্দোলনের সঙ্গে মিশে আছে অনেক ত্যাগ, তারুণ্যের গৌরবগাথা ইতিহাস।

১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কো বাংলা ভাষা আন্দোলন, মানুষের ভাষা এবং কৃষ্টির অধিকারের প্রতি সম্মান জানিয়ে ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে যা বৈশ্বিক পর্যায়ে গভীর শ্রদ্ধা ও যথাযোগ্য মর্যাদার সঙ্গে উদ্যাপন করা হয়। আমরা দিব্যি শিক্ষিত হয়ে যাচ্ছি এবং সেই সঙ্গে চালিয়ে যাচ্ছি ভাষার অপব্যবহার, বানান বিকৃতি, ভাষার বিকৃতি। বাচনভঙ্গির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে উন্নত হোক ভাষার প্রতি ভালোবাসা। ভাষা হোক উন্মুক্ত, হোক প্রতিবাদের ধ্বনি।

 

শহিদদের কেন নির্দিষ্ট দিবসে স্মরণ করা হয়

মো. শরিফুল ইসলাম, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়

 

মহান ভাষা আন্দোলনে নিজেদের জীবনের বিনিময়ে প্রতিষ্ঠা করে গেছেন মাতৃভাষা বাংলা। কিন্তু দুঃখের বিষয় আমরা এই মহান শহিদদের স্মরণ করি। শুধু নির্দিষ্ট দিবসে এটাই কি তাদের প্রাপ্তি ছিল?  ভাষার মাস আসলেই আমরা তাদের স্মরণ করি। তাদের প্রশংসায় সভা, সেমিনার, সিম্পোজিয়াম করে থাকি।

যাদের রক্তের বিনিময়ে আমরা নিজ ভাষায় কথা বলার অধিকার লাভ করেছি, তাদের স্মরণ এবং কল্যাণে সর্বদা কাজ করা আমাদের নৈতিক দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।

 

বাঙালি জাতির জন্য বাংলা ভাষার অস্তিত্ব

উম্মে হাবিবা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

 

বিশ্বপরিমণ্ডলে বাঙালি জাতির স্বীকৃতি এবং পরিচিতির প্রথম বাহক এই বাংলা ভাষা। এ ভাষা মায়ের মুখে শেখা ভাষা, এটি ছাড়া জাতি অস্তিত্বহীন।

তাই ভাষাকে অবশ্যই ভালোবাসতে হবে। আমাদের তরুণদের মধ্যে জাতির অস্তিত্ব রক্ষার, মায়ের ভাষা সংস্কৃতি রক্ষার এবং পশ্চিম পাকিস্তানের অন্যায়ের বিরুদ্ধের ইতিহাস তুলে ধরতে হবে। এতে ভাষা ও তারুণ্য দুটো হবে তরুণদের কাছে প্রেরণার।

—এ বি এস ফরহাদ