স্পোর্টস ডেস্ক
স্প্যানিশ গণমাধ্যম মার্কার সুবাদে বার্সেলোনা ফুটবল ক্লাবের অজানা ও অন্ধকার এক অধ্যায় সবার সামনে চলে আসল। গণমাধ্যমটি দাবি করেছে, বার্সেলোনা ‘আইথ্রি ভেঞ্চারস’ নামের একটা জনসংযোগ প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ দিয়েছে। আর এই প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কাজ হলো বার্সেলোনার সভাপতি জোসেফ মারিয়া বার্তেমিউ-এর একটা পরিষ্কার ভাবমূর্তি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তুলে ধরা। তাত্ক্ষনিক প্রতিক্রিয়ায় অভিযোগ অস্বীকার করেছে বার্সেলোনা।
এখানেই শেষ নয়, এই প্রতিষ্ঠানটিকে প্রয়োজনে নিজের খেলোয়াড়, সাবেক খেলোয়াড় কিংবা প্রতিপক্ষের সমালোচনার জন্য একটা মোক্ষম হাতিয়ার হিসেবেও ব্যবহার করে আসছে বার্সেলোনা।
সর্বশেষ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্লাবের স্পোর্টিং ডিরেক্টর এরিক আবিদালের সরাসরি বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন লিওনেল মেসি। সেই জটিলতা নিরসনে হাজির হন বার্তেমিউ। তিনি লম্বা বৈঠক করেন আবিদালের সঙ্গে। ব্যাপারটা মোটামুটি এখন চুকেবুকে গেছে। এই ঘটনায় বার্তেমিউকেই ‘নায়ক’ মনে হতে পারে। তবে, আসল ব্যাপার হলো এখানে তাকে নায়ক হিসেবে মানতে বাধ্য করা হয়েছে। আর বাধ্য করেছে ঐ জনসংযোগ প্রতিষ্ঠানের বানানো শতাধিক ‘নকল’ টুইটার ও ফেসবুক অ্যাকাউন্ট। কাতালান ক্লাবটির নির্দেশেই তারা এসব অ্যাকাউন্ট দিয়ে প্রয়োজনে কখনো বার্তেমিউকে নায়ক বানায়, কখনো অন্য কাউকে বানায় খলনায়ক। জানা গেছে, এই অ্যাকাউন্টগুলো থেকে মেসি, জাভি, জোর্ড পিকে, পেপ গার্দিওলা, কার্লোস পুয়োল, হুয়ান লাপোর্তার মতো শীর্ষস্থানীয় ক্লাব সংশ্লিষ্টদের অতীতে আক্রমণ করা হয়েছে।
উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, অভিযোগপ্রাপ্ত কয়েকটা অ্যাকাউন্ট থেকে কয়েকবার মেসিকে আক্রমণ করে বলা হয়েছিল কেন তিনি বার্সেলোনার সঙ্গে চুক্তি নবায়ন করছেন না। আবার জেরার্ড পিকে যখন ডেভিস কাপ কিংবা নিজের ব্যবসা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন, তখন তার নামেও কুত্সা রটানো হয়েছিল।
এই অসংখ্য অ্যাকাউন্ট দিয়ে নিজেদের কার্যসিদ্ধি সূচনাটা হয় ২০১৭ সালে। এই অ্যাকাউন্টগুলো আসলে কোনো নীতি-নৈতিকতার তোয়াক্কা করছে না। কারণ, বেশ অনেকবারই এরা অশোভন সব শব্দ নিজেদের লেখায় ব্যবহার করেছেন। জানা গেছে, বার্তেমিউ ও তার ক্লাবের ভাবমূর্তি রক্ষার এই চুক্তিতে বার্সেলোনার প্রায় এক মিলিয়ন ইউরো ব্যয় করতে হয়েছে। আর এই অর্থটা তারা দিচ্ছে ছয়টি আলাদা ভাগে। বার্সেলোনা ক্লাব কর্তৃপক্ষ অবশ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের এসব অ্যাকাউন্টের সঙ্গে নিজেদের যোগাযোগ বা কোনো রকম চুক্তির কথা অস্বীকার করেছে। তবে, বার্তেমিউ অ্যান্ড কোং এখনো এই ব্যাপারে কোনো তথ্য-প্রমাণ দেখাতে পারেনি। এই দফায় বিতর্কের জল ন্যু ক্যাম্পে আরো কতদূর গড়ায় এখন সেটাই দেখার ব্যাপার।
