অনেক টেস্ট খেলতে চান রাহি

আপডেট : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২১:৪৬

স্পোর্টস রিপোর্টার

বয়স মাত্র ২৬। টেস্ট খেলেছেন সবমিলিয়ে আটটা। কিন্তু ঘটনাচক্রে তিনিই এখন বাংলাদেশের টেস্ট পেসারদের ‘লিডার’। অবশ্য আবু জায়েদ রাহি নিজে এভাবে চিন্তা করেন না। তিনি তার ছোট্ট এই ক্যারিয়ারটাকে যতদূর সম্ভব লম্বা করার চিন্তা করেন। সে জন্য যা করতে হয়, সেই পারফরম্যান্স ও পরিশ্রম করে যাওয়াই তার চিন্তা।

ভারত সফরে মোহাম্মদ শামির কাছে গিয়েছিলেন টিপস নেওয়ার জন্য। তিনি বলেছেন, চাষ দেওয়া জমিতে দৌড়ানোর মতো পরিশ্রম করতে হবে। এই কথাটা মনে ঢুকেছে রাহির। তিনি এখন পরিশ্রমটাকেই নিজের প্রধান লক্ষ্য করেছেন। নিজেকে কীভাবে আরো টেকসই করা যায়, সেই চিন্তা থেকে বলছিলেন, ‘অনেক টেস্ট খেলতে চাই। এখন পর্যন্ত আটটা টেস্ট খেলেছি। অন্তত ৫০ থেকে ৭৫টা টেস্ট খেলতে চাই।’

রাহি আপাতত শুধু টেস্ট বোলার বলেই বিবেচিত হচ্ছেন। ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি খেলেছেন বটে। কিন্তু এখনই তিনি ওয়ানতে বা টি-টোয়েন্টির চিন্তা মাথায় নিয়ে ঘুরছেন না। বলছিলেন, ‘থাকব কি থাকব না, এ রকম চিন্তা ঢুকলে পারফরম করা কঠিন। এক ফরম্যাটেই খেলব, এটা জানা থাকলে ভালো খেলা সহজ হয়ে যায়।’

রাহির কাছে তার কাজটা খুব সরল। দলে কত জন পেসার থাকবে, কী হবে—এসব চিন্তা না করে তিনি ম্যাচে তার ওপর যে দায়িত্ব থাকে, সেটা পালন করা নিয়েই ভাবেন। বলছিলেন, ‘দলের জন্য কী করতে হবে, সেটা জানাটাই আসল। দুই পেসার খেলবে নাকি এক পেসার, তা এখনো জানি না। বিসিএল বা ন্যাশনাল লিগে স্পিনাররা বেশি রান দিলে পেসারদের কাজ হয় রান কম দেওয়া। এতে স্পিনাররা পরে এসে উইকেট নিতে পারে। টিমের জন্য যেটা কাজে লাগবে, সেটা করাই আসল মোটিভিশন।’

একটা সময় ছিল বাংলাদেশের পেসাররা টেস্টে এক ইনিংসে দু-চার ওভারের পর আর বল করার সুযোগ পেতেন না। সেটা নিয়েও অভিযোগ নেই রাহির, ‘তখন হয়তো প্রয়োজন ছিল না। ও তখন হয়তো বলটাকে পুরোনো করে দেওয়াটাই তার কাজ ছিল। পরে স্পিনাররা এসে কাজ করেছে।’

এর মধ্যে আবার বোলিং কোচ বদলে গেছেন। শার্ল ল্যাঙ্গাভেল্টের জায়গায় ওটিস গিবসন এসেছেন। রাহি বলছিলেন, কোচদের যাওয়া আসা নিয়ে তিনি চিন্তিত না। কোন কোচের কাছ থেকে ভালো কী শিখতে পারলেন, সেটাই ব্যাপার, ‘কোচের কাছ থেকে ভালো জিনিসটা মনে রাখার চেষ্টা করি এবং সেভাবেই কাজ করি। কোচ চলে যাওয়া বা আসা আমাদের হাতে নেই। যারা ছিলেন, তাদের কাছ থেকে শেখা ভালো জিনিসটা মনে রাখার চেষ্টা করি। এটার কোনো বিকল্প নেই।’

শেষ পর্যন্ত নিজের পারফরম্যান্সটা করে যেতে চান। এর জন্য সিনিয়ররা যা বলেন, তাই করেন তিনি ম্যাচে, ‘পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে যে, কী করতে হবে। যখন অধিনায়ক বলবে ঠিক জায়গায় বোলিং করার, তখন তাই করতে হবে। রিয়াদ ভাই, সৌরভ ভাই দুই থেকে তিন রানের বেশি না দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিল। আমরা সেভাবে করেছি। তামিম ভাইও বোলারদের খুব পরামর্শ দিচ্ছে। একটু সময় দিলে আশা করি খুব ভালো হবে।’