ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা আর বিজেপির প্রতিহিংসার শিকার তাপস পাল। সে কারণেই তাকে অকালে চলে যেতে হলো। বুধবার কলকাতার রবীন্দ্র সদনে তাপস পালের শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর এই অভিযোগ করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি।
মঙ্গলবার ভোরে মুম্বাইয়ের এক হাসপাতালে মারা যান বাংলা সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেতা তাপস পাল। বুধবার কলকাতায় তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। তার আগে রবীন্দ্র সদনে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানান সাধারণ মানুষ। সেখানে মমতা কিছুটা ক্ষুব্ধ কণ্ঠে বলেন, ‘আজ আমি একটা কথা বলতে চাই। ভাববেন রাজনীতি করছি। কিন্তু, আমি বলতে বাধ্য হচ্ছি। তাপস মানসিকভাবে নিজেকে বিপর্যস্ত করে ফেলেছিল। বিজেপির চাপে ও ক্ষতবিক্ষত হয়ে গিয়েছিল। মৃত্যুর আগে পর্যন্ত জানতেই পারল না ওর দোষটা কোথায়। একটা এন্টারটেইনমেন্ট চ্যানেলের ডিরেক্টর ছিল। সেজন্য মাইনে পেয়েছিল। সামান্য এই কারণের জন্য ওকে অ্যাডভান্স জেলে রাখা হলো। কোনও চার্জশিটও পেশ করা হয়নি। এটা কেমন নিয়ম? শিল্পীরা বিভিন্ন প্রোডাকশন হাউসে কাজ করে। বিভিন্ন সংস্থার ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবেও কাজ করে। তাই বলে অকালে ঝরে যাবে মূল্যবান প্রাণগুলো। সেগুলো কি ঠিক? কেন্দ্রের এই রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক আচরণ এবং প্রতিহিংসামূলক পরিকল্পনার জেরেই আজ অসময়ে চলে গেল তাপস। কেউ যদি আইন ভাঙে, আইন আইনের মতো চলবে। তাই বলে এটা নয় যে, দিনের পর দিন এভাবে লাঞ্ছনা, বঞ্চনা সহ্য করতে হবে। যা সয়েছে তাপস।’ মমতা বলেন, ‘এর আগে একই রকম ভাবে চাপ সামলাতে না পেরে সুলতান আহমেদ এবং প্রসূনের স্ত্রী পারমিতা বন্দ্যোপাধ্যায় মারা গেছেন। তাপসও ফুরিয়ে গেল। অথচ তার যাওয়ার কথা নয়। এ তার অকালমৃত্যু।’
