অনুশীলন ম্যাচে ভালো করতে পারলে মূল টুর্নামেন্টে ভালো হবে—এই কথাটাই গত কিছুদিন ধরে বলছিলেন বাংলাদেশ নারী দলের খেলোয়াড়রা। কিন্তু বৃষ্টি বাগড়ায় প্রথম অনুশীলন ম্যাচটা মাঠেই গড়ায়নি। অবশেষে গতকাল অনুশীলন ম্যাচ খেলতে পারল বাংলাদেশ। আর এই ম্যাচে পাকিস্তানকে ৫ রানে হারিয়ে আত্মবিশ্বাসটা বাড়িয়ে নিল সালমা খাতুনের দল।
আগে ব্যাট করা বাংলাদেশ দল খুব বেশি রান করতে পারেনি; ৮ উইকেটে ১১১ রান করেছিল তারা। কিন্তু জবাব দিতে নামা পাকিস্তানকে ভয়ানক পরীক্ষার মধ্যে ফেলেন জাহানারা খাতুন ও খাদিজা তুল কুবরা। জাহানারা ৪টি এবং খাদিজা ৩টি উইকেট নেন। ফলে পাকিস্তান ইনিংসের ২ বল বাকি থাকতে ১০৬ রানে অলআউট হয়ে যায়।
আগে ব্যাট করা বাংলাদেশ শুরুটা একদমই ভালো করতে পারেনি। দ্বিতীয় ওভারের শেষ তিন বলের মধ্যে ২ উইকেট হারায় তারা। ৩ রান করে শামীমা ও বিনা রানে সানজিদা ফিরে আসেন। এরপর ইনিংসটা চালিয়ে নেন মুর্শিদা খাতুন। তিনি নিগার সুলতানার সঙ্গে একটা জুটি করেন। নিগার ১৩ রান করে আউট হয়ে যান।
এরপর ফিরে আসেন মুর্শিদাও। তিনি ৩৮ বলে ৬টি চারে সাজানো ৪৩ রান করে রানআউট হন। এরপর ফারজানা ২১ রানের একটা ইনিংস খেলেন। আয়েশা ও রুমানা দ্রুত ফিরে আসেন। শেষ দিকে রিতু মনি ১৭ বলে ১৩৪ রানের একটা ইনিংস খেলেন।
জবাব দিতে নামা পাকিস্তানের টপ অর্ডার কাপিয়ে দেন সালমা খাতুন ও জাহানারা আলম। ২৩ রানে পাকিস্তান ৩ উইকেট হারায়। এর মধ্যে সালমা ২ উইকেট তুলে নেন। এক প্রান্তে অপরাজিত থাকেন জাভেরিয়া। তাকে এসে ফেরান খাদিজা। জাভেরিয়া ৪১ রান করেন। অন্য দিকে ১৪ রান করা নিদা দারকে ফেরান পান্না ঘোষ। এরপর আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি পাকিস্তান।
জাহানারা আরো ৩ উইকেট নিয়ে শেষটা ছেঁটে ফেলেন। আর খাদিজা নেন আরো ২ উইকেট। সবমিলিয়ে জাহানারা ২২ রান নিয়ে ৪টি এবং খাদিজা ১১ রান দিয়ে ৩টি উইকেট নেন। এ ছাড়া সালমা ২৮ রান দিয়ে ২টি উইকেট নেন। আর পান্না নেন এক উইকেট।
দুই দল স্কোয়াডের ১৫ জন খেলোয়াড়কেই মাঠে নামার সুযোগ দেওয়ায় এই ম্যাচ আইসিসির স্বীকৃতি পাবে না।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
বাংলাদেশ: ২০ ওভারে ১১১/৮ (মুর্শিদা ৪৩, ফারজানা ২১, রিতু ১৪, নিগার ১৩; আইমান ২/১২, আলিয়া ১/৯, সাদিয়া ১/১০, আনাম ১/১২)।
পাকিস্তান: ১৯.৪ ওভারে ১০৬/১০ (জাভেরিয়া ৪১, আলিয়া ১৮, নিদা ১৪; জাহানারা ৪/২২, খাদিজা ৩/১১, সালমা ২/২৮)।
ফল: বাংলাদেশ নারী দল ৫ রানে জয়ী
