আত্মঘাতী গোলেই বসুন্ধরার সর্বনাশ

আপডেট : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২১:৪৮

দম বন্ধ করা এক লড়াই। কখন যে প্রথমার্ধ কেটে গেল তা বুঝে ওঠারও সুযোগ ছিল না। প্রিমিয়ার ফুটবল শুরু হওয়ার পর গতকালই বোধহয় সবচেয়ে ভালো একটা ম্যাচ দেখেছেন বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে আসা দর্শকরা। যদিও লিগ চ্যাম্পিয়ন বসুন্ধরা কিংসকে ১-১ গোলের ড্রয়ে বাধ্য করেছে নবাগত পুলিশ দল।

কাগজে কলমে পুলিশ ফুটবল দলকে অনেকেই খুব একটা শক্তিশালী মনে করতেন না। বসুন্ধরাও ধরে নিয়েছিল গোল হবেই। হবে হবে করতে করতে গোল হয়েও ছিল। কিন্তু পালটা গোল হজম করতে হয়েছে রক্ষণভাগের দুর্ভাগ্যে।  তাতে এগিয়ে গিয়েও জিততে পারল না দেশের ফুটবলের সবচেয়ে বেশি বাজেটের দলটি। 

এই বসুন্ধরা প্রিমিয়ার লিগের গত আসরে টানা জয়ে অন্যান্য ক্লাবকে কোনঠাসা করেছিল। কোনোভাবেই ঠেকানো যাচ্ছিল না তাদের। অথচ এবারের লিগে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচেই পয়েন্ট খোয়াল তারা। ড্রটিকে তারা হারের চেয়েও বড়ো মনে করছে।

খেলা শেষ হওয়ার পরপরই সংবাদকর্মীরা মাঠে গিয়েছিলেন। কিন্তু বসুন্ধরার স্প্যানিশ কোচ অস্কার ব্রুজন ছিলেন খুবই ক্ষীপ্ত। কোনো কথা না বলে হন হন করে ড্রেসিং রুমে ঢুকে যান তিনি। তবে ড্রেসিং রুমে ঢোকার সময় তিনি বিড়বিড় করছিলেন এক-দুটা ইংরেজি শব্দে। ধারণা করা যায়, রেফারি সোহরাব হাসানের ওপর ক্ষিপ্ত ছিলেন তিনি। রেফারির নানা সিদ্ধান্ত মনঃপূত হয়নি তার।

বসুন্ধরা কিংসের একাধিক বিদেশি ফুটবলারের স্ত্রী নিয়মিত খেলা দেখতে আসেন স্টেডিয়ামে। বউদের গায়েও বসুন্ধরার জার্সি থাকে। ভিআইপি বক্স হতে নেমে যাওয়ার সময় তাদের মুখে অন্যান্য দিনের মতো হাসি ছিল না। জামাইদের ড্রয়ে বউদের মনও খারাপ ছিল। ফিনল্যান্ডে জন্ম বসুন্ধরার কাজী তারিক রায়হান, বাবা বাংলাদেশের। বাংলাদেশের পাসপোর্টে লিগে খেলছেন দেশি ফুটবলারের কোটায়।

তারিক রায়হানও ক্ষিপ্ত।  এই ডিফেন্ডার ভাঙা ভাঙা বাংলায় বললেন, ‘দেখুন না মাঠটা কেমন। এই মাঠে খেলা যায় না। বল বাউন্স করে।’ ম্যাচ ড্র হলো কেন জানতে চাইলে ২১ বছর বয়সি এই ফুটবলার বললেন, ‘আমরা সুযোগ পেয়েছিলাম কাজে লাগেনি। এটা ঠিক হয়ে যাবে।’

 শুরুতেই দুই দলের আক্রমণ ছিল ধারালো। তবে পুলিশের চেয়ে বসুন্ধরার পাল্লাই ভারী ছিল। সুযোগ পেয়েছেও বেশি। কিন্তু কাজে লাগাতে না পারার দোষ তাদেরই। ভাগ্য যেন বিমুখ করেছে। পুলিশের ফুটবলারদের পায়ে স্কিল ছিল। তারাও বসুন্ধরার রক্ষণে গিয়েই শেষ। নিশানা নিখুঁত ছিল না। বুলগেরিয়ার লাসকোভ অ্যান্থনিওর শট বসুন্ধরার গোলকিপার জিকো ফিস্ট করে বাঁচিয়েছেন। আমেরিকান ফুটবলার রিভেরা সিডনি এডামের শট অল্পের জন্য বাইরে যায়। বসুন্ধরার স্ট্রাইকার সবুজ দুইবার সুযোগ নষ্ট করেছেন, ডিফেন্ডার তপু সুযোগ পেয়েও নিতে পারেননি। আর্জেন্টাইন ফুটবলার দেলমন্তের ব্যাকহিল গোল লাইন পার হয়নি।

৫৩ মিনিটে দেলমন্তের শর্ট পুলিশের গোলকিপার সাইফুল ফিরিয়ে দিলে সবুজ পুশ করেন ১-০। ৭২ মিনিটে পুলিশের আক্রমণ ঠেকাতে গিয়ে বেরিয়ে যাওয়া বলটা বসুন্ধরার ডিফেন্ডার নুরুল নাইম ফয়সালের গায়ে  লেগে গোল হয়ে যায় ১-১।

মহাখুশি পুলিশের সার্বিয়ান কোচ নিকোলা ভিটোরোভিচ। হাসি যেন মুখ থেকে সরছিল না। কারণ এটা জয়ের থেকেও বেশি কিছু। নিকোলা বললেন, ‘না না আমি ড্র করেছি। আবাহনীর (২-০) বিপক্ষে ম্যাচের চেয়ে এই ম্যাচটা অন্যরকম হওয়ার কারণ একাদশ পরিবর্তন করা হয়েছে। খুব কম সময়ের মধ্যে একাধিক ম্যাচ খেলতে হচ্ছে। বসুন্ধরার বিপক্ষেও আমি কয়েকজনকে প্রথম মাঠে নামিয়েছি। আমার কাছে মনে হচ্ছে বসুন্ধরার সঙ্গে ড্র করে বোনাস পয়েন্ট পেয়েছি।’

একই ভেন্যুতে দিনের অপর খেলায় রহমতগঞ্জ ও শেখ রাসেল গোলশূন্য ড্র করে।

আগামীকালের খেলা : আবাহনী ও ব্রাদার্স। ৬টা ৩০,

(বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম)।