দেশে জাতীয় পুষ্টি পরিস্থিতির তুলনায় নগরীর বস্তি এলাকা, পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকার জনগোষ্ঠী ও পোশাক শিল্পে কর্মরত নারীদের পুষ্টি পরিস্থিতি তুলনামূলক খারাপ। বাংলাদেশ আরবান হেলথ সার্ভে-২০১৩ অনুযায়ী বস্তিবাসীদের পাঁচ বছরের কম বয়সি শিশুদের মধ্যে এক তৃতীয়াশ এখনো খর্বকায়। পার্বত্য চট্টগ্রামে এই হার ৪৯ শতাংশ। ইউনিসেফের মাল্টি ইন্ডিকেটর ক্লাস্টার সার্ভে এ তথ্য জানায়। আইসিডিডিআরবির-২০১৪ তথ্য মতে, কর্মরত নারী পোশাক শ্রমিকদের মধ্যে প্রায় ৪৩ শতাংশই দীর্ঘমেয়াদি অপুষ্টির শিকার।
গতকাল বৃহস্পতিবার কাওরানবাজারের সিএ ভবন কার্যালয়ে ‘টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা: খাদ্য ও পুষ্টি প্রতিশ্রুতি’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা এসব তথ্য জানান। দেশে খাদ্য ব্যবস্থার জন্য বাস্তবসম্মত ও উদ্ভাবনী উপায় অনুসন্ধান করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি-২) পূরণে পুষ্টিকর ও নিরাপদ খাবার নিশ্চিতে ভবিষ্যত্ করণীয় ও সুপারিশসমূহ তুলে ধরতে এই গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করা হয়। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংস্থা-গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ইমফ্রুভড নিউট্রিশন (জিএআইএন) ও দৈনিক প্রথম আলো যৌথভাবে এই গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে।
এতে উপস্থাপনায় বলা হয়, বাংলাদেশ জনমিতি ও স্বাস্থ্য জরিপ ২০১৭-১৮ অনুযায়ী দেশে পাঁচ বছরের কম বয়সি ৩১ শতাংশ শিশু খর্বকায়, ২২ শতাংশ পাঁচ বছরের কম বয়সি শিশুর ওজনস্বল্পতা রয়েছে। সে তুলনায় নগরীর বস্তি এলাকা, পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগোষ্ঠী ও পোশাক শিল্পে কর্মরত নারীরা পুষ্টি পরিস্থিতির দিক থেকে অনেক পিছিয়ে আছে। বিশেষত নগরে—দারিদ্র্য ও ঘনবসতি, পার্বত্য চট্টগ্রামে—দুর্গম এলাকা, খাদ্য ঘাটতি, ফসলি জমির অভাব, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের সাংস্কৃতিক পার্থক্যের কারণে খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন এবং পোশাক শিল্পে নারীদের কঠোর পরিশ্রম ও অসচেতনতার কারণে পুষ্টি পরিস্থিতির তেমন কোনো উন্নতি হয়নি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. মুজিবুল হক এমপি বলেন, বাংলাদেশ এখন যেভাবে এগুচ্ছে, তাতে ২০৩০ সালের মধ্যে আমরা অবশ্যই এসডিজির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সক্ষম হব। আশা করছি, সামগ্রিকভাবে আমরা পুষ্টি পরিস্থিতিরও উন্নয়ন ঘটাতে সক্ষম হব।
