বরিশাল নগরবাসীর পানি সংকট নিরসনে দৈনিক ৩ কোটি ২০ লাখ লিটার বিশুদ্ধ পানি উত্পাদনের জন্য জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর নির্মিত দুটি ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট অচল অবস্থায় পড়ে আছে। ২০১৬ সালের জুন মাসে এই দুটি প্রকল্পের কাজ শেষ হলেও নানা জটিলতায় প্রায় চার বছরেও উত্পাদনে আসতে পারেনি। ফলে ৬ কোটি লিটার পানির চাহিদার বিপরীতে বরিশাল সিটি করপোরেশন নিজস্ব পাম্পের সাহায্যে সরবরাহ করছে মাত্র ২ কোটি ৬০ লাখ লিটার পানি। ফলে আসছে গরমে গত বছরের মতো এবারও তীব্র পানি সংকটের মুখে পড়বে নগরবাসী।
জানা গেছে, ২০১২ সালে বেলতলায় ১৯ কোটি টাকা ব্যয়ে এবং ২০১৩ সালে নগরীর রূপাতলীতে ২৪ কোটি টাকা ব্যয়ে দৈনিক ৩ কোটি ২০ লাখ লিটার বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের জন্য পৃথক দুটি সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্টের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ২০১৬ সালের জুন মাসে কাজ সমাপ্ত হয়। এরপর ২০১৭ সালে সিটি করপোরেশন ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা স্বাক্ষরের মাধ্যমে প্ল্যান্ট দুটি হস্তান্তরের কথা থাকলেও নানা জটিলতায় স্থবির হয়ে পড়ে কার্যক্রম। অচল অবস্থায় প্ল্যান্ট দুটি পড়ে থাকায় মূল্যবান সরঞ্জাম বিকল ও চুরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেওয়ায় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বিষয়টি মন্ত্রণালয়ে অবহিত করেন। সর্বশেষ ২০১৯ সালের ১০ অক্টোবর স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব হেলালুদ্দীন আহমদের সভাপতিত্বে মন্ত্রণালয়ের সভায় বেলতলা এলাকায় নির্মিত প্ল্যান্টটি নদীভাঙন প্রবণ এবং প্ল্যান্টটির পরিশোধন ক্ষমতা ১ কোটি ৬০ লাখ লিটারের স্থলে মাত্র ২০ থেকে ২৫ লাখ লিটার বলে সিটি করপোরেশনের প্রতিনিধিরা জানান। আর রূপাতলী প্ল্যান্ট পরিচালনার জন্য ৪০০ কেভি ট্রান্সফরমার প্রয়োজন। এছাড়া উভয় প্ল্যান্টেরই বিভিন্ন স্থাপনা ও যন্ত্রপাতি সংস্কার ও মেরামত করা প্রয়োজন বলে জানানো হয়। ঐ সভা শেষে প্ল্যান্ট দুটি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সিটি করপোরেশনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) বরিশাল জেলার সভাপতি প্রফেসর শাহ সাজেদা জানান, শুকনো মৌসুমে পানির চাহিদা বৃদ্ধি পাবে, ফলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে গত বছরের মতো এবারও পানির সংকট দেখা দিবে।
