হেল্প সমাচার

আপডেট : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৮:২১

 

রম্য গল্প

 

/ বিশ্বজিত্ দাস

 

‘এই মেয়ে, শুনছ?’ ফিসফিস করে ডাকল দিপু।

মেয়েটি কোনো সাড়া দিল ন। চুপচাপ মাথা নিচু করে নিজের কাজ করে চলল।

খুব রাগ হলো ওর। এ কেমন কথা! ডাকলে কেন সাড়া দেবে না!!

‘এই মেয়ে শোনো না!’ আবার ফিসফিস করল দিপু। এবার একটু জোরে।

‘আমাকে বলছ?’ মাথা না তুলেই বলল মেয়েটি।

‘তাকাও না আমার দিকে একটু।’

মেয়েটি একবারের জন্য চাইল ওর দিকে। অমনি মুখের ভাষা হারিয়ে ফেলল দিপু। এত সুন্দর চোখ!

প্রথম দেখায় মনে হয়নি। আজ মনে হলো মেয়েটি সত্যিই সুন্দর!

‘কী বলছ?’

‘দে... দে...বে?’

উত্তর দিল মেয়েটি। খুশি মনে খাতায় সেটাই লিখল দিপু। পরীক্ষা শেষে হল থেকে বের হয়ে বন্ধুদের সাথে চা খেতে খেতে ও বলল, ‘জানিস, ছয় নম্বর প্রশ্নের উত্তর আমি একদম ঠিক ঠিক লিখেছি। পুরো নম্বরই পাব।’

‘কপি করে লিখেছিস?’ একজন বন্ধু জানতে চাইল।

‘না।’

‘তাহলে? নিশ্চয়ই কারো দেখে লিখেছিস?’

‘আসলে আমার পাশে একটা জিনিয়াস ছাত্রী বসেছে—স্নেহা। ওকে জিজ্ঞেস করলাম। এক লাইনে আমাকে উত্তরটি বলে দিল। আমিও সেটাই লিখে দিয়ে এলাম।’

‘তাই না-কি! কোন লাইন?’

‘আই ডোন্ট নো।’

 

দুই.

‘তুমি জানো না রে প্রিয়, তুমি মোর জীবনের সাধনা...’ গুনগুন করে গাইতে গাইতে আয়নার সামনে নিজেকে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখল দিপু। অনেকক্ষণ ধরে।

অনেকদিন পর, বলা চলে বহুদিন পর আজ অনেক সময় নিয়ে স্নান করল ও।

পরশুদিন পরীক্ষার হলে স্নেহা চট করে বলে বসেছিল, ‘তুমি এসে বসামাত্র আমি একটা বিদঘুটে গন্ধ পাই। তুমি কি গোসল কর না?’

কথা ঠিক। ঠান্ডা নয়, পরীক্ষার গরমের চোটে কয়েকদিন ধরে গোসল করছে না দিপু।

আজ তাই সুযোগ পেয়ে অনেকক্ষণ ধরে গোসল করল। বের হওয়া মাত্র হাঁচি দিল ও।

‘পরীক্ষার আগের দিন এতক্ষণ ধরে স্নান করে না-কি কেউ! সর্দি-জ্বর ধরলে কী হবে, ভেবে দেখেছিস?’

রান্নাঘর থেকে ওর মা চিত্কার করে বললেন।

মায়ের কথাকে পাত্তা দিল না দিপু। মায়েদের কাজই হচ্ছে শুধু বকবক করা!

কাল গণিত পরীক্ষা। স্নেহা গত পরীক্ষা শেষে ওকে বলেছিল, ‘এরপর তো অংক পরীক্ষা। একটু হেল্প করিও।’

কাল। কালই হবে ওর প্রপোজ ডে। যখন স্নেহা ওর কাছে হেল্প চাইবে তখনই দিপু ওকে বলবে, করতে পারি—যদি তুমি আমার বন্ধু হও।

ওর মায়ের কথা সত্যি হলো। সন্ধ্যার পরই ওর নাক দিয়ে সর্দি পড়তে শুরু করল। গায়ে জ্বর এলো। পাছে মা বকবে এজন্য লুকিয়ে লুকিয়ে প্যারসিটামল খেলো দিপু।

পরদিন পরীক্ষার হলে মাথা নিচু করে খাতায় লিখতে শুরু করল ও।

একটু পরই ডাক এলো স্নেহার, ‘শুনছো?’

ভাব নিল দিপু। মাথা তুলল না।

‘একটু হেল্প কর না!’

মাথা তুলল না দিপু। আরেকটু ডাকুক।

‘এই দিপু, শোনো না।’

মাথা নিচু করে মুচকি মুচকি হাসল ও।

‘দিপু শোনো না, প্লিজ।’

এইবার। এইবার দিপু মাথা তোলার সিদ্ধান্ত নিল।

শুধু তুলবেই না, ঝট করে আগে প্রস্তাবটাই দেবে।

‘দিপু প্লিজ।’

ঝট করেই মাথা তুলল দিপু। খুব দ্রুতই ঘাড় ঘোরাল স্নেহার দিকে। বলতে গেলো—কিছু বলবে না কি...।

ততক্ষণে যা সর্বনাশ হওয়ার হয়ে গেছে। দিপুর নাক থেকে নির্গত হওয়া একগাদা সর্দির ময়লা উড়ে গিয়ে পড়ল স্নেহার পরীক্ষার খাতায়।

আর অমনি স্নেহা চিত্কার করে বলল ওঠল, ‘আ...ম্মু...।’    g