বক্তারপুর এলাকায় পানাউল্লাহ খাল

ভাঙাচুরা সেতুর কারণে দুর্ভোগে এলাকাবাসী

আপডেট : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২১:৪৫

সিংড়া (নাটোর) সংবাদদাতা

নাটোরের সিংড়া উপজেলার ৭ নম্বর লালোর ইউনিয়নের বক্তারপুর এলাকায় পানাউল্লাহ খালের ওপর এলজিইডির আওতাধীন সেতুটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়ায় ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে এলাকাবাসী। দুই বছর আগে এখানে ভ্যান উলটে মারা গিয়েছিল এক জেএসসি পরীক্ষার্থী। তাছাড়া বিভিন্ন সময় এখানে দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন।

এলাকাবাসী জানান, ভাঙা সেতুটির কারণে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগের শিকার হন শিক্ষার্থী, কৃষক এবং রোগীরা। সেতুটি আংশিকভাবে ভাঙা ছিল প্রায় পাঁচ বছর ধরে। ২০১৮ সালে বন্যায় সেতুটি প্রায় পুরোপুরি ধসে পড়ে। বন্যার পর সেখানেই একটি বাঁশের সাঁকো তৈরি করেছিল স্থানীয় প্রশাসন। কিছুদিন পর সাঁকোটিও ভেঙে পড়ে। এখন ঝুঁকি নিয়ে সেতুটি পারাপার করতে হচ্ছে বলে জানায় গ্রামবাসী।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সিংড়া উপজেলার গোবিন্দনগর ডাকমণ্ডপ, বারইহাটি, হামিরঘোষ, সোনাইডাঙ্গা, নাটোরের গোপালঘাট এবং করেরগ্রাম, নলডাঙ্গার পাটুল, নওগাঁ জেলার আত্রাই উপজেলার বিশা ও সমসপাড়া গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়েই সেতুটি দিয়ে মালামাল, খাদ্যসামগ্রী ও কৃষিপণ্য পারাপার করেন। অটোরিকশা, মোটরসাইকেল, রিকশা ও ভ্যানসহ প্রায় ৩ শতাধিক যানবাহন প্রতিদিন সেতুটি দিয়ে পারাপার করে।

ভ্যানচালক আশরাফ আলী, আজহার আলী ও আমিন বলেন, ‘ব্রিজটির দুই পাশে ভেঙে যাওয়ায় পারাপার ব্যাহত হচ্ছে। যাত্রীদের নেমে ঝুঁকিপূর্ণভাবে পারাপার করতে হচ্ছে। বাঁশের চটা দিয়ে পার হওয়া কঠিন। এছাড়া ব্রিজ ভাঙা থাকার কারণে রাতে ভাড়া পাওয়া যায় না।

সেতুসংলগ্ন তেলীগ্রামের বাসিন্দা নুরজাহান বেগম বলেন, ‘জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেতুটি ব্যবহার করা ছাড়া আমাদের কোনো বিকল্প পথ নেই।’

পাটুল হাপানিয়া ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক মো. আক্তারউজ্জান বলেন, সেতুটির জন্য হাজার হাজার মানুষ বছরের পর বছর দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। তবে স্থানীয় প্রশাসন সেখানে নতুন করে সেতু তৈরির জন্য উদ্যোগ নিচ্ছে না। সিংড়া উপজেলার ৭ নম্বর লালোর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম জানান, সেতুর দুই পাশে ডাকমণ্ডপ প্রাথমিক বিদ্যালয়, ডাকমণ্ডপ উচ্চবিদ্যালয়, বারইহাটি মাদ্রাসা, বারইহাটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গোবিন্দনগর প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ডাঙ্গাপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বেশি ভোগান্তিতে আছে।

সিংড়া উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী মো. হাসান আলী জানান, সেতুটি নির্মাণের জন্য তিনি প্রায় আড়াই কোটি টাকার প্রস্তাব প্রস্তুত করেছেন। তবে প্রস্তাবটি অনুমোদিত হতে এক বছরের মতো সময় লাগবে। এ কারণে ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নির্দেশনা অনুযায়ী তাত্ক্ষণিক সেতুটি নির্মাণের প্রকল্প গ্রহণ করেছে। চলতি বছরেই সেতুটি নির্মাণ সম্পন্ন হবে বলে আশা করছি।