বিদ্যালয়ে বাড়ছে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি
মো. মোস্তফা খান, রায়পুরা (নরসিংদী) সংবাদদাতা
নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার ট্যাটাযুদ্ধপ্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত চরাঞ্চল এখন শান্ত। বন্ধ হয়ে গেছে মরণ নেশা ট্যাটাযুদ্ধ-হামলা-মামলা। স্কুলকলেজমুখী হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। দীর্ঘদিন পর এবার মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালনে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে। একে অপরের প্রতি বাড়ছে আন্তরিকতা। ফলে দীর্ঘদিন পর আশার আলো দেখছে দুর্গম চরাঞ্চলবাসী।
জানা গেছে, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বছরের পর বছর চলে আসছিল ট্যাটাযুদ্ধ। হামলা-মামলার শিকার হতো শিশু থেকে বৃদ্ধা পর্যন্ত হাজারো মানুষ। অপরপক্ষের হামলার ভয়ে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বেড়াতো মাসের পর মাস। কিছু দিন যেতে না যেতেই প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে যুদ্ধের মাঠে নেমে পড়ত শত শত ট্যাঁটা বাহিনী। কঠোর চেষ্টায় দিন দিন পালটে যেতে থাকে চালচিত্র। ঘরমুখী হতে থাকে প্রতিপক্ষের ভয়ে বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র পালিয়ে থাকা মানুষ। প্রতিহিংসার বদলে বাড়ছে আন্তরিকতা। সেই সঙ্গে স্কুলকলেজমুখী হচ্ছে শিক্ষার্থীরাও। এরই ধারাবাহিকতায় এবার মহান একুশে ফেব্রুয়ারি শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালনে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে চরাঞ্চলে। প্রত্যেকটি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে প্রভাতফেরি করা হয়।
বাঁশগাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান আশরাফুল হক বলেন, ‘গত এক বছর ধরে ট্যাটাযুদ্ধ নেই। কোনো রকম সহিংসতা নেই। এখানকার জনসাধারণ ভালো আছে। এলাকাবাসী নাজিমউদ্দীন বলেন, ‘এখন আগের মতো সংকট নেই। বিভিন্ন মামলার সমাধান হয়েছে। যারা পলাতক ছিলেন তারা এলাকায় চলে এসেছেন। পরিবেশ শান্ত আছে। ’
রায়পুরা থানার সূত্রে জানা গেছে, ট্যাটাযুদ্ধপ্রবণ চরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকার প্রায় সাড়ে ৯ হাজার ওয়ারেন্ট আসামি ছিল। বর্তমানে সেটা নেমে এসেছে ২ হাজারে। অল্প সময়ের মধ্যে ৪০/৪৫ মামলা আপস-মীমাংসা করা হয়েছে। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে সন্ধ্যার পর ঐসব এলাকার পাড়া-মহল্লার চায়ের দোকানগুলোর আড্ডা। এ ব্যাপারে বাঁশগাড়ী নিউ মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম বলেন, বিগত দিনে এলাকায় হামলা-মামলার কারণে জাতীয় দিবসগুলোতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কম ছিল। কিন্তু এবার এলাকা ঝগড়ামুক্ত থাকায় আমরা সুন্দরভাবে দিবসটি পালন করতে পেরেছি।
এ ব্যাপারে রায়পুরা থানার ওসি মোহসিনুল কাদির বলেন, ‘কোন্দল না থাকা ও মামলার সমাধান হওয়ায় পলাতকরা এলাকায় ফিরে আসছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আমরা সচেষ্ট।’ রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ সবার সার্বিক সহযোগিতায় দীর্ঘদিনের অশান্ত চরাঞ্চলকে শান্ত করতে পেরেছি।
