নাঈমের ঘূর্ণিতে টেস্টের প্রথম দিন বাংলাদেশের

আপডেট : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২২:৪৭

টেস্ট সংস্কৃতি বদলের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন অধিনায়ক মুমিনুল হক ও হেড কোচ রাসেল ডমিঙ্গো। জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে গতকাল শেরেবাংলার উইকেট যেন তাদের কথার প্রতিচ্ছবি হয়েই ধরা দিল। র্যাংক টার্নার নয়, আবার পুরোপুরি পেস বান্ধবও নয়। উইকেটে সমান সুবিধা ছিল বোলার, ব্যাটসম্যান—দুই পক্ষের জন্যই।

এমন উইকেটে দিনভর বল হাতে বিবর্ণ ছিলেন টেস্টে বাংলাদেশের বোলিংয়ের বড়ো ভরসা তাইজুল ইসলাম। এই বাঁহাতি স্পিনার নিষ্প্রভ থাকলেও স্কিলের প্রদর্শনী করে, বাউন্স আদায় করে ঘূর্ণি জাদু দেখিয়েছেন তরুণ অফস্পিনার নাঈম হাসান। দিন শেষের এক ওভার আগে সেঞ্চুরিয়ান ক্রেইগ আরভিনকে বোল্ড করে টেস্টের প্রথম দিনটা বাংলাদেশের দখলেই রেখেছেন নাঈম।

দুই দলের শততম আন্তর্জাতিক ম্যাচে গতকাল দিন শেষে প্রথম ইনিংসে জিম্বাবুয়ের সংগ্রহ ৬ উইকেটে ২২৮ রান। চাকাভা ৯ ও তিরিপানো শূন্য রানে ব্যাট করছেন। 

তাইজুল ছাড়া বাংলাদেশের অন্য বোলাররা গতকাল বেশ শৃঙ্খলিত বোলিং করেছেন। যার মধ্যে নাঈম ছিলেন উজ্জল। গোটা দিনে ৩৬ ওভার বোলিং করেছেন তিনি। ৬৮ রানে ৪ উইকেট নিয়েছেন এই তরুণ। আবু জায়েদ রাহী বরাবরের মতোই ভালো করেছেন। ৫১ রানে নিয়েছেন ২ উইকেট। আরেক পেসার এবাদত হোসেন উইকেটশূন্য থাকলেও মিতব্যয়ী ছিলেন। ১৭ ওভারে দেন ২৬ রান। ২১ ওভারে ৭৫ রান দিয়ে জিম্বাবুয়েকে স্বস্তির সুযোগ করে দিয়েছেন তাইজুল। বাংলাদেশের বোলাররা ওভারপ্রতি ২.৫৩ হারে রান দিয়েছেন।

দিনের শুরুতে টসে হেরে ফিল্ডিংয়ে নামা বাংলাদেশের পেসাররা বেশ চেপে ধরেছিল জিম্বাবুয়ের ওপেনারদের। উইকেটের ময়শ্চার কাজে লাগিয়ে রাহী-এবাদতরা নতুন বলে দুর্দান্ত বোলিং করেছেন। টানা চার ওভার মেডেনের ফলটা আসে অষ্টম ওভারে। রাহীর বলে ক্যাচ দেন কাসুজা (২)। চাপের বাঁধন ক্রমেই হালকা করেছেন অধিনায়ক ক্রেইগ আরভিন ও মাসাউরে। দ্বিতীয় ঘণ্টায় তাইজুলের বাঁহাতি স্পিনকে স্বাচ্ছন্দ্যে খেলে দ্রুত রান তুলেছেন তারা।

লাঞ্চের পর ফিরে দুইবার জীবন পাওয়া মাসাউরে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। প্রথমবার নিজের বলে রিটার্ন ক্যাচ ফেলেন নাঈম। পরে তার বলেই স্লিপে ক্যাচ ফেলেন শান্ত। সেই নাঈমের শিকার হয়েই ফিরেন মাসাউরে। ভেঙে যায় ১১১ রানের জুটি। কট অ্যান্ড বোল্ড হন ৬৪ রান করা মাসাউরে। অভিজ্ঞ ব্রেন্ডন টেইলরকে (১০) থিতু হতে দেননি নাঈম। চতুর্থ উইকেটে সিকান্দার রাজা-আরভিনের ৪০ রানের জুটিও ভাঙেন নাঈম। সিকান্দার (১৮) লিটনের হাতে ক্যাচ দেন।

আরভিন একপ্রান্ত আগলে থাকলেও তাইজুলের বলে রিভিউ নিয়ে বেঁচে যাওয়া মারুমার (৭) ইনিংসটা লম্বা হতে দেননি রাহী। ১৯৯ রানে ৫ উইকেট হারায় জিম্বাবুয়ে। ২১৩ বলে ক্যারিয়ারের তৃতীয় সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন আরভিন। ডেভ হটনের পর জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক হিসেবে প্রথম টেস্টেই সেঞ্চুরি পেলেন তিনি। মিরপুর স্টেডিয়ামে সফরকারী দলের হয়ে সেঞ্চুরি করা চতুর্থ অধিনায়ক আরভিন। এর আগে রাহুল দ্রাবিড়, মাহেলা জয়াবর্ধনে, অ্যালিস্টার কুক সেঞ্চুরি করেছিলেন সফরকারী দলের অধিনায়ক হিসেবে। দিন শেষের আগের ওভারে নাঈমের বোল্ড হন আরভিন। ২২৭ বলে ১৩টি চারে ১০৭ রান করেন তিনি।

ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পেতে আজ জিম্বাবুয়েকে দ্রুত অলআউট করার পর ব্যাট হাতেও বড়ো স্কোর গড়তে হবে মুমিনুল-তামিমদের।