বিদেশ পালানোর সময় স্বামী-স্ত্রীসহ গ্রেফতার ৪

গাড়ি ব্যবসার আড়ালে ভয়ংকর অপরাধ

আপডেট : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০০:৩৪

রাজধানীর তেজগাঁওয়ের এফডিসি গেটসংলগ্ন এলাকায় পার্টনারশীপে ‘কার একচেঞ্জ’ গাড়ি ব্যবসা শুরু করে শামিমা নূর পাপিয়া ওরফে পিউ। পিউয়ের স্বামী মফিজুর রহমান ওরফে সুমন চৌধুরী ওরফে মতি সুমনও নরসিংদীতে গাড়ি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হয়। বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিদের ব্যবহার করে স্বামী-স্ত্রী বিভিন্ন তদবিরবাণিজ্য শুরু করে। এরপর অবৈধ ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। অবৈধ অস্ত্র, মাদক ও চাঁদাবাজি এবং নারী পাচার করে অল্প সময়ের মধ্যে নংসিংদী ও ঢাকায় একাধিক বিলাসবহুল বাড়ি, গাড়ি, ফ্ল্যাট, প্লটসহ বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থের মালিক হয়ে যায়। একপর্যায়ে গাড়ি ব্যবসার আড়ালে হয়ে ওঠে ভয়ংকর অপরাধী। অবৈধ টাকা উপার্জন করে ঐ টাকা পাচার করে বিদেশে। এছাড়াও তারা জাল টাকা, ডলার প্রস্তুতসহ বিভিন্ন দেশের মুদ্রা পাচারেও জড়িত ছিল।

গতকাল শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর হযরত শাহজালাল বিমানবন্দর দিয়ে বিদেশ পালানোর সময় পাপিয়া ও তার স্বামী সমুনসহ চার জনকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১ সদস্যরা। গ্রেফতারকৃত অন্যরা হলো, পাপিয়ার পিএস সাবিক্ষর খন্দকার (২৯) ও সুমনের পিএস শেখ তায়্যিবা (২২)। গতকাল র্যাব-১-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল শাফী উল্লাহ বুলবুল কাওরান বাজারে র্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান।

র্যাবের একটি সূত্র জানায়, পাপিয়া আন্ডার ওয়ার্ল্ডের মাফিয়া চক্রের সদস্য। পাপিয়া ও তার স্বামীর বিরুদ্ধে অস্ত্র ব্যবসাসহ বিভিন্ন অবৈধ ব্যবসার অভিযোগ রয়েছে। রাজনৈতিক ব্যক্তিদের ব্যবহার করে তিনি বিভিন্ন অবৈধ ব্যবসায় চালিয়ে যেত। একজন মুসলিম নারী হয়েও নিয়মিত কালীপূজা করত পাপিয়া।

লে. কর্নেল শাফি উল্লাহ বুলবুল বলেন, তারা দীর্ঘদিন যাবত্ জাল টাকা প্রস্তুতসহ নরসিংদী ও রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন স্থানে অবৈধ অস্ত্র, মাদক ও নারীসংক্রান্ত অনৈতিক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিল। এছাড়াও নরসিংদী জেলার বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয় সন্ত্রাসী বাহিনীর মাধ্যমে চাঁদাবাজি করে আসছিল পাপিয়া ও সুমন।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাপিয়া জানায়, সে একজন ব্যবসায়ী। তেজগাঁও বিএফডিসি গেটসংলগ্ন এলাকায় অংশীদারিত্বে তার একটি ‘কার একচেঞ্জ’ নামক গাড়ির শো রুম আছে। এছাড়া নরসিংদী জেলায় তার ‘কেএমসি কার ওয়াস অ্যান্ড অটো সলিউশন’ নামে একটি গাড়ি সার্ভিসিং সেন্টার আছে। এসব ব্যবসার আড়ালে সে অবৈধ অস্ত্র, মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। সমাজ সেবার নামে সে নরসিংদীর অসহায় নারীদের আর্থিক দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে সহযোগিতার নামে তাদের অনৈতিক কাজে লিপ্ত করে বলে জানায়। বছরের অধিকাংশ সময় সে নরসিংদী ও রাজধানীর বিভিন্ন বিলাসবহুল হোটেলে অবস্থান করে। সেখান থেকে সে ও তার স্বামীর ব্যাবসায়িক অংশীদারদের নারী সরবরাহ করে।

লে. কর্নেল শাফী উল্লাহ বুলবুল আরো জানান, পাপিয়ার স্বামী সুমন চৌধুরীকে জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায়, দেশে তার স্ত্রীর ব্যবসায় সহযোগিতার পাশাপাশি থাইল্যান্ডে বারের ব্যবসাও চালায় সে। দীর্ঘদিন যাবত্ অবৈধ অস্ত্র, মাদক ব্যবসায়, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা বিচারাধীন আছে। স্ত্রীর মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলের অসহায় নারীদের অনৈতিক কাজে ব্যবহার ছাড়াও অবৈধ অস্ত্র, মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধের জন্য নরসিংদী এলাকায় তার কুখ্যাতি রয়েছে। নরসিংদী এলাকায় তার একটি ক্যাডার বাহিনী আছে। সেখানে একটি টর্চার সেল রয়েছে। নংসিংদী ও ঢাকায় তার একাধিক বিলাসবহুল বাড়ি, গাড়ি, ফ্ল্যাট ও প্লট আছে বলে জানা যায়।