চীনের করোনা ভাইরাসের কারণে দেশটির সঙ্গে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য ব্যাহত হচ্ছে। অনেক পণ্যের আমদানিকারকরা ঋণপত্র (এলসি) খুললেও যথাসময়ে শিপমেন্ট না হওয়ায় অনেকেই ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। এ পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা ব্যাংকের সহযোগিতা চেয়েছেন। বিশেষত ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা যাতে ক্লাসিফায়েড লোন (ঋণ শ্রেণীকরণ) কিংবা বাড়তি কোনো জরিমানার মুখে না পড়েন—সে বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই। একই সঙ্গে পণ্য আসার পর বন্দর, শুল্ক কর্তৃপক্ষ ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভাগকে সহযোগিতামূলক মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি। এছাড়া সরবরাহ চেইনের নিরাপত্তার স্বার্থে জাতীয় ন্যাশনাল সাপ্লাই চেইন স্ট্র্যাটেজি করারও প্রস্তাব দেওয়া হয়।
গতকাল শনিবার রাজধানীর মতিঝিলে ফেডারেশন ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ আহ্বান জানান এফবিসিসিআই সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম। চীনের করোনা ভাইরাসের কারণে শিল্প উত্পাদনসহ বাণিজ্যে ক্ষতির বিষয়টি তুলে ধরতে ঐ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। গত ২০১৮-১৯ অর্থবছরে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৪৬৮ কোটি (১৪ দশমিক ৬৮ বিলিয়ন) মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ। এর মধ্যে আমদানির পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৩৮৬ কোটি ডলার আর রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৮৩ কোটি ডলার। কিন্তু করোনার কারণে গত জানুয়ারি থেকে দেশটি থেকে আমদানি ব্যাপকভাবে কমে গিয়েছে। গত জানুয়ারির আমদানির পরিসংখ্যান তুলে ধরে এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, আলোচ্য সময়ে চীন থেকে আমদানির পরিমাণ ছিল ৬ লাখ ৭২ হাজার মেট্রিকটন পণ্য। অথচ এক বছর আগে জানুয়ারিতে আমদানির পরিমাণ ছিল ৮ লাখ ৫১ হাজার মেট্রিকটন। অর্থাত্ জানুয়ারিতে দেশটি থেকে আমদানি কমেছে প্রায় ২২ শতাংশ।
পণ্য সরবরাহ প্রক্রিয়া ব্যাহত হওয়ায় অনেকে, বিশেষত রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠাগুলো সময়মতো রপ্তানি করতে ব্যর্থ হওয়ায় ব্যাংকের পাওনা পরিশোধে সমস্যায় পড়তে পারে। এ পরিস্থিতিতে ঋণ সহায়তা ও ঋণপত্রের মূল্য পরিশোধের বিষয়ে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। এছাড়া করোনার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ব্যাংকে সরবরাহ করলে হিসাব যাতে শ্রেণিকরণ না হয়, অতিরিক্ত চার্জ বা দণ্ড সুদ আরোপ না করা হয়, সেদিকে খেয়াল রাখা প্রয়োজন। এছাড়া যেসব ঋণপত্র খোলা হয়েছে কিন্তু জাহাজীকরণে দেরি হচ্ছে, তাদের ক্ষেত্রে অন্য কোনো উত্স থেকে আমদানির সুযোগ থাকলে তাদেরকে ঋণপত্র সীমার বাইরে স্বল্পমেয়াদি ঋণ দেওয়ারও অনুরোধ জানানো হয়। দেশের বস্ত্র ও তৈরি পোশাক খাতের কাঁচামাল, এক্সেসরিজ, কেমিক্যালের বড়ো অংশই আসে চীন থেকে। এছাড়া চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, প্লাস্টিক, ইলেক্ট্রিক্যাল, ইলেক্ট্রনিক্স, কসমেটিক্স ও টয়লেট্রিজ, চিকিত্সা সামগ্রী, কম্পিউটার, ওয়াটার পাম্প, মোটর ছাড়াও বহু পণ্য আসে চীন থেকে। এসব পণ্যের সরবরাহ বিঘ্নিত হয়েছে বলে জানিয়েছে এফবিসিসিআই। এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেন, ব্র্যান্ডগুলোত কতটুকু সহানুভূতিশীল হবে, তাদেরকে ডিসকাউন্ট বা বিমানে পাঠানোর প্রয়োজন হবে কি না তা বিবেচনায় নিতে হবে।
