নতুন যুগে ভারত-মার্কিন সম্পর্ক

আপডেট : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২১:২৪

এম এ আলআমিন

 

যুক্তরাষ্ট্র এখন মিত্রদের নতুনভাবে বিন্যস্ত করছে। বিষয়টি ভারতের জন্য দেশটির সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নের নতুন সুযোগ এনে দিয়েছে। দিল্লি-ওয়াশিংটন সম্পর্ক জোরদার করার ক্ষেত্রে দুটি চ্যালেঞ্জ কাজ করে। একটি হলো চীনের সঙ্গে টানাপোড়েন তৈরি হওয়া আর দ্বিতীয়টি রাশিয়ার সঙ্গে দীর্ঘদিনের মিত্রতাকে পাশ কাটানো। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারতের সামনে এ চ্যালেঞ্জগুলো নেই। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আজ ভারত সফর করছেন। মার্কিন পররাষ্ট্র নীতিতে পরিবর্তনের আভাস লক্ষ্য করে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা এখন ব্যস্ত। তারা এটিকে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ করার একটি সুযোগ মনে করছেন। এই সফরকালে দুই দেশের মধ্যে একটি সীমিত বাণিজ্য চুক্তি হতে পারে।

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুব্রেমিনিয়াম জয়শঙ্কর সম্প্রতি এক সাক্ষাত্কারে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্ক নতুন করে বিন্যস্ত করছে। তিনি বলছেন, ‘আগে যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টি ছিল এ রকম যে, আমরা বিশ্বের এক নম্বর দেশ, আমরা আমাদের মিত্র জোট ঠিক করেছি, কেউ যদি আমাদের সঙ্গে বাণিজ্য করতে চায় তবে তাকে এখানে সই করতে হবে। জয়শঙ্কর বলছেন, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র খোলা মন নিয়ে মিত্রজোটের বাইরেও দৃষ্টি  দিচ্ছে।

নরেন্দ্র মোদি ভারতের প্রধানমন্ত্রী ও ট্রাম্প মার্কিন প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর ভারত-মার্কিন সম্পর্ক ক্রমাম্বয়ে ঘনিষ্ঠ হয়েছে। চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র আরো কাছাকাছি এসেছে। বেড়েছে দুদেশের মধ্যে বাণিজ্যিক ও সামরিক সহযোগিতা। একই সময় ন্যাটো সদস্য জার্মানি ও ফ্রান্স এবং দক্ষিণ কোরিয়ার মতো সামরিক মিত্রদের সঙ্গে দূরত্ব বেড়েছে। আন্তর্জাতিক সম্পর্কে এবং পুরোনো জোটগুলোর মধ্যে সম্পর্কের ধারা বদলে যাওয়াকে ভারত ইতিবাচক হিসেবেই দেখছে। ভারত মনে করে এটি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক ঝালিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি করেছে।

১৩৭ কোটি মানুষের দেশ ভারত একটি পরমাণু শক্তিধর দেশ। দেশটি এখন এ বিষয়টি স্পষ্ট করতে চায় যে তারা একটি স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করছে। শীতল যুদ্ধ সময়কালে জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনে যোগ দেওয়া থেকে যা শুরু হয়েছিল। ১৯৬২ সালে চীনের সঙ্গে যুদ্ধে হেরে যাওয়ার পর ভারত সোভিয়েত প্রভাব বলয়ে ঢোকে। তখন থেকে ভারত বেশির ভাগ সামরিক সরঞ্জামাদি সোভিয়েত ইউনিয়ন (পরবর্তীতে রাশিয়া) থেকে কিনেছে। প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ভারত এখনো অনেকাংশে রাশিয়ার ওপর নির্ভরশীল। ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর দিল্লি-ওয়াশিংটন সম্পর্ক ক্রমান্বয়ে ঘনিষ্ঠ হয়েছে। ভারত এখন যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও ফ্রান্সের কাছ থেকে অত্যাধুনিক সমরাস্ত্র কিনছে।

ভারত ২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে লজিস্টিকস চুক্তি সই করে। এর ফলে দেশ দুটি একে অন্যের সামরিক ঘাঁটি পরিদর্শনের সুযোগ পায়। ২০১৮ সালে সম্পাদিত চুক্তির ফলে দুই দেশ গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ের সুযোগ পায়। ২০১৯ সালে করেছে আরেকটি যা দুই দেশের বেসরকারি কোম্পানিগুলোকে গোপন প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি বিনিময়ের পথ প্রশস্ত করে। গত বছর নভেম্বরে প্রথম এরকম যৌথ সামরিক মহড়া করে যাতে ভারতে সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী-সশস্ত্র বাহিনীর তিনটি শাখাই অংশ নেয়।