কাওসার মুজিব অপূর্ব
মাত্র ২৫ রান।
জিম্বাবুয়ের থেকে বাংলাদেশের দূরত্ব এখন এতটুকুই। উইকেটে দুই সেট ব্যাটসম্যান—অধিনায়ক মুমিনুল হক ও অভিজ্ঞতার বিচারেও সবচেয়ে এগিয়ে থাকা মুশফিকুর রহিম। সাজঘরে অপেক্ষমাণ আছেন লিটন দাস, মোহাম্মদ মিঠুনরা। চোখ বন্ধ করেই তাই বলা যায়, এই পরিস্থিতিতে মিরপুর টেস্টে চালকের আসনেই আছে বাংলাদেশই।
যদিও, এগিয়ে থেকেও মাটিতেই পা রাখছে স্বাগতিকরা। এই মুহূর্তে লিডের লক্ষ্য নির্ধারণ নয়, বরং ইতিবাচক ব্যাটিংয়েই মনোযোগ দলটির। দিন শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসে সেই কথাটাই জানালেন নাজমুল হোসেন শান্ত।
তিনি মনে করেন ৬৮ রানের অপরাজিত জুটি গড়া মুশফিকুর রহিম ও মুমিনুল হকদের দিকেই তৃতীয় দিন তাকিয়ে থাকবে বাংলাদেশ। বললেন, ‘আসলে এই অবস্থায় কত রানের লিড দরকার, সেই লক্ষ্য নির্ধারণ করা ঠিক না। আমরা সেসব নিয়ে ভাবছিও না। এখন মুশফিক ভাই, মুমিনুল ভাই ভালো ব্যাটিং করছেন। সেটা চালিয়ে যাওয়া দরকার। আমরা তৃতীয় দিন এই ইতিবাচক ব্যাটিংয়ের ধারাবাহিকতাই রাখতে চাই। ইনিংসটা যত লম্বা করা যায়, ততটাই উপকার হবে আমাদের।’
জিম্বাবুয়ে ২৬৫ রানের জবাবে বাংলাদেশের ইনিংসের ভিতটা গড়ে দিয়েছে টপ অর্ডারের ব্যাটসম্যানরাই। সাইফ হাসান আট রান করে আউট হয়ে গেলেও দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে ৭৮ রানের জুটি গড়েন তামিম ইকবাল ও শান্ত। তামিম ৪৪ রানে আউট হয়ে গেলেও ক্যারিয়ারের প্রথম হাফ সেঞ্চুরি পেয়ে যান। পরে মুমিনুলের সঙ্গেও ৭৬ রানের জুটি গড়েন শান্ত।
গেল বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) সেঞ্চুরি করার পথে শান্ত যতটা অশান্ত হয়েছিলেন, এবার তিনি ততটাই ছিলেন শান্ত। ১৩৯ বলে ৭১ রান করেন। সেঞ্চুরিও পেয়ে যেতে পারতেন, পারেননি মনোসংযোগ হারিয়ে ফেলায়। শান্ত নিজেও মানছেন, সেঞ্চুরি করার সুযোগ হাতছাড়া করেছেন তিনি।
বললেন, ‘অবশ্যই সুযোগ ছিল, যেহেতু উইকেট ভালো ছিল। তবে এরপরেও আমি মনে করি যে যতটুকু ব্যাটিং করেছি আউটটা ছাড়া সেটা ভালো হয়েছে। তবে যেভাবে খেলছিলাম, শুরুটা যেভাবে হয়েছিল তাতে ইনিংসটা বড়ো করা উচিত ছিল।’
তবে, একটা ব্যাপার ঠিক যে, ২০১৮ সালের এশিয়া কাপে যে শান্ত ব্যাট হাতে নিজেকে হারিয়ে খুঁজছিলেন, তিনি এবার নিজেকে অনেকটাই পালটে ফেলতে পেরেছেন। রহস্যটা কী? শান্ত জানালেন, নিজের দৃষ্টিভঙ্গী পরিবর্তনের সুফল পাচ্ছেন তিনি। এর জন্য তিনি কৃতীত্ব দিলেন দলের ফিল্ডিং কোচ সোহেল ইসলামকেও।
বললেন, ‘গত দুই তিন মাস ধরে আমাদের সোহেল সারের সঙ্গে অনেক কথা হচ্ছে। তিনি একটা কথাই বলেছেন যে—‘খুব বেশি চিন্তা করিস না এসব নিয়ে। শুধু খেলায় ফোকাস কর। আর বিশ্বাস করতে শিখে ফেল যে এখানে তুই রান করতে পারবি, যেটা ঘরোয়া ক্রিকেটে করিস।’ তাই আমি খুব বেশি খেলা নিয়ে চিন্তিত নই। নিজের যে স্কিল আছে সেটার ওপরে বিশ্বাস রাখছি। আর এজন্যই আস্তে আস্তে বড়ো রান আসা শুরু হয়েছে।’
কেউ এখন পর্যন্ত সেঞ্চুরি না পেলেও, দ্বিতীয় দিনে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে পরিকল্পনার ছাপ ছিল পরিষ্কার। শান্ত বলেন, ‘টেস্টের একটা মিটিং হয়েছে আমাদের। ব্যাটিং নিয়ে একটা নির্দিষ্ট পরিকল্পনা আছে আমাদের। আমরা প্রথমে চিন্তা করেছিলাম যে উইকেটটা কেমন আচরণ করছে সেই অনুযায়ী খেলব। তাই পরবর্তীতে দেখা গেছে যে উইকেটটা ভালো। সেই অনুযায়ী ব্যাটিং করেছি।’
মিরপুর টেস্ট
স্কোর কার্ড : (দ্বিতীয় দিন শেষে)
টস: জিম্বাবুয়ে
(আগের দিন জিম্বাবুয়ে ২২৮/৬, চাকাভা ৯*, তিরিপানো ০*)
রান বল চার ছক্কা
জিম্বাবুয়ে ইনিংস প্রথম ইনিংস রান বল চার ছয়
চাকাভা ক নাঈম ব তাইজুল ৩০ ৭৪ ৩ ০
ডোনাল্ড তিরিপানো ক লিটন ব আবু জায়েদ ৮ ৩১ ২ ০
এইন্সলে এনলোভু এলবিডব্লিউ ব আবু জায়েদ ০ ৬ ০ ০
চার্লটন সুমা এলবিডব্লু ব তাইজুল ০ ৪ ০ ০
ভিক্টর নাউচি অপরাজিত ৬ ১৩ ১ ০
অতিরিক্ত (বা-৪, লে বা-৪, ও-৫) ১৩
মোট (অলআউট, ১০৬.৩ ওভার) ২৬৫
উইকেট পতন: ১/৭ (কাসুজা), ২/১১৮ (মাসাউরে), ৩/১৩৪ (টেইলর), ৪/১৭৪ (সিকান্দার), ৫/১৯৯ (মারুমা), ৬/২২৬ (আরভিন), ৭/২৪০ (তিরিপানো), ৮/২৪৪ (এনলোভু), ৯/২৪৫ (সুমা), ১০/২৬৫ (চাকাভা)।
বাংলাদেশ বোলিং:এবাদত হোসেন: ১৭-৮-২৬-০ (ও-২), আবু জায়েদ: ২৪-৬-৭১-৪ (ও-৩), নাঈম হাসান: ৩৮-৯-৭০-৪, তাইজুল ইসলাম: ২৭.৩-১-৯০-২।
বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস রান বল চার ছয়
তামিম ইকবাল ক চাকাভা ব তিরিপানো ৪১ ৮৯ ৭ ০
সাইফ হাসান ক চাকাভা ব নাউচি ৮ ১২ ২ ০
নাজমুল হোসেন শান্ত ক চাকাভা ব সুমা ৭১ ১৩৯ ৭ ০
মুমিনুল হক অপরাজিত ৭৯ ১২০ ৯ ০
মুশফিকুর রহিম অপরাজিত ৩২ ৬৮ ৬ ০
অতিরিক্ত (বা-৪, লেবা-২, নো-২, ও-২) ৯
মোট (৩ উইকেট, ৭১ ওভার) ২৪০
উইকেট পতন: ১/১৮ (সাইফ), ২/৯৬ (তামিম), ৩/১৭২ (শান্ত)
জিম্বাবুয়ে বোলিং:
তিরিপানো: ১৫-৩-৪০-১ (ও-১, নো-১), নাউচি: ১৩-২-৪১-১ (ও-১), সিকান্দার রাজা: ২২-১-৭৫-০ (নো-১), সুমা: ১২-০-৪৬-১, এনলোভু: ৯-১-৩৩-০
