ইন্টারন্যাশনাল ডাটা করপোরেশনস (আইডিসি)-এর বিশ্বব্যাপী ত্রিমাসিক মোবাইল ফোন ট্রাকারের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, ২০১৯ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে বাংলাদেশের মোবাইল ফোনের মার্কেটের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪.১ শতাংশ । ঐ বছর ২৯.৬ মিলিয়ন ইউনিট মোবাইল সরবরাহ করা হয়েছে।
ফিচার ফোন আয়ত্ব করেছে ৭৬.৬ শতাংশ শেয়ার এবং ২২.৭ মিলিয়ন ইউনিট ফোন সরবরাহের মধ্য দিয়ে বছরে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪.৯ শতাংশ । স্মার্টফোন ক্যাটাগরিতে ২০১৯ সালে সরবরাহ হয়েছে ৬.৯ মিলিয়ন ইউনিট। যাতে আগের বছরের চেয়ে প্রবৃদ্ধি বেড়েছে ১.৪ শতাংশ।
২০১৯ সালের শেষ প্রান্তিকে এসে সমস্ত মোবাইল ফোন ক্যাটাগরি আগের বছরের তুলনায় প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৯.৫ শতাংশ । এর আগের প্রান্তিকের তুলনায় প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৬.২ শতাংশ। সঙ্গে ৮.৮ মিলিয়ন ইউনিট সরবরাহ অবদান রয়েছে।
২০১৯ এর জুনে, বাংলাদেশ সরকার বিদেশ থেকে আমদানিকৃত ফোনের ওপর শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করেছে যা আগের বছরের তুলনায় ৪.১ শতাংশ কম। যাইহোক, ফিচার ফোনগুলো এই শুল্ক কাঠামোর বাইরে ছিল। ফলে ২০১৯ সালে আগের বছরের তুলনায় ২০.১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি লাভ করেছে ফিচার ফোন।
অন্যদিকে চীন ভিত্তিক স্মার্টফোন সরবরাহকারীরা উন্নত ফিচার সমৃদ্ধ বেশি দামের ফোনগুলো সরবরাহ করতে শুরু করে। গড়ে ঐ স্মার্টফোনগুলো বিক্রি হয়েছে ৯৯ মার্কিন ডলারে। যাতে এই খাতে আগের বছরের তুলনায় প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৫.৭ শতাংশ ।
২০১৯ সালে ফোরজি সমর্থনযোগ্য স্মার্টফোনের প্রবৃদ্ধি ৬৯ শতাংশসহ বার্ষিক প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৫০.৪ শতাংশ। যাইহোক, থ্রিজি সমর্থন যোগ্য স্মার্টফোনের মার্কেট শেয়ার রয়েছে ৩১ শতাংশ । কারণ ফোরজি সমর্থন যোগ্য স্মার্টফোনের দামের তুলনায় থ্রিজি সমর্থযোগ্য ফোনের দাম ছিল অর্ধেকেরও কম। এছাড়াও, নেটওয়ার্কের মান ও কভারেজের দিক বিবেচনা করে গ্রাহকরা ফোরজিতে প্রবেশ করতে নারাজ।
ভারতের আইডিসির ক্লায়েন্ট ডিভাইস ক্যাটাগরির বিশ্লেষক একতা মিত্তাল বলেন,‘পরিমিত প্রবৃদ্ধির পরেও, বাংলাদেশ দেখল চারটি স্মার্টফোনের মথ্যে তিনটি ফোনই আমদানি করতে হয়। ২০১৯ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে এসে দেখা গেল, দেশের মোট চাহিদার তুলনায় চারের এক অংশ উত্পাদন হচ্ছে দেশে।’
ওয়ালটন হলো—দেশীয় প্রযুক্তিপণ্য উত্পাদনের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান। গ্লোবাল প্রতিষ্ঠান স্যামসাংও দেশে স্মার্টফোন তৈরি করছে কিন্তু এখনো ফিচারফোন আমদানির ওপর নির্ভরশীল প্রতিষ্ঠানটি।
অপো ও ভিভোও ২০১৯ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে স্মার্টফোন অ্যাসেম্বলিং শুরু করেছে। এছাড়াও অন্যান্য কোম্পানিগুলো স্মার্টফোন উত্পাদন কাজ শুরু করবে কয়েক মাসের মধ্যে বলে জানিয়েছেন একতা মিত্তাল।
আইডিসির ক্লায়েন্ট ডিভাইসের সহযোগী ব্যবস্থাপক জয়পাল সিং দেশের উত্পাদনের প্রবৃদ্ধি নিয়ে বলেন,‘ সরকার কমপ্লিট ফোন আমদানিতে নিরুত্সাহিত করছে। স্থানীয়দের চাহিদা মেটাতে গ্লোবাল প্রতিষ্ঠানগুলোকে আহ্বান জানাচ্ছে যা চীনের ওপর নির্ভরতা হ্রাসের একটি ক্ষেত্র তৈরি করছে একই সঙ্গে একটি বড়ো চ্যালেঞ্জ হচ্ছে সামগ্রিক ব্যয় নিয়ন্ত্রণ করা।’
তিনি আরো বলেন, ‘উত্পাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের উত্পাদন কার্য চলমান রাখার পাশাপাশি প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রাখতে হলে দেশের ফোরজি নেটওয়ার্ক কাভারেজ বাড়ানো ও ডাটার মূল্য কমানো জরুরি।’
২০১৯ সালের শীর্ষ পাঁচ কোম্পানি
স্যামসাং সিম্ফনিকে ছাড়িয়ে দ্বিতীয় স্থান দখল করেছে। প্রতিষ্ঠানটি ১.১ মিলিয়ন ইউনিট সরবরাহ করেছে যার মধ্য দিয়ে ৮৭.১ শতাংশ বার্ষিক প্রবৃদ্ধি হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির সর্বাধিক বিক্রীত মডেল হচ্ছে গ্যালাক্সি এ২। এর পরবর্তী স্থানে রয়েছে গ্যালাক্সি এ১০।
সিম্ফনির একই সময়ে আগের বছরের তুলনায় সরবরাহ কমেছে ২৯.৫ শতাংশ । ফলে তারা প্রথম স্থান থেকে দ্বিতীয় স্থানে চলে এসেছে। প্রতিষ্ঠানটি চীন ভিত্তিক সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে ও স্যামস্যাংয়ের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করছে।
ট্রানশান হুয়াওয়েকে হটিয়ে তৃতীয় স্থান দখল করতে সক্ষম হয়েছে। ২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠানটির প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৪.৩ শতাংশ । খুরচা বিক্রি ও মিডিয়াম বাজেটের ফোনগুলোর প্রতি বেশি নজর দেওয়ায় তাদের দ্রুত প্রবৃদ্ধি হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির একটির আরো একটি ব্র্যান্ড ‘টেকনো’ বাজারে দৃশ্যমান থাকাতে আগের বছরের তুলনায় ৭৫.৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।
ওয়ালটন রয়েছে চতুর্থ স্থানে। প্রতিষ্ঠানটির ২০১৯ সালে প্রবৃদ্ধি ছিল ২৩.৬ শতাংশ । ওয়ালটন তাদের এন্ট্রি লেভেল সেগমেন্টের কারণে তাদের অবস্থান শক্তিশালী করতে সক্ষম হয়েছে। ২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার বেড়ে ১১ শতাংশ থেকে ১৫.৪ শতাংশ এ দাঁড়িয়েছে।
শাওমি এই প্রথম শীর্ষ পাঁচ-এ অবস্থান করতে সক্ষম হয়েছে। কারণ আগের বছরের তুলনায় সরবরাহ দ্বিগুণ হয়েছে। শাওমি ২১০৯ সালে ১৪টি নতুন মডেলের ফোন বাজারে উন্মুক্ত করে। তাদের সবগুলো স্মার্টফোনের মধ্যে চারের এক অংশ বিক্রি হয়েছে শাওমির রেডমি গো এবং রেডমি এ৬।
সূত্র :আইডিসি
