ফুটওভারব্রিজ ব্যবহারে পথচারীদের বাধ্য করা হোক

আপডেট : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২২:১০

বন্দরনগরী চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলার জোরারগঞ্জ থানার বারইয়ারহাট ফুটওভারব্রিজ থাকার পরও  সড়ক পারাপারের সময় সম্প্রতি বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে বারইয়ারহাট ডিগ্রি কলেজের একজন ছাত্রের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। আরো দুজন ছাত্র গুরুতর আহত হয়েছে। চট্টগ্রামের মুরাদপুর এবং ঢাকার ফার্মগেটে ফুটওভারব্রিজ থাকায় ইচ্ছে করলেও কেউ নিচ দিয়ে অর্থাত্ সড়কের মধ্য দিয়ে পার হতে পারে না। কারণ ফুটওভারব্রিজ দিয়ে পথচারীরা পারাপারে যাতে বাধ্য হয়, সেজন্য একটা নির্ধারিত দূরত্ব পর্যন্ত সড়কের ডিভাইডারে অতিক্রম না করতে পারার কঠিন প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। এখানে অর্থাত্ বারইয়ারহাটেও এরকম প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে পথচারীদের ফুটওভারব্রিজ ব্যবহারে বাধ্য করা হয়েছিল। কিন্তু বারইয়ারহাট বাজারের ব্যবসায়ীদের মালামাল পরিবহনের রিকশাগুলো প্রতিবন্ধকতার কারণে সড়ক পার হতে না পারায় ব্যবসার চরম ও করুণ পরিণতি সৃষ্টি হওয়ার অভিযোগ তুলে পৌরসভা অফিসে গিয়ে স্মারকলিপি দেন তাঁরা। এহেন পরিস্থিতিতে প্রতিবন্ধকতা আবার তুলে দিলে ফুটওভারব্রিজ বাদ দিয়ে পথচারীরা সময় বাঁচাতে সড়ক পার হতে গিয়ে রাস্তার মাঝখানে অর্থাত্ যেখানে ডিভাইডার সেখানে বিশাল জটলা পাকিয়ে ফেলে! এ অবস্থায় দ্রুতগতিতে ধেয়ে আসা গাড়িতে যে কোনো সময় ঘটে যেতে পারে  ভয়াবহ দুর্ঘটনা। ব্যবসায়ীদের লাভের খেসারত মানুষের জীবনহানি—এটা মেনে নেওয়া  যায় না। নতুন করে দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি করছে চট্টগ্রামগামী লোকাল বাসগুলো। যাত্রীর জন্য এগুলো যেখানে দাঁড়িয়ে থাকে, তার সামনে দিয়ে পথচারীরা পুবপাশ থেকে পশ্চিমপাশে পার হন। এ সময় উত্তর দিক থেকে ধেয়ে আসা গাড়িগুলো দাঁড়িয়ে থাকা গাড়ির জন্য দেখা যায় না। ফলে যে কোনো সময় পথচারী মর্মান্তিক পরিণতির মুখোমুখি হতে পারেন। তাই ফুটওভারব্রিজ ব্যবহারে বাধ্য করতে হবে। এজন্য সুনির্দিষ্ট দূরত্ব পর্যন্ত ডিভাইডারে কঠিন প্রতিবন্ধকতা স্থায়ীভাবে তৈরি করে দেওয়ার কোনো বিকল্প নেই। বিষয়টির প্রতি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলীলুল্লাহ্

বারইয়ারহাট, মীরসরাই, চট্টগ্রাম