সিলেটের জয়িতাদের সম্মাননা

আপডেট : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৯:৫৪

সিলেট বিভাগের চার জেলার শ্রেষ্ঠ পাঁচ জন ও জেলা পর্যায়ে ১৫ জয়িতাকে সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তর ও বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয় সিলেটের আয়োজনে বৃহস্পতিবার দিনব্যাপী কবি নজরুল অডিটোরিয়ামে জয়িতাদের সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বিভাগীয় কমিশনার মশিউর রহমান।  অনুষ্ঠানে পাঁচটি ক্যাটাগরিতে সিলেট বিভাগের চার জেলায় ২০১৮ সালের সিলেট বিভাগীয় পর্যায়ে পাঁচ জন এবং জেলা পর্যায়ের ১৫ জন জয়িতাকে সম্মাননা জানানো হয়। নির্বাচিত নারীদের শ্রেষ্ঠ জয়িতা সম্মাননা ক্রেস্ট ও পুরস্কার প্রদান করা হয়। এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা এমপি।  এসময় তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালের সংবিধানে নারীদের সম অধিকারের নিশ্চয়তা প্রদান করেন। মুক্তিযুদ্ধে নির্যাতিত নারীদের পুনর্বাসন করার জন্য নারী পুনর্বাসন বোর্ড গঠন করেন। নির্যাতিত নারীদের চিকিত্সার জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে চিকিত্সক এনে চিকিত্সার ব্যবস্থা করেছিলেন তিনি। প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা বলেন, নির্যাতিত নারীদের বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা সামাজিক-পারিবারিকভাবে পুনর্বাসন করার ব্যবস্থা করেন। যেসব নারীর বিবাহ ভেঙে যেত, তাদের দাম্পত্য জীবনের জোড়া লাগিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু। যেমন জোড়া লাগিয়েছিলেন জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার দাম্পত্যের। যার ফলে খালেদা জিয়া পরপর তিনবার প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। 

সিলেট : অর্থনৈতিক সাফল্যের জন্য সিলেট নগরীর নয়াসড়ক এলাকার মৃত মিসবাউল মান্নানের স্ত্রী মিনারা বেগম, সমাজ উন্নয়নে বিশেষ অবদান রাখায় নগরীর কাজিটুলা এলাকার মৃত বসির মিয়া শিকদারের মেয়ে আছিয়া খানম শিকদার, শিক্ষা ও চাকরি ক্ষেত্রে সফলতার জন্য সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. নাসরিন সুলতানা লাকি, নির্যাতনের বিভীষিকা মুছে নতুন উদ্যোমে জীবন শুরু করায় কানাইঘাট উপজেলার নিজ চাউরা দক্ষিণ গ্রামের মৃত সিরাজ উদ্দিনের স্ত্রী সালেহা বেগম এবং সফল জননী হিসেবে শ্রেষ্ঠ জয়িতা হলেন বালাগঞ্জের গৌরীপুর গ্রামের স্বামী মৃত মকবুল হোসেন চৌধুরীর স্ত্রী শামসুন্নাহার চৌধুরী।

সুনামগঞ্জ : অর্থনৈতিক সাফল্যের জন্য দোয়ারাবাজার উপজেলার নতুন কৃষ্ণনগর গ্রামের জমির আহমদের স্ত্রী ছালেহা বেগম, সমাজ উন্নয়নে বিশেষ অবদান রাখায় সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার অনামিকা গ্রামের রেজাউল হক মিন্টুর স্ত্রী সামিনা চৌধুরী মনি, শিক্ষা ও চাকরি ক্ষেত্রে সফলতার জন্য দোয়ারাবাজার উপজেলার দেওরা বাজার গ্রামের মনোরঞ্জন দের মেয়ে স্বর্ণালী দে, নির্যাতনের বিভীষিকা মুছে নতুন উদ্যোমে জীবন শুরু করায় বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ভাটিপাড়া গ্রামের গোপেশ চৌধুরীর মেয়ে ছায়া রাণী চৌধুরী এবং সফল জননী হিসেবে শ্রেষ্ঠ জয়িতা হলেন বিশ্বম্ভরপুর গ্রামের মাঝাইর গ্রামের সুরেশ রঞ্জন দাসের স্ত্রী রানী দাস।

হবিগঞ্জ : অর্থনৈতিক সাফল্যের জন্য লাখাই উপজেলার বামৈ গ্রামের মাসুদ মিয়ার স্ত্রী সেলিনা আক্তার, সমাজ উন্নয়নে বিশেষ অবদান রাখায় হবিগঞ্জ পৌরসভা এলাকার শেখ শাহেদুজ্জামানের স্ত্রী শেখ সুমা জামান, শিক্ষা ও চাকরি ক্ষেত্রে সফলতার জন্য মাধবপুরের মোদকপট্টি গ্রামের মদন গোপাল মোদকের মেয়ে শিল্পি রানী মোদক, নির্যাতনের বিভীষিকা মুছে নতুন উদ্যোমে জীবন শুরু করায় বাহুবল উপজেলার স্বর্ণরেখ গ্রামের জালাল উদ্দিনের মেয়ে মোছা. সাহিদা আক্তার রেজিয়া এবং সফল জননী হিসেবে শ্রেষ্ঠ জয়িতা হলেন লাখাই উপজেলার কালাউক গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা আজিজুল আলমের স্ত্রী নুরুন্নাহার বেগম।

মৌলভীবাজার : অর্থনৈতিক সাফল্যের জন্য কুলাউড়া উপজেলার নন্দনগর গ্রামের মৃত নূরুল ইলামের মেয়ে রওশন আরা বেগম, সমাজ উন্নয়নে বিশেষ অবদান রাখায় কমলগঞ্জ উপজেলার গোপালনগর গ্রামের আব্দুল মান্নানের মেয়ে রুমানা আক্তার রুবি, শিক্ষা ও চাকরি ক্ষেত্রে সফলতার জন্য শ্রীমঙ্গল উপজেলার লৈয়ারকুল গ্রামের মৃত শেখ মুন্সি আব্দুল গফুরের মেয়ে নাজমীন আক্তার, নির্যাতনের বিভীষিকা মুছে নতুন উদ্যমে জীবন শুরু করায় কুলাউড়া উপজেলার সিংগপুর গ্রামের মো. জাফর মিয়ার মেয়ে হাজেরা আক্তার এবং সফল জননী হিসেবে শ্রেষ্ঠ জয়িতা হলেন শ্রীমঙ্গল উপজেলার শান্তিবাগ আবাসিক এলাকার রুক্ষ্মিনী কান্ত দত্তের মেয়ে রীতা দত্ত।