মিরপুরে তখন দুপুর গড়িয়ে বিকাল। সারাদিনের মেঘময় আবহাওয়ায় সেটা অবশ্য বোঝার কোনো উপায় নেই। মাত্রই সংবাদ সম্মেলন শেষে সাজঘরের দিকে ফিরছেন মুুমিনুল হক। তখনই বললেন, ‘ভাই, একটা অনুরোধ।’
স্বয়ং টেস্ট অধিনায়কের কণ্ঠের এমন স্বরে চোখ বড়ো আর কান খাড়া না হয়ে কোনো উপায় নেই। অধিনায়ক বলে গেলেন, ‘পেসারদের একটু সাহস দিয়েন ভাই, একটু কাভারেজ দিয়েন।’
সাহস কিংবা কাভারেজ—সেটা দেওয়ার ক্ষেত্রটা মুমিনুল নিজেই তৈরি করে দিয়েছেন।
কিভাবে? দেশের ক্রিকেটের সেরা অধিনায়ক যেটা করার সাহস দেখাননি মুমিনুল আর রাসেল ডোমিঙ্গোরা এবার সেটাই করে দেখিয়েছেন। বাংলাদেশের উইকেট মানেই স্পিনিং ট্র্যাক, দলে একগাদা স্পিনার থাকবেন, নামে মাত্র একজন পেসার থাকবেন একাদশে—বহুদিনের পুরোনো এই কৌশল থেকেই সরে এসেছে বাংলাদেশের টিম ম্যানেজমেন্ট।
এবার জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টটা খেলা হয়েছে স্পোর্টিং উইকেটে। দলে ছিলেন দুই পেসার আর দুজন স্পিনার। অধিনায়ক তাই ঘুরিয়ে ফিরিয়ে সবাইকেই ব্যবহার করেছেন। গোটা টেস্টে বাংলাদেশের বোলাররা মোট ১৬৪ ওভার বোলিং করেছেন। পেসাররা করেছেন ৫০ ওভার, আর স্পিনাররা করেছেন ১১৪ ওভার। কয়দিন আগেও এই অনুপাতে ছিল আকাশ আর পাতালের ফাড়াক।
মুমিনুল বলেন, ‘নিউজিল্যান্ড সিরিজ থেকে এবাদত-রাহি কিন্তু একসঙ্গে ৭-৮টা টেস্ট খেলে ফেলেছে। আমার মনে হয়, ওদের খেলিয়ে খেলিয়ে অভিজ্ঞ করা উচিত, আমরা এ পরিকল্পনাতেই এগোচ্ছি। আশা করি, ভবিষ্যতে হয়তো আরো ভালো করবে।’
মুমিনুল জানালেন, পেসারদের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাস ফেরাতেই এবার উইকেটে ভিন্নতা আনার সিদ্ধান্ত হয়। তিনি বলেন, ‘এসব সিদ্ধান্ত তো সাধারণত কোচ এবং আমিই নেই। আমার কাছে মনে হয়, যখন এমন দেখবে তখন পেসাররা আত্মবিশ্বাসী হবেন। এখন কিন্তু আপনারাও জানেন, আমিও জানি যে জাতীয় লিগ, বিসিএল যা খেলা হয় সেখানে এমন উইকেট করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এটা জাতীয় দলে ভালো প্রভাব পড়বে। এভাবেই কিন্তু আমাদের স্পিন নির্ভরতা চলে এসেছে। নিয়মিত এখন স্পোর্টিং উইকেটে খেললে পেসারদের ওপরও সেই প্রভাব থাকবেই।’
ভবিষ্যতেও কি টেস্টে এমন উইকেট চান? — প্রশ্নের জবাবে মুমিনুল বলেন, ‘অবশ্যই চাই। যখন সবকিছু ভালো যাবে তখন তো মনে হবেই যে, পরিকল্পনামাফিক ঠিকঠাক ভাবেই এগোচ্ছি আমরা।’
সাহসী এই সিদ্ধান্তে জিম্বাবুয়েকে ইনিংস ও ১০৫ রানের ব্যবধানে হারিয়েছে বাংলাদেশ। সাম্প্রতিক সময়ে টেস্টে বাংলাদেশের যাচ্ছেতাই পারফরম্যান্সের ভিড়ে আত্মবিশ্বাস হয়ে এসেছে এই জয়। অধিনায়ক মুমিনুল মনে করছেন, এই জয় পাকিস্তানের মাটিতে আত্মবিশ্বাস যোগাবে সফরকারীদের। একই সঙ্গে তিনি অধিনায়ক হিসেবে আগের তিনটি বড়ো পরাজয় থেকেও শিক্ষা নিচ্ছেন।
তিনি বলেন, ‘যেকোনো জয়ই একটা আত্মবিশ্বাস। অবশ্যই এই জয় কাজে লাগবে পাকিস্তানে। পাকিস্তান সিরিজে ক্রিকেটাররা কেমন কি করে, সেটার দেখার অপেক্ষায় আছি আমি। আজকের দিনটি তো চলে গেছে, সেটা তো আর আসবে না। এর আগে যে তিনটি ম্যাচ হেরেছি (অধিনায়ক হিসেবে) সেখান থেকে আমি কি শিক্ষা নিতে পেরেছি অধিনায়ক এবং ক্রিকেটার হিসেবে সেটাই গুরুত্বপূর্ণ।’
এবার সেই শিক্ষাটা কাজে লাগাতে পারলেই অধিনায়ক হিসেবে লেটার মার্ক পেয়ে পাশ করে যাবেন মুমিনুল। আর সেটা হলে ‘কাভারেজ’-এর জন্য হাহাকারও ঘুচে যাবে তার!
