শান্তিনগরে গোল্ডেন এরা কিডস্ স্কুলে মহান একুশে পালন

আপডেট : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৮:৫২

বর্ণিল বর্ণ ও ফেস্টুন হাতে ছোট ছোট শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের অংশগ্রহণে শান্তিনগরস্থ গোল্ডেন এরা কিডস্ স্কুল প্রতি বছরের ন্যায় আয়োজন করে মহান একুশের প্রভাতফেরি। ফেস্টুনে তাদের পাঁচ দফা দাবিও ছিল।

দাবিগুলো হলো—১. সর্বস্তরে বাংলা সন ও তারিখের প্রচলন চাই।

২. ভাষার অপব্যবহার রোধ চাই।

৩. জাতিসংঘের দাপ্তরিক ভাষা বাংলা চাই।

৪. ভাষা সৈনিকদের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা চাই।

৫. ভাষা আন্দোলনের স্মরণীয় সকল স্থানের সংরক্ষণ চাই।

প্রভাতফেরি শেষে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শহিদদের স্মৃতির উদ্দেশে শহিদ মিনারে ফুল দেয় এবং অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা তাদের তৈরিকৃত বর্ণ দিয়ে একটি বর্ণমালা গাছ তৈরি করে।

২১ ফেব্রুয়ারি ২০২০ সকাল ৮.৩০ মিনিটে শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদ্যাপন উপলক্ষে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে বরিশাল, চট্টগ্রাম ও ভারত থেকে যোগ দেন কবি ও সাহিত্যিকগণ।

সকাল ৯.০০টায় শহিদের স্মরণে দোয়ার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয় । দোয়া পরিচালনা করেন মাওলানা মো. হাছানুজ্জামান।  আলোচনা সভার পর একুশের অমর সংগীতের মধ্য দিয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শুরু হয়। ছোট ছোট শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে একুশের গান, নাচ, ছড়া ও কবিতার নান্দনিক উপস্থাপনা উপস্থিত অতিথিদের মুগ্ধ করে। আগত অতিথিরা বিদ্যালয় পাঠাগারে বই উপহার দেন।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ভাষাসৈনিক মো. মোস্তাফিজুর রহমান , জাতিসংঘের দাপ্তরিক ভাষা বাংলা সন তারিখ ব্যবহার করার প্রস্তাবক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডা. ফয়েজ আহমেদ; কবি সৈয়দ নাজমুল আহসান; ডা. এম.এ. মুক্তাদীর, ভাষা আন্দোলন স্মৃতিরক্ষা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক; সোহেল মো. ফখরুদ্দীন, গবেষক ও সম্পাদক, চট্টগ্রাম; রিফাত আমীন, প্রাকৃতধারা প্রধান সমন্বয়কারী ও আবৃত্তিকার; কবি দীনেশ মণ্ডল, বরিশাল; কবি মাসুম আহমেদ রানা, বরিশাল; কবি শ্রী তারক নাথ দত্ত এবং বিদ্যালয়ের সভাপতি রাসেল আহমেদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডা. ফয়েজ আহমেদ।

অনুষ্ঠানটির পরিকল্পনায় ছিলেন বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ সালমা আহমেদ হীরা। সার্বিক তত্ত্বাবধানে ও বর্ণ, ফেস্টুন, আলপনা অলঙ্করণে ছিলেন সকল শিক্ষকবৃন্দ এবং মঞ্চসজ্জায় ছিলেন বিদ্যালয়ের অঙ্কন শিক্ষক অজিত কুমার সরকার। সংগীত পরিচালনায় ছিলেন বিদ্যালয়ের সংগীত শিক্ষক ডেইজী আহমেদ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন শিক্ষক ফারজানা আক্তার ।

আলোচনা সভায় অতিথিবৃন্দ তাদের বক্তব্যে ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরার পাশাপাশি ছাত্রদের বাঙালি চেতনায় ও দেশপ্রেমে উদ্বু্দ্ধ উদ্বুদ্ধ করার তাগিদে জাতীয় দিবসগুলো পালনের এই যে প্রয়াস তার প্রশংসা করেন।

বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ সালমা আহমেদ হীরা তার বক্তব্যে ২১ ফেব্রুয়ারি ও ৮ ফাল্গুন একই তারিখে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকার এবং সেইসঙ্গে বাংলা একাডেমিকে ধন্যবাদ জানান।