করোনার অব্যাহত হুমকি

আপডেট : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২১:২৬

যেই করোনা ভাইরাসের উত্পত্তি হইয়াছিল চীনের হুবেই প্রদেশের রাজধানী ইউহানে, তাহা আজ সারা বিশ্বের জন্য হুমকি হইয়া দাঁড়াইয়াছে। বলা যায়, পৃথিবী থমকাইয়া যাওয়ার মতো পরিস্থিতির সম্মুখীন হইয়াছে। শুধু মানুষের স্বাস্থ্য তথা মৃত্যুঝুঁকিই নহে, বিশ্ব অর্থনীতিকে রীতিমতো স্তব্ধ করিয়া তুলিয়াছে। এক দেশ হইতে আরেক দেশের বাণিজ্য বন্ধ হইয়া পড়িতেছে, এক দেশ হইতে আরেক দেশের সীমানা বন্ধ করিয়া দেওয়া হইতেছে।  ডিসেম্বরের শেষে ইউয়ানে প্রথম করোনা শনাক্ত হওয়ার পর ৪১ জন সংক্রমিত রোগীকে ভর্তি করা হয় হাসপাতালে। যেই মার্কেট হইতে ভাইরাস  ছড়াইতে শুরু করে তাহা ১ জানুয়ারি বন্ধ করিয়া দেওয়া হয়। কিন্তু শত চেষ্টা করিয়াও জনবহুল এবং বড়ো অর্থনীতির দেশ চীন এই ভাইরাস ছড়াইয়া পড়া ঠেকাইতে পারে নাই। সর্বাধিক সংক্রমণ চীনে হইলেও এখন পর্যন্ত বিশ্বের ৪০টি দেশে এই রোগের সংক্রমণ পাওয়া গিয়াছে। উন্নত ইউরোপের ১১টি দেশের মধ্যে সর্বাধিক আক্রান্তের সংখ্যা ইতালিতে। ৪০০ আক্রান্তের মধ্যে ১২ জন প্রাণ হারাইয়াছে। চীনের প্রতিবেশী দক্ষিণ কোরিয়ায় এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৭০০ আক্রান্ত, ইরানেও করোনার প্রাদুর্ভাবে এখন পর্যন্ত ১৯ জন প্রাণ হারাইয়াছে। সর্বশেষ খবর অনুযায়ী আলজেরিয়া, পাকিস্তান এমনকি সুদূর ব্রাজিলেও সংক্রমণের একাধিক রোগী শনাক্ত হইয়াছে। পাকিস্তান ইরানের সঙ্গে সীমান্ত বন্ধ করিয়া দিয়াছে। এখন পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী ৮৪ হাজার রোগী শনাক্ত হইয়াছে এবং ২ হাজার ৮০০ মানুষ মৃত্যুবরণ করিয়াছে।

এই রকম পরিস্থিতিতে কোনো দেশেরই আর হাত গুটাইয়া বসিয়া থাকিবার উপায় নাই। চীন, ইতালি, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান ও উত্তর কোরিয়া এবং ইরানের বহু শহরের মানুষ ঘর হইতে বাহির হইতেছে না সংক্রমণের ভয়ে। বহু দেশের সরকার বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া জনগণকে ঘরের বাহির না হইতে পরামর্শ দিয়াছে। সৌদি আরব বিদেশিদের হজ পালনে সেদেশে প্রবেশ নিষিদ্ধ করিয়াছে। এদিকে অস্ট্রেলিয়া চীন হইতে দেশটিতে প্রবেশে বিধিনিষেধ আরোপ করিয়াছে। একদিকে আকাশপথে ভ্রমণ ও বাণিজ্য আশঙ্কাজনকভাবে কমিয়া গিয়াছে, অন্যদিকে সমুদ্রপথে সরবরাহ চেইনে ব্যাপক প্রভাব পড়িয়াছে। শুধু চীনের স্টেট শিপবিল্ডিং করপোরেশনেই ৩০ লক্ষ শ্রমিক কাজ করিয়া থাকেন। তাহাদের এখন হাত গুটাইয়া বসিয়া থাকা ছাড়া গতি নাই। সি-ইন্টেলিজেন্স ডাটা প্রোভাইডার জানাইয়াছে, গ্লোবাল ট্রেড নেটওয়ার্ক হইতে ৩ লক্ষ ৫০ হাজার কনটেইনার সরাইয়া লওয়া হইয়াছে। কনটেইনার শিপিং কমিয়া যাওয়ায় প্রতি সপ্তাহে ৩৫০ মিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য ঘাটতি তৈরি হইতেছে। স্থলপথে এক দেশ হইতে আরেক দেশে পণ্য পরিবহন আশঙ্কাজনকভাবে কমিয়া গিয়াছে।

ইহা এখন পর্যন্ত সর্বশেষ পরিস্থিতি। এই পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ আকার ধারণ করিতে পারে বলিয়া  বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা আশঙ্কা করিতেছে। এই রকম একটি পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য ও বাণিজ্য উভয় ক্ষেত্রেই আমাদের সরকারের ঠাণ্ডা মাথায় যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রস্তুতি রাখিতে হইবে। ইতিমধ্যে করোনা ভাইরাসের আঘাতে বিশ্ব অর্থনীতিতে যে ক্ষত সৃষ্টি হইয়াছে, তাহা শুকাইতে বেশ সময় প্রয়োজন হইবে। সেই ভবিষ্যত্ পরিস্থিতিও যেন আমাদের বিবেচনায় থাকে।