স্পোর্টস রিপোর্টার
এই দক্ষিণ আফ্রিকা সফর থেকেই বল টেম্পারিং কাণ্ডে নিষিদ্ধ হয়েছিলেন স্টিভেন স্মিথ ও ডেভিড ওয়ার্নার। সেই দক্ষিণ আফ্রিকাতে ফিরে আবারও স্বরূপ দেখালেন; ব্যাটে ঝড় তুললেন দুই জন। সঙ্গে দুরন্ত ফর্মে ছিলেন অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চও। আর সবমিলিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকাকে তাদের মাটিতে টি-টোয়েন্টি সিরিজ হারালো অস্ট্রেলিয়া। এই সিরিজ জয় নিশ্চিত করার পর অধিনায়ক ও ম্যান অব দ্য সিরিজ অ্যারন ফিঞ্চ বলছিলেন, এই জয় দলের সকলের কৃত্বিতের ফল। আর ম্যাচ সেরা মিশেল স্টার্ক বলেছেন, এই কৃতিত্ব সব বোলারের প্রাপ্য।
তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টিতে ৯৭ রানে জিতে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ ঘরে তুলেছে ফিঞ্চের দল। ১৯৩ রান তাড়ায় ১৫ ওভার ৩ বলে ৯৬ রানে গুটিয়ে গেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। জোহানেসবার্গে হওয়া প্রথম ম্যাচের মতোই এই ম্যাচেও ঝড় তুলে অস্ট্রেলিয়ার বড়ো রান করে। রান তাড়ায় তালগোল পাকিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার বড়ো পরাজয় দেখে। কেপ টাউনে বুধবার টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ওয়ার্নার ও ফিঞ্চের ব্যাটে উড়ন্ত সূচনা পায় অস্ট্রেলিয়া। প্রথম ১১ ওভারে সফরকারীরা ডট বল খেলে কেবল ১২টি। প্রথম ১০ ওভারে দুই ওপেনার তোলেন ১১৪ রান। ওয়ার্নারের বিদায়ে ভাঙে জুটি। আনরিক নরকিয়ার বলে দুর্দান্ত এক ক্যাচ নেন ডেভিড মিলার। ৩৭ বলে খেলা ওয়ার্নারের ৫৭ রানের ইনিংস সাজানো দুই ছক্কা ও পাঁচ চারে। এরপর বেশিক্ষণ টিকেননি ফিঞ্চ। ২৭ বলে পঞ্চাশ করার পর থেকে রানের জন্য ভুগছিলেন। শেষ পর্যন্ত ৩৭ বলে ছয় চার ও এক ছক্কায় ৫৫ রান করে তাবরাইজ শামসির বলে ফিরেন এলবিডব্লিউ হয়ে। ৬৯ বলে গড়া ১২০ রানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙার পর আর কোনো জুটি গড়তে পারেনি অস্ট্রেলিয়া। তবে দুই ছক্কায় ১৫ বলে ৩০ রানের ঝড়ো ইনিংসে দলকে ২০০ রানের কাছে নিয়ে যান স্মিথ। রান তাড়ায় প্রথম ওভারেই বড়ো একটা ধাক্কা খায় দক্ষিণ আফ্রিকা। কুইন্টন ডি কককে দারুণ এক ডেলিভারিতে বোল্ড করে দেন মিচেল স্টার্ক। বাঁহাতি এই পেসার পরের ওভারে বিদায় করেন ফাফ দু প্লেসিকে। জুটি গড়ার আভাস দিয়েই থেমে যান রাসি ফন ডার ডাসেন ও হাইনরিখ ক্লাসেন। দলের বিপদে ত্রাতা হতে পারেননি ডেভিড মিলার। পেসাররা সুরটা বেঁধে দেওয়ার পর বাকিটা সহজেই সেরেছেন স্পিনাররা। অ্যাশটন অ্যাগার ও অ্যাডাম জ্যাম্পার স্পিনের জবাব জানা ছিল স্বাগতিকদের। শেষ ৫ উইকেট হারিয়েছে কেবল ৯ রানে। তিনটি করে উইকেট নেন স্টার্ক ও অ্যাগার। শুরুতে বিপজ্জনক ডি কক ও দু প্লেসিকে ফিরিয়ে দেওয়া স্টার্ক জেতেন ম্যাচ সেরার পুরস্কার। ধারাবাহিকতার জন্য অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক ফিঞ্চ জেতেন সিরিজ সেরার পুরস্কার।
