আবুল কাসেম ভূঁইয়া
দেশে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে উন্নতজাতের সুমিষ্ট আঙুর উত্পন্ন হচ্ছে। যদিও আগে আঙুর চাষ সম্পর্কে আমাদের দেশের চাষিদের তেমন কোনো ধারণা না থাকায় তারা উন্নতমানের আঙুর উত্পাদন করতে পারত না। আঙুরের উচ্চমূল্য হওয়ায় অনেকেই আঙুরের চাষে এগিয়ে আসছেন। গবেষণা করে দেখা গেছে বাংলাদেশে আঙুরের চাষের উপযোগী মাটি এবং জলবায়ু রয়েছে। ইদানীং দেশের বিভিন্ন স্থানে পরীক্ষামূলকভাবে উন্নতজাতের আঙুরের চাষ হচ্ছে। এতে কৃষকেরা আঙুর চাষে সফলতা অর্জন করতে সক্ষম হচ্ছেন। প্রাপ্ত তথ্য থেকে জানা যায়, বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে প্রতি একর জমিতে ৪৩৬টি আঙুর গাছ লাগানো যায় এবং জাতিতে ভিন্নতায় গড়ে প্রতিগাছে প্রতিবছর ৪ কেজি হিসেবে মোট ১৭৪৪ কেজি আঙুর উত্পাদন করা সম্ভব। হিসেব করে দেখা গেছে কৃষকের বসতভিটার ৯ বর্গমিটার জায়গায় চারটি গাছ লাগিয়ে বছরে সর্বোচ্চ তিনটি ফলনের মাধ্যমে ১৬ কেজি আঙুর উত্পাদন করা সম্ভব।
দেশে সরকারি উদ্যোগে বাণিজ্যিকভাবে আঙুর চাষের উদ্যোগ নেওয়া হয় ১৯৯০ সালের দিকে গাজীপুরের কাশিমপুরের বিএডিসি উদ্যান উন্নয়ন কেন্দ্রে। বর্তমানে আমাদের দেশে তিন প্রজাতির আঙুর উত্পন্ন হচ্ছে। এসব প্রজাতির মধ্যে রয়েছে—জ্যাককাউ, ব্ল্যাকরুরি এবং ব্ল্যাকপার্ল। আঙুর চাষের জন্য জমি এবং মাটি নির্বাচনে দোআঁশযুক্ত লালমাটি, জৈবসার সমৃদ্ধ কাকর জাতীয় মাটি এবং পাহাড়ের পাললিক মাটিতে আঙুরের চাষ ভালো হয়। জমি অবশ্যই উঁচু স্থানে হতে হবে যেখানে পানি দাঁড়িয়ে থাকবে না এবং প্রচুর সূর্য্যের আলো পড়বে এমন জায়গায় আঙুর চাষের জন্য নির্বাচন করতে হবে।
জমি তৈরির পদ্ধতি হলো—ভালোভাবে চাষ দিয়ে মাটি ঝুরঝুরে করে বড়ো আকারের গর্ত করে তাতে ৪০ কেজি গোবর, ৪০০ গ্রাম পটাশ, ৫০০ গ্রাম ফসফেট এবং ১০০ গ্রাম ইউরিয়া গর্তের মাটির সঙ্গে মিশিয়ে ১০-১৫ দিন রেখে দিতে হবে যেন সারগুলো ভালোভাবে মাটির সঙ্গে মিশে যায়। সংগৃহীত চারা গোড়ার মাটির সঙ্গে মিশে যায়। সংগৃহীত চারা গোড়ার মাটির বলসহ গর্তে রোপণ করে একটি কাঠি গেড়ে সোজা হয়ে উঠার সুযোগ করে দিতে হবে এবং হালকা পানি সেচ দিতে হবে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে আঙুর গাছের চারা লাগানোর উপযুক্ত সময় মার্চ-এপ্রিল মাস। আঙুর গাছ যেহেতু লতানো গাছ তাই এর বৃদ্ধির জন্য সময়মতো বাড়তি সার প্রয়োগ করতে হবে। পরিমিত সার এবং উপযুক্ত পরিচর্যার মাধ্যমে একটি আঙুর গাছ ৩০ বছর পর্যন্ত ফলন দিতে পারে।
