দুই দফায় মুশফিকুর রহিমকে ছাড়াই পাকিস্তান সফর করেছে বাংলাদেশ দল। জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে মিরপুর টেস্ট জয়ের পর বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন, এপ্রিলে তৃতীয় দফায় পাকিস্তানের মাটিতে মুশফিককে পাবে বাংলাদেশ। টেস্ট অধিনায়ক মুমিনুল হক সরাসরিই বলেছিলেন, পাকিস্তানের সফরের দলে অভিজ্ঞ এই ব্যাটসম্যানকে চান তিনি। কিন্তু নিজের সিদ্ধান্তে অনড় জাতীয় দলের এই সাবেক অধিনায়ক। পাকিস্তান সফরে যাবেন না তিনি। সম্প্রতি একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাত্কারে আবারও নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন তিনি।
পাকিস্তান যাওয়ার বিষয়ে মুশফিক বলেছেন, ‘পাকিস্তানে যাওয়া বা না যাওয়া নিয়ে আমি যেটা বলেছি পরিষ্কারভাবেই বলেছি। আর তারাও কিন্তু এটা মেনে নিয়েছে। (পাকিস্তান সুপার লিগ ২০২০) পিএসএলেরও একটা অফার ছিল ওখানে আমি নাম দিতে পারব কি পারব না। যেখানে আমি নাম দেইনি আমার মনে হয় যে, তাদেরকে আরো শ্রদ্ধা করা উচিত ছিল। পাকিস্তানের বর্তমান অবস্থা জেনে আমি সেখানে নাম দেইনি।’
এপ্রিলে পাকিস্তানে যারা যাবেন, তাদের প্রতি শুভকামনা জানিয়ে মুশফিক বলেছেন, ‘সব বিষয়গুলো পরিষ্কার এবং আমার মনে হয় যে ভবিষ্যতেও এটার কোনো পরিবর্তন হবে না। যারা পাকিস্তানে যাক আর দলের সঙ্গে যাবে তাদেরকে আমি শুভকামনা জানাই।’
জাতীয় দলের প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নুও বলেছেন, মুশফিককে পাওয়া যাবে না পাকিস্তান সফরে। পাকিস্তানে যাওয়ার বিষয়ে আগের অবস্থানেই আছেন এই অভিজ্ঞ ক্রিকেটার। এ সম্পর্কে নির্বাচকদের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি তার। প্রথম দফায় পাকিস্তানের বিরুদ্ধে টি-২০ সিরিজ খেলেছে বাংলাদেশ। লাহোরে দুটি টি-২০ হেরেছিল সফরকারীরা। পরে রাওয়ালপিন্ডিতে সিরিজের প্রথম টেস্টও বাজেভাবে হেরেছে মুমিনুল বাহিনী। এপ্রিলে করাচিতে একটি ওয়ানডে ও সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট খেলতে যাবে বাংলাদেশ।
জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে মিরপুর টেস্টে ডাবল সেঞ্চুরি করেছিলেন মুশফিক। অপরাজিত ২০৩ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। তখনই গুঞ্জন উঠেছিল এপ্রিলে পাকিস্তানে যেতে পারেন এই ব্যাটসম্যান। মিরপুরে জয়ের পর টেস্ট অধিনায়ক মুমিনুল হকও বলেছিলেন, ‘অবশ্যই আমি মুশফিক ভাইকে চাই।’
বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনও আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেছিলেন, পাকিস্তানে যাবেন মুশফিক। তিনি বলেছেন, ‘আমরা আশা করছি ও যাবে। শুধু সে না, প্রতিটি চুক্তিবদ্ধ খেলোয়াড়ের যাওয়া উচিত। এটা আমরা মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি। দেশের কথাও চিন্তা করতে হবে। সবসময় নিজের কথা চিন্তা করলে হবে না। যেটি আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি। প্রত্যেকের কাছেই নিজের কথা, পরিবারের কথা গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু দেশটা তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’ বোর্ড সভাপতি বা টেস্ট অধিনায়কের আশাবাদ তিমিরে হারিয়েছে। এপ্রিলে এক ওয়ানডে ও সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টেও মুশফিককে পাবে না বাংলাদেশ। সেক্ষেত্রে মিডল অর্ডারে বড়ো একটা ঘাটতি থেকেই যাচ্ছে।
