যমুনার চর কেটে মাটি বিক্রির অভিযোগ

আপডেট : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২২:১১

বর্ষায় ড্রেজার বসিয়ে চলে বালু উত্তোলন আর শুষ্ক মৌসুমে এক্সক্যাভেটর ও কোদাল দিয়ে কাটা হয় মাটি। কয়েক বছর ধরে বগুড়ার ধুনট উপজেলার ভান্ডারবাড়ি ইউনিয়নে যমুনা নদীর বুকে চলছে এমন যজ্ঞ। এক্ষেত্রে প্রশাসনের কোনো অনুমতি বা ইজারাও নেওয়া হয় না।

বালু ও মাটি কেটে মোটা অঙ্কের বাণিজ্য করছেন স্থানীয় এক নেতা। যত্রতত্র ও ইচ্ছামতো মাটি-বালু উত্তোলনের ফলে আগামী বর্ষা মৌসুমে অনেক স্থানে নদী ভাঙনের ঝুঁকি থাকছে। প্রকাশ্যে এসব চললেও নীরব রয়েছে প্রশাসনসহ পরিবেশ অধিদপ্তর ও পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।

যমুনার পানি কমে নদীর পশ্চিম পাশের বিভিন্ন স্থানে চর জেগে উঠেছে। তীর ও বুক কেটে মাটি উত্তোলন শুরু হয়েছে। মাটি কেটে বিক্রি করছে বিভিন্ন ধরনের প্রকল্প, ইটভাটা আর বসতভিটার জন্য। কোথাও এক্সক্যাভেটর দিয়ে, কোথাও শ্রমিক দিয়ে প্রতিদিন শত শত ট্রাক ও ট্রাক্টর মাটি বিক্রি করা হচ্ছে। প্রতি গাড়ি মাটি ৩০০ টাকায় বিক্রি হয়। মাটি কাটার ফলে প্রায় ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ডান তীর সংরক্ষণ প্রকল্প ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। ভান্ডারবাড়ি ও ভুতবাড়ি গ্রামে যমুনা নদীর ভাঙন ঠেকাতে তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের কাজ করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। এখানে নদীর ভাঙন ঠেকাতে পারলে বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধ রক্ষা হবে। এ কারণে ২০১৭ সালে ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ১ হাজার ২০০ মিটার দৈর্ঘ্যের ডান তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের কাজ করা হয়েছে। এই প্রকল্প এলাকা থেকে অবাধে মাটি কাটা হচ্ছে।  স্থানীয় বাসিন্দা লিয়াকত আলী, রফিকুল, জাহাঙ্গীর ও রাজ্জাকুল কবিরসহ অনেক বাসিন্দা অভিযোগ করে বলেন, বর্তমানে শুষ্ক মৌসুম। চর থেকে মাটি কেটে গর্ত করছে। এখন এর কোনো বিরূপ প্রভাব বোঝা যাবে না। তবে বর্ষা মৌসুমে এই চর পানিতে তলিয়ে যাবে। নদীতে প্রবল বেগে স্রোত বইবে। তখন মাটি কাটার এই গর্তে পানি ঘূর্ণাবর্তের সৃষ্টি হয়ে তীর সংরক্ষণ প্রকল্প নদীতে বিলীন হবে। তীর সংরক্ষণ প্রকল্প রক্ষা না হলে বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভাঙনের আশঙ্কা রয়েছে।

বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহকারী প্রকৌশলী আসাদুল হক বলেন, যমুনার চর থেকে এভাবে মাটি কেটে নিলে তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের ক্ষতি হবে। এ কারণে প্রকল্প এলাকা থেকে মাটি কেটে নিতে নিষেধ করা হয়েছে। তারপরও মাটি কেটে থাকলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।